ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০২ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২০ ১৪৩২ || ১৪ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

বনলতা এক্সপ্রেস: মারামারি-চিৎকার ছাড়াও ভালো সিনেমা হয়

আব্দুল আজিজ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৪১, ২ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১৮:৫১, ২ এপ্রিল ২০২৬
বনলতা এক্সপ্রেস: মারামারি-চিৎকার ছাড়াও ভালো সিনেমা হয়

‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাসটা পড়েছিলাম, যখন প্রকাশ হয়েছিল। তা অনেক দিন আগের কথা। উপন্যাসটি আমার কাছে নেই (আমি কখনো বই সংগ্রহ করি না)। যতটুকু মনে পড়ে গল্পটা ছোট। একটা ট্রেন জার্নির উপর। যেখানে কিছু চরিত্র আছে। তাদের সাথে একটি লাশও আছে, (উপন্যাসে লাশটি কার ছিল, তা ভুলে গেছি)। এই ছোট একটা গল্প নিয়ে যে সিনেমা বানানো যাবে আমার ধারণা ছিল না। আমার মতে এটা একটা নাটকের গল্প হতে পারে।  

আমি অনেক আগে একবার হুমায়ূন আহমেদ স্যারের সাথে দেখা করে, একটা উপন্যাসের রাইট চেয়েছিলাম সিনেমা করার জন্য। উনি রাজি হয়েছিলেন। সেটা অবশ্যই ‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাস না। কিন্তু পরিচালক ‘তানিম নূর’ দেখিয়ে দিয়েছেন, একটি ছোট গল্প নিয়ে সিনেমা করতে পারেন। আমি মনে করি, এই কৃতিত্ব এককভাবে পরিচালক তানিম নূরের। তবে আমাকে সিনেমার চেয়ে উপন্যাস বেশি মজা দিয়েছে।  

আরো পড়ুন:

যেহেতু মূল গল্পটি ছোট তাই মনে হয় কিছু চরিত্র ও দৃশ্য ঢুকানো হয়েছে। যেমন রাজশাহী ভার্সিটিতে পরীক্ষা দিতে যাওয়া একদল তরুণ-তরুণী, তাদের প্রেম-খুনসুটি। বেশ ভালো লেগেছে। আবার শ্যামল মাওলা তার স্ত্রী মমকে এক পুরুষ ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করাবেন না, তখন মোশাররফ করিম ও ছাত্ররা শ্যামল মাওলাকে বেঁধে রাখে, এটা ভালো লেগেছে। উপন্যাসে মনে হয়, প্রফেসর তাকে কনভেন্স করে।  

আবার মন্ত্রীর যখন চাকরি চলে যায়, তখন সে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করে, তা বাদ দেয়া হয়েছে, ফলে মন্ত্রীর অসহায়ত্ব ফুটে উঠে নাই। এন্ড ক্লাইম্যাক্সের আগ পর্যন্ত বেশ ভালো ও উপভাগ্য করে ছিল। কিন্তু তাল হারিয়ে ফেলেছে, সবগুলো চরিত্রের পরিণতি দিতে গিয়ে। উপন্যাসে হেলিকপ্টার আসে এবং মমকে নিয়ে যায়, এখানেই শেষ হয় (আমার যতটুকু মনে আছে)। কিন্তু সিনেমাতে এর পরেও সবগুলো চরিত্রের পরিণতি দেখিয়েছে; যার জন্য শেষে একটু বোরিং ফিল হয়েছে। হুমায়ূন স্যারের গল্প হুমায়ূন স্যারের মতোই রাখা উচিত। আপনি দৃশ্য কিছু পরিবর্তন-পরিবর্ধন বা পরিমার্জন করতে পারেন, অতিরিক্ত করতে গেলে ঝুলে যাবে, এই কথাটা সবাইকে ভবিষ্যতে মনে রাখতে হবে। 

মোশাররফ করিম যে কত বড় জাত অভিনেতা এটা আবারো প্রমাণ করলেন। বাঁধনকে সুন্দর লেগেছে, খুব ভালো অভিনয় করেছেন। চঞ্চল, মম, নাজনীন ভালো করেছে। সেতুর অভিনয় অসাধারণ। পরিচালককে স্যালুট। অসাধারণ করেছেন। গল্পটাকে অসাধারণভাবে বলেছেন। তবে মন্ত্রীর গল্পটা ঠিকমতো বলতে না পারার আক্ষেপ থেকেই যাবে! 

পরিশেষে খুব মেকিংয়ের পারিবারিক একটি সিনেমা। তানিম নূর প্রমাণ করেছে, মারামারি গালাগালি, অশ্লীল ভাষা চিৎকার চেঁচামেচি না করেও খুব ভালো সিনেমা বানানো যায় এবং ব্যবসাসফল হয়। আমি গতকাল ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমাটি দেখেছি ভিআইপি থিয়েটারে। একটা সিটও খালি ছিল না। সিনেমাটি সবাই খুব উপভোগ করেছেন। অভিনন্দন প্রযোজক তানিম নূর ও এসভিএফ। 

লেখক: আব্দুল আজিজ, কর্ণধার জাজ মাল্টিমিডিয়া

ঢাকা/শান্ত

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়