এশিয়ার সেরা দশে বাকৃবির গবেষণা জার্নাল
বাকৃবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) থেকে প্রকাশিত গবেষণা সাময়িকী ‘জার্নাল অব অ্যাডভান্সড ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল রিসার্চ (জাভার)’। সিমাগো জার্নাল র্যাঙ্ক-২০২৫ অনুযায়ী, স্কোপাসভুক্ত বাংলাদেশের সব গবেষণা সাময়িকীর মধ্যে প্রথম স্থান অর্জনের পাশাপাশি ভেটেরিনারি সায়েন্স বিষয়ে এশিয়ার সেরা দশেও জায়গা করে নিয়েছে জার্নালটি।
আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন এক মাইলফলক অর্জন করেছে বাংলাদেশের গবেষণা সাময়িকী ‘জার্নাল অব অ্যাডভান্সড ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল রিসার্চ (জাভার)’। সম্প্রতি স্পেনভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান মূল্যায়নকারী সংস্থা সিমাগো ইনস্টিটিউশনস র্যাঙ্কিংস প্রকাশিত ‘সিমাগো জার্নাল র্যাঙ্ক-২০২৫’-এ স্কোপাসভুক্ত বাংলাদেশের সব গবেষণা সাময়িকীর মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) থেকে প্রকাশিত এই জার্নাল। একইসঙ্গে, ভেটেরিনারি সায়েন্স বিষয়ে এশিয়ার মধ্যে দশম স্থান লাভ করেছে ‘জাভার’।
বুধবার (১৭ জুন) সকালে বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদের মেডিসিন কনফারেন্স হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন জার্নালটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক এবং মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক কে. এইচ. এম. নাজমুল হুসাইন নাজির।
তিনি বলেন, “বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রকাশিত ১৪টি গবেষণা সাময়িকী স্কোপাস ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে ‘জাভার’। ভেটেরিনারি বিজ্ঞান বিষয়ে এশিয়ার ৪৪টি সাময়িকীর মধ্যে দশম স্থান অর্জনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক গবেষণা অঙ্গনেও নতুন মর্যাদা অর্জন করেছে এটি।”
অধ্যাপক নাজির জানান, বাকৃবির মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগ থেকে পরিচালিত এবং নেটওয়ার্ক ফর দ্য ভেটেরিনারিয়ানস অব বাংলাদেশ (বিডিভেটনেট) কর্তৃক প্রকাশিত ‘জাভার’ বর্তমানে বাংলাদেশের একমাত্র ‘কিউ-২’ জার্নাল। তিনি বলেন, “আর মাত্র দুটি জার্নালকে অতিক্রম করতে পারলে আমরা ‘কিউ-১’ শ্রেণিতে উন্নীত হতে পারব। কাজটি কঠিন, তবে আমরা সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি।”
তিনি আরো বলেন, “শুধু এশিয়াতেই নয়, বৈশ্বিক পর্যায়েও উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করেছে ‘জাভার’। সিমাগো জার্নাল র্যাঙ্ক-২০২৫ অনুযায়ী, বিশ্বের ২০৪টি ভেটেরিনারি বিজ্ঞান সাময়িকীর মধ্যে এর অবস্থান ৫৪ তম। বর্তমানে জার্নালটির এসজেআর স্কোর ০.৪৬২, উদ্ধৃতিভিত্তিক স্কোর ৩.০ এবং মানসূচক শ্রেণিতে এটি ‘কিউ-২’ পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া, এর এইচ-ইনডেক্স ২৯, ইমপ্যাক্ট সূচক ১.৫ এবং পাঁচ বছরের গড় ইমপ্যাক্ট সূচক ১.৯।
ড. নাজির জানান, প্রাণিসম্পদ, ভেটেরিনারি চিকিৎসা, প্রাণিস্বাস্থ্য, জনস্বাস্থ্য ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা প্রবন্ধ নিয়মিত প্রকাশ করে আসছে ‘জাভার’। ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করা জার্নালটি প্রতি বছর মার্চ, জুন, সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বর—এই চারটি সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। প্রতিষ্ঠার চার বছরের মাথায়, ২০১৮ সালে এটি প্রথমবারের মতো স্কোপাসে অন্তর্ভুক্ত হয়।
এ পর্যন্ত জার্নালটিতে ১ হাজার ৭০টি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে, যার সবগুলোই স্কোপাস ইনডেক্সভুক্ত। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, থাইল্যান্ড, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, মালয়েশিয়া ও চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশের জন্য ‘জাভার’-এ জমা পড়ছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. বাহানুর রহমান, প্যাথলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. মকবুল হোসেন, সার্জারি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. রফিকুল আলমসহ অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক এবং জার্নালের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জার্নালের সম্পাদক প্যানেলের সদস্য অধ্যাপক মোছা. মিনারা খাতুন বলেন, “এসব সূচক কোনো সাময়িকীর বৈজ্ঞানিক মান, গ্রহণযোগ্যতা এবং আন্তর্জাতিক প্রভাব মূল্যায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড। তার মতে, গবেষণার নতুনত্ব, কঠোর পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া, মানসম্মত সম্পাদকীয় ব্যবস্থাপনা এবং প্রকাশনার গুণগত মান নিশ্চিত করার কারণেই অল্প সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে ‘জাভার’।”
মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক মো. গোলজার হোসেন বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ায় স্কোপাসভুক্ত জার্নালের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ভারতে। তবে বাংলাদেশের ১৪টি স্কোপাসভুক্ত জার্নালের মধ্যে ‘জাভার’ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এটি বাকৃবির আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিং উন্নয়নেও ভূমিকা রাখছে এবং দেশের গবেষণা, উদ্ভাবন ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশে অবদান রাখছে।”
ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. বাহানুর রহমান বলেন, “এটি শুধু একটি গবেষণা সাময়িকীর সাফল্য নয়, বরং বাংলাদেশের ভেটেরিনারি ও প্রাণিসম্পদবিষয়ক গবেষণার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রতীক। এই জার্নালে দেশীয় গবেষণার তুলনায় আন্তর্জাতিক গবেষণাপত্রের সংখ্যাই বেশি, যা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। আমরা আশা করছি, খুব শিগগিরই ‘কিউ-২’ থেকে ‘কিউ-১’ শ্রেণিতে উন্নীত হতে পারব।”
তিনি আরো বলেন, “এই সাফল্যের পেছনে দেশ-বিদেশের সম্পাদকমণ্ডলী, পর্যালোচক, লেখক, পাঠক এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সম্মিলিত অবদান রয়েছে। ভবিষ্যতেও আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা প্রকাশ, উন্মুক্ত জ্ঞানচর্চা এবং বৈশ্বিক গবেষণা সহযোগিতা সম্প্রসারণে ‘জাভার’ অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবে।”
ঢাকা/লিখন/জান্নাত
প্রথম টি–টুয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪ উইকেটে হারল বাংলাদেশ