ঢাকা     সোমবার   ০২ মার্চ ২০২৬ ||  ফাল্গুন ১৭ ১৪৩২ || ১৩ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

নোবিপ্রবিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সংকট

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৪৫, ২ মার্চ ২০২৬  
নোবিপ্রবিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সংকট

প্রতিষ্ঠার প্রায় দুই দশক পেরিয়ে গেলেও বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখাতে পারেনি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ২০০৬ সালে একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ভর্তি হয়েছেন মাত্র ১২ জন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী। দীর্ঘ সময়ে এই সংখ্যা ১২–তেই সীমাবদ্ধ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক অবস্থান ও বৈশ্বিক সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০০৮-০৯ থেকে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত মোট ১২ জন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হন। তাদের সবাই প্রতিবেশী দেশ নেপাল থেকে আগত এবং সিএসটিই, ফার্মেসি ও কৃষি অনুষদে অধ্যয়ন করেছেন। তবে ২০২২-২৩ থেকে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। বর্তমানে ২০২১-২২ সেশনে কৃষি বিভাগে অধ্যয়নরত একমাত্র বিদেশি শিক্ষার্থী রাবি কুমার ইয়াদব পড়াশোনা শেষ করলে বিশ্ববিদ্যালয়টি বিদেশি শিক্ষার্থীশূন্য হয়ে পড়বে।

আরো পড়ুন:

সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘ সময়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়াতে না পারা উচ্চশিক্ষায় আন্তর্জাতিকীকরণে পিছিয়ে থাকারই ইঙ্গিত দেয়।

কৃষি বিভাগে অধ্যয়নরত রাবি কুমার ইয়াদব বলেন, “নোবিপ্রবির পরিবেশ তার ভালো লাগলেও বিদেশি শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশে আসার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অস্থিরতা বড় প্রতিবন্ধকতা।”

তার মতে, অনেক বিদেশি শিক্ষার্থী বাংলাদেশে মূলত মেডিকেলে পড়তে আসে, কারণ তুলনামূলক কম খরচে এমবিবিএস সম্পন্ন করা যায়; অন্যান্য বিষয়ে আগ্রহ তুলনামূলক কম।

তিনি আরো বলেন, “বাংলাদেশে ভর্তি ফি কম হলেও দৈনন্দিন খরচ কম নয়। পাশাপাশি আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে। যাদের সামর্থ্য বেশি, তারা জাপান বা জার্মানির মতো দেশে চলে যায়।”

বিদেশি শিক্ষার্থীদের অনাগ্রহের কারণ ব্যাখ্যা করে সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও ইন্টারন্যাশনাল কোলাবরেশন অ্যান্ড এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্সের অতিরিক্ত পরিচালক ড. রোকনুজ্জামান সিদ্দিকী বলেন, “বিদেশি শিক্ষার্থীরা সাধারণত ঢাকা বা আশপাশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেয়। নোবিপ্রবিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা আবাসন সুবিধা না থাকাও বড় সীমাবদ্ধতা।”

তিনি বলেন, “এখানে কোনো ইন্টারন্যাশনাল হল নেই। বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যে সুযোগ-সুবিধা আছে, তা আমাদের নেই। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা একটি বড় কারণ।”

তিনি আরো জানান, বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণে নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ জরুরি। দূতাবাসের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচার, বিভিন্ন দেশে সেমিনার আয়োজন এবং সম্ভাব্য দেশ চিহ্নিত করে পরিকল্পিত প্রচারণা চালানো প্রয়োজন। আমাদের ফার্মেসি, মাইক্রোবায়োলজি ও ফিশারিজ বিভাগ অনেক ভালো—এসব বিষয় আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরতে হবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “অনেক দেশ তাদের দূতাবাসের মাধ্যমে নিয়মিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রচার করে। বাংলাদেশকেও সম্ভাব্য দেশ—যেমন পাকিস্তান, আফগানিস্তান বা আফ্রিকার কিছু দেশ—টার্গেট করে কূটনৈতিক পর্যায়ে উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি দীর্ঘসূত্রতা, সেশনজট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মতো বিষয়ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিরুৎসাহিত করে। চার বছরের কোর্স শেষ হতে যদি ছয় বছর লেগে যায়, সেটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, আগে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন ফি ছিল ৪৫ হাজার টাকা, যা কমিয়ে ২০ হাজার টাকায় আনা হয়েছে। এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের আওতায় বিদেশ থেকে শিক্ষক আসছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও বাইরে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তিনি জানান, নতুন প্রকল্পে চারটি হল নির্মাণ করা হয়েছে, যার একটিতে ইন্টারন্যাশনাল ও পিএইচডি ব্লক রাখা হয়েছে। সেগুলো চালু হলে নেপালসহ আশপাশের দেশ থেকে শিক্ষার্থী আসবে বলে আশা করছেন তিনি। তবে তাঁর মতে, সরকারি স্কলারশিপ ছাড়া বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণ করা কঠিন।

ঢাকা/শফিউল্লাহ/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়