চাকসুর অনুসন্ধানে চবির হলে বাড়ল ৩০৩ শূন্য সিট
চবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) হলগুলোতে বর্তমানে শূন্য আসনে প্রশাসনের দেওয়া তথ্যে সিট সংখ্যা ছিল ২৬৯টি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) প্রতিনিধিদের অনুসন্ধানে প্রাপ্ত সিট সংখ্যা ৫৭২টি। এতে সিট বেড়েছে অর্ধেকেরও বেশি।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তথ্যটি জানান, চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক মো. ইসহাক ভূঁঞা। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সিট সর্বাধিক বৃদ্ধি পাওয়া হলের মধ্যে শাহজালাল হলে আগে শূন্য আসন ছিল ১০টি, এখন বেড়ে হয়েছে ১০০টি; আলাওল হলে ছিল ৪০টি, এখন ৫৫টি; ছাত্রীদের বিজয়-২৪ হলে আগে ছিল ১২টি, এখন ৫০টি; আমানত হলে ৩০ থেকে এখন ৪৭টি সিট বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে, মাস্টার দ্য সূর্যসেন হলে আগে যেখানে শূন্য আসনের কোনো তথ্যই ছিল না, সেখানে এখন সিট বেড়েছে ৩৬টি। এছাড়া, শহীদ ফরহাদ হোসেন হলে পূর্বে হলটির এক্সটেনশন হিসেবে ঘোষণা দেওয়া একটি খালি ভবনে এবার আসন যুক্ত করা হয়েছে ৮৮টি।
চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক বলেন, “চবি প্রশাসনের পূর্বেঘোষিত ২৬৯টি সিটের স্থলে এখন ৫৭২টি আসনে অ্যালটমেন্ট পাবে শিক্ষার্থীরা। প্রশাসন ভালোভাবে যাচাই-বাছাই না করেই আবেদন শুরু করলে প্রকাশিত সংখ্যা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। প্রশাসনের সহযোগিতায় চাকসু ও হল সংসদের প্রতিনিধিদের অক্লান্ত পরিশ্রমে একটি রাজনৈতিক দলের পরোক্ষ বাধা থাকা সত্ত্বেও ৩০৩টি আসন বৃদ্ধি পেয়েছে।”
তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই হল প্রশাসন ও সংসদকে সাথে নিয়ে আমরা চাকসুর প্রতিনিধিরা চেকিং করি। সিটের সঠিক সংখ্যা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গাফিলতি স্পষ্ট। শিক্ষার্থীদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হয় এমন কিছুই মেনে নেবে না চাকসু।”
সর্বাধিক আসন বৃদ্ধি পাওয়া শাহজালাল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ফুয়াদ হাসান বলেন, “এ হলে অনেকগুলো কক্ষ ছিল যেগুলো সংস্কারের আওতায় ছিল। আবার সংরক্ষিত ১০টি সিট চাকসু অন্তর্ভুক্ত করেছে। যেগুলোর তথ্য আমরা পূর্বে দেইনি। এজন্য, এখন সিটের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। তবে প্রশাসন এসব আসনে বরাদ্দ দিলে একটু কষ্ট হলেও শিক্ষার্থীরা থাকতে পারবে।”
তিনি আরো বলেন, “হলের সিট চেকিংয়ে ভিসি স্যার আমাদের হল প্রভোস্ট কমিটিকে চাকসুকে সহযোগিতা করতে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সে অনুযায়ী আমরা চাকসুকে সহযোগিতা করেছি। তাদের এ উদ্যোগকে ইতিবাচকই মনে করছি।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন বরাদ্দ কমিটির আহ্বায়ক ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন বলেন, “হল প্রভোস্টদের পূর্বের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শূন্য সিট সংখ্যা ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে হল প্রশাসন ও চাকসুর চেকিংয়ে এখন সে সংখ্যাটা আরো বেড়েছে। আবার ফরহাদ হলের নতুন এক্সটেনশন যুক্ত করায় এখানে সিট বেড়েছে ৮৮টা। এতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অস্বচ্ছতার কিছুই নেই।”
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতারকে কল দিলে তিনি ব্যস্ততার কথা জানিয়ে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্টদের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
এর আগে, গত ২১ জানুয়ারি বর্তমানে হলগুলোতে ২৭টি শূন্য সিটের তথ্য প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেল। তবে চাকসুর চেকিংয়ের পর রবিবার (২৪ জানুয়ারি) তা বেড়ে হয়েছে ৫৭২টি। এসব শূন্য আসনে আজ থেকে আবেদন করতে পারবে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা। পরে মেরিটের ভিত্তিতে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
ঢাকা/মিজানুর/জান্নাত