বিকাশ পেমেন্টে বাড়তি স্বাচ্ছন্দ্য ঈদের কেনাকাটায়
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম
ঢাকার বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা শরীফ আহমেদ। দৈনন্দিন জীবনে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন ডিজিটাল পেমেন্টে। উৎসবের এই সময়টাতেও নিজের এবং পুরো পরিবারের সদস্যদের কেনাকাটা করছেন বিকাশ পেমেন্টে। সবার পছন্দের জামা, জুতো অনলাইনে কিংবা মার্কেটে গিয়ে কিনে পেমেন্ট করছেন বিকাশে, সঙ্গে পাচ্ছেন ক্যাশব্যাকসহ নানান ধরনের ডিসকাউন্ট।
ঈদের এই সময়ে শরীফের মত অনলাইনে বা শপিং সেন্টার থেকে পছন্দের জামা, জুতা, অন্যান্য আনুষাঙ্গিক পণ্য কিনে ডিজিটাল পেমেন্ট করছেন অসংখ্য ক্রেতা, সঙ্গে উপভোগ করছেন ক্যাশব্যাক।
শরীফ আহমেদ বলেন, আমি মোটামুটি ক্যাশলেস জীবন ব্যবস্থায় অভ্যস্ত হয়ে গেছি এবং আমি এটা এনজয় করছি। ঈদের এই সময়ে পরিবার-পরিজনসহ সবার কেনাকাটার জন্য ক্যাশ টাকা নিয়ে ঘুরতে হয় না, কেনাকাটা করে সহজেই এক মুহূর্তে পেমেন্ট করে ফেলা যায়।
শরীফ আহমেদের মতই প্রায় ক্যাশলেস পেমেন্টে অভ্যস্ত উদ্যোক্তা ইতি রহমান। তিনি বলেন, কেবল জামা-জুতা-সাজগোজের পণ্যই নয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, খাদ্যপণ্যসহ সব কেনাকাটাতে বিকাশ পেমেন্টই তার পছন্দ। আর উৎসবের এসময়ে ক্যাশব্যাক, ছাড়ও পাওয়া যায়, যা দেয় বাড়তি আনন্দ।
তিনি আরও বলেন, সব ধরনের ব্যাংকিং লেনদেন এখন আমার বিকাশ ওয়ালেট থেকেই করতে পারছি। কাউন্টার কিংবা এটিএম বুথে না গিয়েই ব্যাংক থেকে বিকাশ অ্যাকাউন্টে যখন প্রয়োজন তখনই টাকা আনতে পারি। আর কেনাকাটাসহ দৈনন্দিন সব লেনদেন বিকাশেই করতে পারছি সহজেই।
উল্লেখ্য, এই ঈদেও বিকাশ পেমেন্টে কেনাকাটা করে ২০০০ টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক ও ডিসকাউন্ট কুপন উপভোগ করতে পারছেন গ্রাহকরা। পাশাপাশি প্রতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ পেমেন্ট করা তিন জন গ্রাহক পাচ্ছেন ১০০০ পর্যন্ত টাকা ক্যাশব্যাক। এছাড়া রমজান মাসজুড়ে ইফতার ও সেহরিতে নির্দিষ্ট রেস্টুরেন্টে থাকছে ১০০০ টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক।
কেনাকাটায় শুধু গ্রাহকরাই স্বাচ্ছন্দ্য পাচ্ছেন তা নয়, স্বস্তি মিলছে বিক্রেতাদেরও। কোনোরকম ভাংতির ঝামেলা ছাড়াই পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারছেন নিমেষেই। তারা বলছেন, বিকাশের মতো ডিজিটাল পেমেন্ট তাদের ব্যবসায়িক লেনদেনকে সহজ করে দিয়েছে কয়েকগুণ।
শাড়ি-পাঞ্জাবি আর বাচ্চাদের পোশাক বিক্রি হয় ফেসবুক ভিত্তিক পেজ ফুরোমনে। পেজটির উদ্যোক্তা সোহানা পারভীন বলেন, পাইকারদের কাছ থেকে আমরা সরাসরি পণ্য সংগ্রহ করি কুমিল্লা, যশোর, পাবনা, টাঙ্গাইল, রাঙ্গামাটি, রূপগঞ্জ সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। সময় বাঁচাতে পাইকারদের বিল বিকাশেই দেই। আবার আমাদের অধিকাংশ গ্রাহকও পণ্যের দাম পরিশোধ করে থাকেন বিকাশে।
ঈদ, পহেলা বৈশাখ, পূজার মতো বিভিন্ন উৎসবকে সামনে রেখে গ্রাহকরা ডিজিটাল পেমেন্টে বেশি করলেও, এখন সারা বছরই ডিজিটাল পেমেন্ট অভ্যস্ত হতে শুরু করেছেন অনেক গ্রাহক। সব ধরনের পণ্য এক ছাদের নিচে থাকায় সুপারশপের ক্রেতারাও অনেক সময় লিস্টের বাইরেও কেনাকাটা করে থাকেন।
ব্র্যান্ডের দোকান, সুপারশপের পাশপাশি ছোটো মুদি দোকানেও বর্তমানে বিকাশ পেমেন্টের সুযোগ মিলছে। সারাদেশে সব মিলিয়ে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজারের ওপর মার্চেন্ট রয়েছে বিকাশের। এসব দোকানে খুচরা টাকার ঝামেলা ছাড়াই যেকোনো অঙ্কের কেনাকাটায় নিমেষেই পেমেন্ট করা যাচ্ছে বিকাশে। ফলে ডিজিটাল পেমেন্টের সুবিধা থাকায় ক্রেতাকে বাড়তি কেনাকাটার জন্য ক্যাশ টাকা নিয়ে চিন্তা করতে হয় না। এছাড়া, রাইড শেয়ারিং সেবা, বাস, ট্রেন, লঞ্চ, বিমানের টিকিট কেনাতেও অনেক গ্রাহকের প্রথম পছন্দ বিকাশ পেমেন্ট।
রেস্টুরেন্টে গিয়ে খাওয়া দিনদিন বেড়ে চলেছে, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অনলাইনে খাবার অর্ডার করা। এই দুই ক্ষেত্রেই ডিজিটাল পেমেন্টে গ্রাহকদের অভ্যস্ততা বাড়ছে খাবার অর্ডারে বিভিন্ন ছাড়, ক্যাশব্যাক থাকায়।
বিকাশের চিফ মার্কেটিং অফিসার মীর নওবত আলী বলেন, ডিজিটাল পেমেন্টের প্রকৃত সুবিধা গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিতে আমরা ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম তৈরিতে কাজ করছি। এখন একদম প্রান্তিক উদ্যোক্তারাও পারসোনাল রিটেইল অ্যাকাউন্ট দিয়ে পেমেন্ট নিতে পারছেন। শহরের পাশাপাশি গ্রামেও বিকাশ পেমেন্ট কার্যকরী করতে ইকোসিস্টেম তৈরি অব্যাহত রয়েছে। আর ঈদ-পার্বনকে সামনে রেখে ক্যাশব্যাক সহ নানা অফারে গ্রাহকদের ডিজিটাল পেমেন্ট সাশ্রয়ী করতে আমাদের এই উদ্যোগ।
বর্তমানে দেশের ৪১টি ব্যাংকের নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে এবং বাংলাদেশে ইস্যুকৃত ভিসা ও মাস্টার কার্ড থেকে গ্রাহক নিজেই অ্যাডমানি করে বিকাশ অ্যাকাউন্টে টাকা নিয়ে আসতে পারেন। ফলে কেনাকাটা হয়ে উঠেছে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময়।
ঢাকা/ইভা