ইবিতে হঠাৎ হল ছাড়ার নির্দেশ, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
ইবি সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি নির্দেশনা অনুসারে সোমবার (৯ মার্চ) থেকে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন। এ সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা ১১টার মধ্যে আবাসিক হল ছাড়তে বলা হয়েছে শিক্ষার্থীদের। হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
পূর্বঘোষিত ইফতার মাহফিল নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে, এমনটাই জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এ বিষয়ে প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি ও খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. জালাল উদ্দীন বলেন, “সরকারি প্রজ্ঞাপন দেখার পর প্রভোস্ট কাউন্সিলের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে আগামীকালের ইফতার মাহফিল আয়োজন করা হবে এবং পরদিন (মঙ্গলবার) বেলা ১১টার মধ্যে আবাসিক হল বন্ধ করে দেওয়া হবে।”
এদিকে আবাসিক হল বন্ধের সিদ্ধান্ত ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন শিক্ষার্থীরা।
এক শিক্ষার্থী ফেসবুকে মন্তব্য করেন, “হঠাৎ এ সিদ্ধান্ত কেন? অনেকেই ১৫ তারিখের টিকিট কেটেছে, তারা কী করবে? আবার অনেক চাকরিপ্রার্থী আছেন যাদের ঈদের পরপরই পরীক্ষা রয়েছে। তারা ঈদের ১২ দিন আগে বাড়ি গিয়ে কী করবে? এত আগে হল বন্ধ করার কোনো মানে হয় না। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ হতে পারে, কিন্তু হল যেন বন্ধ না করা হয়।”
শিক্ষার্থী রাহাত আব্দুল্লাহ এক পোস্টে লেখেন, “শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এই হঠকারী সিদ্ধান্ত দ্রুত প্রত্যাহার করতে হবে। হলে অনেকেই একাডেমিক পড়াশোনা, চাকরির প্রস্তুতি কিংবা টিউশনের কারণে অবস্থান করছে। অনেকে সে অনুযায়ী ১৫ বা ১৬ মার্চ বাড়ি ফেরার টিকিট কেটেছে। হল বন্ধ হলে এর ক্ষতিপূরণ কে দেবে? হঠাৎ করে বাড়ি ফিরতে গেলে নানা জটিলতা তৈরি হবে। অনতিবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীদের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। অন্যথায় শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি যৌক্তিক উপায়ে আদায় করে নেবে।”
শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এস এম সুইট ফেসবুকে লেখেন, সরকারি প্রজ্ঞাপনে কোথাও আবাসিক হল বন্ধের কথা বলা হয়নি। তিনি বলেন, “বর্তমানে যারা হলে অবস্থান করছে তাদের অনেকেই চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্লাস, পরীক্ষা বা অফিস বন্ধ করতে পারে, কিন্তু কোনোভাবেই আবাসিক হল বন্ধ করা উচিত নয়।”
শাখা ছাত্রশিবিরের কর্মী জাকারিয়া এক পোস্টে লেখেন, “দীর্ঘ সময় হল বন্ধের অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত থেকে প্রশাসন সরে না এলে আন্দোলন শুধু রোদে দাঁড়িয়ে হবে না, তা প্রশাসনের কক্ষেও গড়াবে।”
ছাত্র ইউনিয়ন ইবি সংসদের সভাপতি নুর আলমও এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। ক্যাম্পাস বন্ধ মানেই আবাসিক হল বন্ধ করতে হবে, এর কোনো যৌক্তিকতা নেই। অবিলম্বে প্রশাসনকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে আবাসিক হলগুলো খোলা রাখার দাবি জানাচ্ছি।”
এদিকে জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ার এক সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “ক্যাম্পাস বন্ধ থাকলে অনেক শিক্ষার্থী এ সময় একাডেমিক ও চাকরির পড়াশোনায় মনোযোগ দেন। তাই আবাসিক হল বন্ধের বিষয়ে প্রশাসন শিক্ষার্থীদের কল্যাণ বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলেই আশা করি।”
ঢাকা/তানিম/জান্নাত