ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০২ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২০ ১৪৩২ || ১৪ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ ঘিরে উত্তপ্ত মালদহ

কলকাতা ব্যুরো || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৩৪, ২ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১৯:৪৭, ২ এপ্রিল ২০২৬
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ ঘিরে উত্তপ্ত মালদহ

পশ্চিমবঙ্গে আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তার আগে চলমান ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বা এসআইআরের প্রথম দফায় বাদ পড়েছেন প্রায় ৬০ লাখ ভোটার। এই সংখ্যা ৯০ লাখে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এমন অবস্থায় ভোটের মুখে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়াকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন উত্তেজনা ছড়ালো পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার কালিয়াচকে। বুধবার (১ এপ্রিল) কালিয়াচক-১ ও কালিয়াচক-২ নম্বর ব্লকের অধীন একাধিক বিধানসভা এলাকায় দফায় দফায় বিক্ষোভ করেন সাধারণ ভোটাররা। 

আরো পড়ুন:

বুথ পরিদর্শনে যাওয়া সাতজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে (যাঁদের মধ্যে নারীরাও ছিলেন) বুধবার সন্ধ্যার পর কালিয়াচক-২ বিডিও অফিসে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখেন বিক্ষোভকারীরা। তার আগে ক্ষুব্ধ ভোটাররা পর্যবেক্ষকদের গাড়ির চাকার নিচে শুয়ে পড়ে প্রতিবাদ জানান। এসময় তাদের একটি গাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে ঘিরে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় ওই এলাকা। অবশেষে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন গিয়ে সাত পর্যবেক্ষককে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন মালদহ শহরে।

বুধবার সকাল থেকে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হতে থাকে। বিকেল ৪টা থেকে থেকে বিক্ষোভের ঝাঁঝ বাড়তে থাকে। রাত ১২টায় তা জনরোষে পরিণত হয়। এসময় ১২ নং জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বসেন বিক্ষোভকারীরা। খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান মালদহের পুলিশ সুপার।

এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ নির্বাচন কমিশন জেলাশাসকের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে। অন্যদিকে, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত এই ব্যর্থতার দায়ে রাজ্যের মুখ্য সচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিকে সরাসরি কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) পাঠিয়েছে।

এদিন বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে হেনস্থার শিকার হতে হয় একাধিক সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের।

এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, “এটা অত্যন্ত জঘন্যতম ঘটনা। সড়কে বাঁশ ফেলে রেখে নারীসহ বাকি বিচারপতিদের রাস্তা আটকানো হয়। বিচারপতিদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার দল তৃণমূলের উস্কানিতে এই ঘটনা ঘটেছে।”

এদিকে মালদহের কালিয়াচকের ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনি জনসভায় বলেন, “যদি আমার উপরে বিশ্বাস থাকে তাহলে দয়া করে উত্তেজনায় পা দেবেন না। বাংলাকে রক্ষা করুন, মুর্শিদাবাদকে রক্ষা করুন, নিজেদের অধিকারকে রক্ষা করুন। আমি তো বলেছি আপনাদের কাউকে রাজ্য থেকে বার হতে দেব না। এই বাংলায় ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না।”

এই ঘটনায় বিরোধী দল বিজেপির পাশাপাশি নাম না করে এমআইএমআইএম প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসি এবং আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরকেও নিশানা করেন মমতা। মমতার অভিযোগ এরা উভয়েই বিজেপির অর্থ নিয়ে রাজ্যে অশান্তি পাকাচ্ছে। 

ঢাকা/সুচরিতা/ফিরোজ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়