ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০২ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২০ ১৪৩২ || ১৪ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

চাহিদা অনুযায়ী বর্তমানে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই: বিদ্যুৎ মন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:০৩, ২ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১৮:০৫, ২ এপ্রিল ২০২৬
চাহিদা অনুযায়ী বর্তমানে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই: বিদ্যুৎ মন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

দেশে বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তবে গ্রীষ্ম মৌসুমে প্রাথমিক জ্বালানির ঘাটতি এবং সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে মাঝেমধ্যে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা লোডশেডিং দেখা দেয় বলে স্বীকার করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

আরো পড়ুন:

মন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ চাহিদার সময় প্রাথমিক জ্বালানির সংকট, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং ঝড়-বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক কারণে সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে। ফলে ওই সময়ে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।”

লোডশেডিং পুরোপুরি বন্ধ এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সরকার ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন চলছে। একই সঙ্গে সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামোর উন্নয়ন কাজ জোরদার করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরো জানান, প্রাথমিক জ্বালানির ঘাটতি মোকাবিলায় জ্বালানি বহুমুখীকরণে জোর দেওয়া হচ্ছে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি দক্ষতা বাড়াতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রথম ধাপে ময়মনসিংহ, ঘোড়াশাল ও নারায়ণগঞ্জে ৭৪টি মনোনীত শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে জ্বালানি নিরীক্ষা কার্যক্রম চলছে। এ লক্ষ্যে ৪২ জন সনদপ্রাপ্ত জ্বালানি নিরীক্ষক এবং ১৭৮ জন জ্বালানি ব্যবস্থাপক তৈরি করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য হলিডে স্ট্যাগারিং এবং ডিমান্ড-সাপ্লাই সাইড ম্যানেজমেন্ট চালু রয়েছে। সরকারি অফিসে বিদ্যুৎ ব্যবহারে গাইডলাইন অনুসরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি রাখা। অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা পরিহার। ব্যবহার শেষে বৈদ্যুতিক যন্ত্রের সুইচ বন্ধ রাখা, পিক আওয়ারে নিয়ন্ত্রণ। পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাপ কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ সময় পানির পাম্প, ওভেন, হিটার, ইস্ত্রি, ওয়াশিং মেশিন ও ওয়েল্ডিং মেশিন ব্যবহার সীমিত রাখার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

মার্কেট ও শপিংমলে অতিরিক্ত আলোকসজ্জা বন্ধে ভিজিল্যান্স টিম কাজ করছে।অটোচার্জিং স্টেশনগুলোকে পিক আওয়ারে চার্জ না করার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ও ব্যবহার রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও সংসদকে জানান মন্ত্রী।

ঢাকা/এএএম/এসবি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়