অ্যালেন ঝড়ে রেকর্ডবুক চূর্ণবিচূর্ণ
স্রেফ ৬২ মিনিটের শো। যেখানে নায়ক দেখিয়ে দিলেন চাইলে একাও অনেক কিছু করা যায়। সেই মঞ্চটা যেমনই হোক না কেন কিংবা প্রতিপক্ষ যে কেউই হোক না কেন।
নিজের মনোবল, দৃঢ়চেতা মনোভাব, প্রবল আত্মবিশ্বাস ও বুক ভরা সাহস থাকলে প্রয়োজন হয় না আর কিছুই। ইডেনের ২২ গজে ফিন অ্যালেন দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের কড়া শাসন করে ৩৩ বলে ১০০ রান করে নিউ জিল্যান্ডকে নিয়ে গেছেন ফাইনালে। ৬২ মিনিট ক্রিজে ছিলেন। ১০ চার ও ৮ ছক্কায় স্রেফ এলোমেলো করে দিয়েছেন প্রোটিয়াদের হৃদয়। তার করা সেঞ্চুরিতে প্রথমবার বিশ্বমঞ্চে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছে নিউ জিল্যান্ড।
অ্যালেন ঝড়ে রেকর্ডবুক হয়েছে চূর্ণবিচূর্ণ। সেগুলো এক নজরে দেখে নেওয়া যাক,
৩৩ বল
সেঞ্চুরিতে পৌঁছতে অ্যালেনের প্রয়োজন ছিল ৪ রান। দলের জয়ের জন্য দরকার ১। মার্কো জানসেনের বল লং অফ দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে দলের জয়ের সঙ্গে সেঞ্চুরিও পেয়েছেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। ২০১৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইলের ৪৭ বলের শতক ছিল আগের রেকর্ড। মুম্বাইতে হাঁকিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।
৩৩ বল
নিউ জিল্যান্ডের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডও এটি। ২০২০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাউন্ট মঙ্গানুইতে ৪৬ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন গ্লেন ফিলিপস।
৩
টি-টোয়েন্টিতে নিউ জিল্যান্ডের হয়ে অ্যালেনের এটি তৃতীয় সেঞ্চুরি। এর আগে ৩ সেঞ্চুরি ছিল কলিন মুনরোর।
৩
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তৃতীয় কিউই ক্রিকেটার হিসেবে সেঞ্চুরি পেলেন অ্যালেন। এর আগে ২০১২ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গ্লেন ফিলিপস সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন।
১৮
১০ চার ও ৮ ছক্কা হাঁকিয়েছেন অ্যালেন। যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এক ইনিংসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ বাউন্ডারি। ২০১২ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১২৩ রান করার পথে ১৮টি বাউন্ডারি মেরেছিলেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম।
৮
৮ ছক্কা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নক আউট ম্যাচে এর আগে কোনো ব্যাটসম্যান মারেননি।
৮৮
৮৮ রান অ্যালেন পেয়েছেন বাউন্ডারিতে। ২০১৬ সালে ক্রিস গেইলও ৮৮ রান পেয়েছিলেন বাউন্ডারিতে। গেইল হাঁকিয়েছিলেন ১০ ছক্কা। ম্যাচটি ছিল গ্রুপ পর্বের।
৪
অ্যালেনের ইনিংসে ডট বল ছিল মাত্র ৪টি। মিনিমাম ৩০ বল খেলেছে এমন ৭৬ ইনিংসে সর্বনিম্ন ডট বলের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন অ্যালেন। ২০১৪ সালে বিরাট কোহলি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৪৪ বলে ৭২ রান করার পথে মাত্র ৩টি ডট বল খেলেছিলেন।
১৯
সেঞ্চুরির আগে ১৯ বলে ফিফটিতে পৌঁছান অ্যালেন। যা নিউ জিল্যান্ডের হয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড। এর আগে ২২ বলে কানাডার বিপক্ষে ফিফটি পেয়েছিলেন গ্লেন ফিলিপস।
২০
এই আসরে মোট ২০টি ছক্কা মেরেছেন অ্যালেন। যা এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ। এর আগে হেটমায়ার ১৯ ও শাহিবজাদা ফারহান ১৮ ছক্কা মেরেছেন।
৪৬৩
টিম সেইফার্ট ও ফিন অ্যালেন এবারের আসরে এখন পর্যন্ত ৪৬৩ রান করেছেন। যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ। তারা ছাড়িয়ে গেছেন আফগানিস্তানের ইব্রাহিম জাদরান ও রহমানউল্লাহ গুরবাজকে। দুজন ২০২৪ সালে ৪৪৬ রান করেছিলেন।
১১৭
সেইফার্ট ও অ্যালেন ১১৭ রানের জুটি গড়েছিলেন। নট আউট ম্যাচে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি। ২০২২ সালের সেমিফাইনালে জস বাটলার ও অ্যালেক্স হেলস ১৭০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছিলেন।
৪৩
নিউ জিল্যান্ড অ্যালেনের ঝড়ে ৪৩ বল আগে থাকতে দক্ষিণ আফ্রিকার দেওয়া ১৭০ রানের টার্গেট ছুঁয়ে ফেলে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে ১৫০ এর বেশি রান তাড়া করতে গিয়ে এর আগে এতো বল কখনোই ছিল না।
১
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ১৭ ম্যাচ খেলে প্রথমবার ‘ম্যান অব দা ম্যাচ’ হলেন নিউ জিল্যান্ড ওপেনার।
ঢাকা/ইয়াসিন