ঢাকা     সোমবার   ০৯ মার্চ ২০২৬ ||  ফাল্গুন ২৪ ১৪৩২ || ২০ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

‘ঋণনির্ভর অর্থনীতি কখনো টেকসই হতে পারে না’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:৫০, ৮ মার্চ ২০২৬  
‘ঋণনির্ভর অর্থনীতি কখনো টেকসই হতে পারে না’

বিনিয়োগের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভোগনির্ভর কিংবা ঋণনির্ভর অর্থনীতি কখনো টেকসই হতে পারে না। বিনিয়োগনির্ভর না হলে অর্থনীতি টেকসই হয় না।

রবিবার (৮ মার্চ) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘চ্যালেঞ্জ অ্যান্ড দ্য ওয়ে ফরোয়ার্ড ফর দ্য নিউ গভর্নমেন্ট ইন দ্য স্টক মার্কেট’ শিরোনামে সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এসব কথা বলেন। 

আরো পড়ুন:

ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম (সিএমজেএফ) সেমিনারের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

সিএমজেএফ সভাপতি মনির হোসেনের সভাপতিত্বে সেমিনারে আলোচক ছিলেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমান ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের (বিএপিএলসি) সভাপতি রিয়াদ মাহমুদ।

উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমী বলেন, “আমরা একটি ঋণনির্ভর সমাজ থেকে মালিকানানির্ভর সমাজে রূপান্তরিত হতে চাই। যেখানে সকল জনগণ মালিক হিসেবে রোল করবে। জনগণের এবং দেশের সকল সেবা সুবিধার মালিক জনগণের নিজের থাকবে। অর্থনৈতিক গণতন্ত্রীকরণের একমাত্র পথ হচ্ছে শেয়ারবাজার।”

“শেয়ারবাজারের অসুখগুলো চিন্হিত। বাজারভিত্তিক অভ্যন্তরীণ রেগুলেটরি ব্যবস্থা খুব খারাপ। বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের সবচেয়ে বড় ঘাটতি বাজারের মাঝে থাকা অডিট, ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি, অ্যাডভোকেসির মতো রেগুলেটরগুলো। তাই বাজার ঠিক করতে হলে এসব প্রতিষ্ঠান যদি ঠিকমতো দায়িত্ব পালন না করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে পারলে বাজারে মানুষের আস্থা ফিরে আসবে।”

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, “আমরা গত বছর ক্যাপিটাল গেইনে (মূলধনি মুনাফা) ট্যাক্স কমিয়েছিলাম, তার ফলে দুই-তিন দিন বাজার ভালো ছিল। পরে আবার আগের মতো খারাপ হলো। তাহলে সমস্যা তো ক্যাপিটাল গেইনে ছিল না।”

তিনি বলেন, “আমাদের দেশে ব্যাংকে টাকা রেখে, বিমায় পলিসি করে এবং পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে মানুষ ঠকেছে। এখানে আমাদের পলিসিতে সমস্যা ছিল, আছে। বিশ্বের কোনো দেশের অর্থনীতিই শেয়ারবাজার বাদ দিয়ে এগিয়ে যেতে পারেনি।”

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মনিরুজ্জামান। তিনি তার প্রেজেন্টেশনে দেখান যে, ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা ‘ট্যাক্স’ সমস্যা। একটা ভালো কোম্পানি কেন তালিকাভুক্ত হবে? যেখানে তাকে অনেক বেশি জবাবদিহিতার মধ্যে আসতে হবে। তালিকাভুক্ত হলে তার ট্রান্সপারেন্সি বাড়বে, অনেক বেশি স্বচ্ছ থাকতে হবে। এজন্য তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে আনতে হলে অবশ্যই তাকে কিছু সুযোগ দিতে হবে। এজন্য করপোরেট কর ছাড়সহ বিভিন্ন সুযোগ তৈরি করে দেওয়া উচিত।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সাধারণ সম্পাদক সুমিত পোদ্দার বলেন, “গত দুই বছরে কোনো প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) আসেনি। এই জায়গায় চেঞ্জ আনতে হলে আমাদের ইনটেনসিভ দিতে হবে। আমাদের দেশে বর্তমানে তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য একটি ট্যাক্স ইনটেনসিভ দেওয়া হচ্ছে, যেটির হার ৫ শতাংশের মতো। এই জায়গাতে গ্যাপটা বাড়ানো উচিত।” 

বিএসইসি কমিশনার মো. সাইসুদ্দিন বলেন, “আমরা স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেছি, এখনো কেন আমাদের ইনটেনসিভ নিয়ে ভাবতে হবে? এখানে নিশ্চয়ই সিস্টেমে কিছু সমস্যা আছে। আমাদের সমস্যাগুলো খুঁজতে হবে। ইনটেনসিভ দিয়ে নয়, সমস্যার সমাধান খুঁজে ভালো কোম্পানি বাজারে আনতে হবে।”

ঢাকা/নাজমুল/রাসেল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়