ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০২ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ১৯ ১৪৩২ || ১৩ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

জবিতে ছাদ ধসে দুই শিক্ষার্থী আহত

জবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৪৬, ২ এপ্রিল ২০২৬  
জবিতে ছাদ ধসে দুই শিক্ষার্থী আহত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) গণিত বিভাগের সেমিনার কক্ষে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের দুই শিক্ষার্থী মো. তানফির নিয়াজ ফাহিম ও মো. মাহফুজুর রহমান মিতুল গুরুতর আহত হয়েছেন।

বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে বাসায় পাঠানো হয়েছে।
সকালে সেমিনার কক্ষে অবস্থান করছিলেন ওই দুই শিক্ষার্থী। এ সময় হঠাৎ ছাদের প্লাস্টার খসে তাদের ওপর পড়ে। এতে একজনের মাথায় এবং অন্যজনের পিঠে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে দ্রুত তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়।

আরো পড়ুন:

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো নিয়ে প্রশাসনের নীরবতা ও অবহেলার অভিযোগ তুলে তীব্র সমালোচনা করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) নেতারা।

জকসুর এজিএস মাসুদ রানা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জবি ক্যাম্পাসের অধিকাংশ ভবন দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কিছু ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। প্রশাসন বিষয়টি দেখেও যেন না দেখার ভান করছে।”

তিনি আরো বলেন, “গতবার ভূমিকম্পের সময় বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করা হলেও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর সংস্কারে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত অনিরাপদ পরিবেশে ক্লাস করছে। আর কতজন ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রশাসনের নজর পড়বে?”

অন্যদিকে, জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ জানান, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে বাসায় পাঠানো হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ ভবনই ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা আগেও বলেছি, এখনো বলছি এসব ভবন সংস্কার করা জরুরি। নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়তে প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

তবে, প্রশাসনের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী। তিনি বলেন, “অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে কাজ শুরুর সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছে এবং বড় বাজেটের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের মাধ্যমে সরকারের কাছে আবেদন প্রক্রিয়াধীন।”

তিনি জানান, দুর্ঘটনাকবলিত কক্ষটির বিপরীত পাশ ও দক্ষিণ পাশের তিনটি কক্ষের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে, পাশাপাশি আরও কিছু কাজ চলমান রয়েছে।

ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার আগে কেন ঝুঁকি শনাক্ত করা যায়নি, এমন প্রশ্নে তিনি কক্ষের ফলস সিলিং বা প্লাস্টিকের ছাদকেই দায়ী করেন। তার ভাষ্য, এই সিলিং থাকায় মূল ছাদের ফাটল বা ক্ষয় আগে থেকে চোখে পড়েনি।

বর্তমান পদক্ষেপ হিসেবে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে সব ফলস সিলিং অপসারণ করা হচ্ছে, যাতে ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো সহজে শনাক্ত করা যায় এবং প্রয়োজনে সেগুলো ব্যবহার অনুপযোগী ঘোষণা করা যায়। এছাড়া, পুরো বিজ্ঞান ভবনের নকশা ও হিসাব-নিকাশ সম্পন্ন হয়েছে; অর্থের ব্যবস্থা হলেই পূর্ণাঙ্গ সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক নাসির উদ্দীন বলেন, “উপাচার্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং আগামীকাল থেকে ওই স্থানে সকলের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। এ সমস্যার সাময়িক নয়, স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। একই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

ঢাকা/লিমন/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়