ঢাকা     সোমবার   ০৯ মার্চ ২০২৬ ||  ফাল্গুন ২৪ ১৪৩২ || ২০ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়াতে গিয়ে আটক ইমি ও দুই ছাত্রলীগ নেতা

ঢাবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:২০, ৮ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ১৯:৩৬, ৮ মার্চ ২০২৬
ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়াতে গিয়ে আটক ইমি ও দুই ছাত্রলীগ নেতা

রাজধানীর চানখাঁরপুল মোড়ে সাউন্ড বক্সে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ প্রচারের পর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতাকে আটক করে শাহবাগ থানা পুলিশ। ওই আটকের প্রতিবাদে এবং তাকে মুক্তির দাবিতে শাহবাগ থানার সামনে কর্মসূচি দিতে গিয়ে বামপন্থি নেত্রী শেখ তাসনিম আফরোজ ইমিসহ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের দুই নেতাকে পুলিশে সোপর্দ করেছে ঢাবি শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (৭ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত শাহবাগ থানার সামনে এসব ঘটনা ঘটে।

আরো পড়ুন:

৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর অভিযোগে শনিবার বিকেলে রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকা থেকে সাউন্ড সিস্টেমসহ আসিফ আহমেদ নামে একজনকে আটক করে শাহবাগ থানা পুলিশ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আসিফ আহমেদ নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ হল শাখার কর্মসংস্থান সম্পাদক ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় তার জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে তাকে হামলায় অংশ নিতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এছাড়া তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টেও শহীদুল্লাহ্ হল শাখা ছাত্রলীগের পরিচয় উল্লেখ রয়েছে।

ঢামেক এলাকায় চাঁদাবাজির ঘটনার সঙ্গেও তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে প্রকাশিত কয়েকটি সংবাদে ওই ঘটনার সঙ্গে তার নাম ও ছবি পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে ডিএমপি রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলম গণমাধ্যমে বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি আটক ব্যক্তি ছাত্রলীগের পোস্টধারী নেতা। ছাত্রলীগ যেহেতু নিষিদ্ধ এবং জুলাই আন্দোলনে তাদের বিতর্কিত ভূমিকার কিছু তথ্যও পাওয়া গেছে, তাই তাকে এখনই ছাড়া হচ্ছে না। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে আসিফ আহমেদের মুক্তির দাবিতে শাহবাগ থানার সামনে কর্মসূচি দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল সংসদের সাবেক ভিপি ও ডাকসু নির্বাচন ২০২৫–এ বামপন্থি ছাত্রসংগঠনসমূহের প্যানেল ‘প্রতিরোধ পর্ষদের ভিপি পদপ্রার্থী শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি।

এ সময় যে রিকশায় মাইকে ভাষণ প্রচার করা হচ্ছিল সেখানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখার সহ-সম্পাদক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং জগন্নাথ হল শাখা ছাত্রলীগের উপ-বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক স্বপন রায় উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচি ঘোষণার আগে ইমি তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলেন, “সোয়া নয়টার মধ্যে শাহবাগ থানার সামনে থাকতেছি। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজানো হবে। কার কোন বাপ কতজনকে আটকাইতে পারে দেখে নেওয়া হবে। মুক্তিযুদ্ধপন্থি সবাইকে আসার অনুরোধ জানাই।”

এর আগে আরেকটি পোস্টে তিনি লেখেন, “চানখারপুল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে, তাকে না ছাড়া পর্যন্ত প্রতিদিন ক্যাম্পাসে ৭ মার্চের ভাষণ বাজাতে চাই। কে কে সঙ্গে থাকবেন?”

রাত সাড়ে ৯টার দিকে কর্মসূচি শুরু হলে ইমিসহ কয়েকজন শাহবাগ থানার সামনে স্পিকারে ৭ মার্চের ভাষণ বাজাতে শুরু করেন। এ সময় ছাত্রলীগের আরো কয়েকজন নেতাকর্মীকেও আশপাশে অবস্থান করতে দেখা যায়।সেখানে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সদস্য আরিফ মনেয়ার মাহিনকেও উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। তার বিরুদ্ধেও ১৫ জুলাই ঢাবির শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় লাঠি হাতে অংশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

কর্মসূচি চলাকালে রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাহবাগ থানার দিক থেকে একদল লোক এসে মাইক ভাঙচুর করে এবং ব্যাটারি নিয়ে যায়। এ সময় তাদের বলতে শোনা যায়, ‘আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসরদের ছাড় দেওয়া হবে না।’
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের অভিযোগ, এ সময় হট্টগোলের মধ্যে কয়েকজন সাংবাদিকের ওপরও হামলার চেষ্টা করা হয়।

এ ঘটনার পর ইমি তার ফেসবুকে লিখেন, “বিনা উস্কানিতে আমাদের ওপর হামলা করেছে রাজাকারের বাচ্চারা। মাইকের ব্যাটারি ছিনতাই করে নিয়ে গেছে। মাইকও নিতে চেয়েছিল, আমরা বাধা দিয়েছি। এত ভয়, এত ইনসিকিউরিটি! কেউ না কেউ ঠিকই দাঁড়িয়ে যাবে। দাবিয়ে রাখতে পারবে না।”

পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতাকর্মী আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগবিরোধী স্লোগান দিতে দিতে শাহবাগ থানার সামনে আসেন।

রাত ১১টার দিকে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের ও সাহিত্য সম্পাদক মোসাদ্দেকসহ ছাত্রশক্তির নেতারা মাইকটি থানার ভেতরে নেওয়ার চেষ্টা করলে সেখানে আবার ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।

এক পর্যায়ে উপস্থিত একদল ব্যক্তি ছাত্রলীগের নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুনকে টেনেহিঁচড়ে শাহবাগ থানার ভেতরে নিয়ে গিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

থানার সামনে মাইক বাজানোর বিষয়ে ডিসি মাসুদ আলম বলেন, “শাহবাগ থানার সামনে এসে মাইক বাজানোটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিষয়ে তিনি বলেন, “তাৎক্ষণিকভাবে আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি।”

এদিকে ৭ মার্চের ভাষণকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের চেষ্টা হচ্ছে বলে উল্লেখ করে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের গণমাধ্যমকে বলেন, “৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে আমাদের কোনো বিদ্বেষ নেই। আমাদের আপত্তি সেখানে, যেখানে এই ভাষণ কিংবা মুক্তিযুদ্ধকে ঢাল বানিয়ে আড়াল থেকে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হয়।”

তিনি বলেন, “যাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত একজন অভিযুক্ত। তাকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যেই ৭ মার্চের ভাষণকে একটি রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।”

ঢাকা/সৌরভ/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়