‘‘আলোচনায় থাকতেই ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ নিয়ে মিথ্যাচার হচ্ছে’’
জ্যেষ্ঠ বিনোদন প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে সবচেয়ে সুপারহিট এবং বেশি আয় করা সিনেমা ‘বেদের মেয়ে জোসনা’। তৎকালীন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবর, দুই প্রযোজকের ওই সময়ের বক্তব্যে সিনেমাটি প্রায় ২০ কোটি টাকা আয় করে। কিন্তু জাজের কর্ণধার আবদুল আজিজ বলছেন, সিনেমার প্রযোজকের নেট আয় মাত্র ৭ কোটি টাকা। অন্যদিকে সদ্য মুক্তি পাওয়া ‘প্রিয়তমা’ সিনেমার পরিচালকের দাবি ‘বেদের মেয়ে জোসনা’কে ছাড়িয়ে যাবে ‘প্রিয়তমা’।
এ প্রসঙ্গে অনেকে বলছেন, গত ঈদের সিনেমার প্রচারণার কৌশল হিসেবেই ‘বেদের মেয়ে জোসনা’র আয় নিয়ে মন্তব্য করা হচ্ছে। ‘বেদের মেয়ে জোসনা’র নির্মাতা ও প্রযোজক আব্বাস উল্লাহ ও মতিউর রহমান পিনু দু্জনই প্রয়াত হয়েছেন। বেঁচে আছেন সিনেমাটির চিত্রনাট্যকার আলী আজাদ। তিনি বেদের মেয়ে জোসনার আয় ২০ কোটি টাকা ছিল বলে রাইজিংবিডিকে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘‘বেদের মেয়ে জোসনা’ প্রায় ২০ কোটি টাকা লাভ করেছিল এটাই সত্য। সে সময় প্রযোজকরা এখনকার নির্মাতা ও প্রযোজকদের মতো কত লাভ হয়েছে তা নিয়ে নিজেদের ঢোল পেটাতো না। তখন প্রযোজকরা যা লাভ হতো তার থেকে কম বলতো। এখন যারা বেদের মেয়ে জোসনা সিনেমার আয় নিয়ে কথা বলছেন তারা আসলে নিজেদের আলোচনায় রাখতেই এসব বলছেন। তাদের সিনেমার প্রচারণার জন্য এটা স্টান্টবাজি।’
তিনি আরো বলেন, ‘একটা সজহ হিসাব করলেই হয়। তখন সিনেমা হল ছিল প্রায় ১২০০। এমন কোনো হল ছিল না যেখানে এই সিনেমা দুতিন মাস চলেনি। আর এখন হল আছে কটা? সবগুলো হলে তিন মাস চললেও তার সমান আয় হবে না। বেদের মেয়ে জোসনা আমায় কথা দিয়েছে- এই গান কেউ শোনেননি বা ছবিটি কেউ দেখেননি এমন কোনো দর্শক খুঁজে পাওয়া যাবে না। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাস সৃষ্টিকারী ছবি এটি।’
‘বেদের মেয়ে জোসনা’ নিয়ে দুএকটা কথা বলে আলোচনায় থাকতেই এসব মিথ্যাচার করা হচ্ছে বলে মনে করেন আলী আজাদ।
উল্লেখ্য ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ ১৯৮৯ সালের ৯ জুন মুক্তি পায়। আনন্দমেলা চলচ্চিত্র প্রযোজিত এই সিনেমা পরিচালনা করেন তোজাম্মেল হক বকুল। আর ‘প্রিয়তমা’ মুক্তি পেয়েছে গত কোরবানি ঈদে। এই সময় এবং ওই সময়ের অর্থমূল্যের পার্থক্যও বিস্তর বলে এই তুলনা সঠিক হবে না বলেও অনেকে মনে করেন।
রাহাত//
আদানির সঙ্গে চুক্তি সংশোধনের বিষয়টি বিবেচনাধীন: জ্বালানিমন্ত্রী