ঢাকা     শনিবার   ২১ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ৮ ১৪৩২ || ১ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ঈদ এলে বাবা-মায়ের কথা খুব মনে পড়ে: ববিতা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:১৭, ২১ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ১০:৫৭, ২১ মার্চ ২০২৬
ঈদ এলে বাবা-মায়ের কথা খুব মনে পড়ে: ববিতা

ববিতা

চলচ্চিত্রের বরেণ্য অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতা। আজীবন সম্মাননা, একুশে পদক, একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ বহু স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নায়িকা হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। কালজয়ী এ চলচ্চিত্র শিল্পী ঈদ নিয়ে তার নানা স্মৃতিকথা জানিয়েছেন—

ঈদ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ববিতার কণ্ঠে ভেসে ওঠে আবেগ, স্মৃতি আর না-পাওয়ার এক হালকা বিষাদ। বিশেষ করে একমাত্র ছেলে অনীক দূরে থাকায় ঈদের সময়টা তার কাছে অন্যরকম হয়ে ওঠে। 

আরো পড়ুন:

ববিতা বলেন, “আমি বছরের একটা সময় ওর কাছে গিয়ে থাকি। কিন্তু এবার আমরা দুজন দুই জায়গায়। তাই ঈদ যত ঘনিয়ে আসে, ওকে তত বেশি মনে পড়ে।” 

ঈদের দিন কিংবা তার আগের কয়েক দিন থেকেই ছেলের এই শূন্যতা আরও বেশি অনুভব করেন। ববিতার ভাষায়—“যাদের সন্তান দূরে থাকে, তারা বিষয়টা বুঝতে পারবেন। আমিও খুব করে অনুভব করি।”
 
ছেলের পছন্দের খাবারের প্রসঙ্গ উঠতেই মায়ের মমতায় ভরে ওঠে ববিতার কথাগুলো। এ অভিনেত্রী বলেন, “আমার হাতের পোলাও, কোরমা, সেমাই—সবই ওর খুব পছন্দ। আমি যখন কানাডায় যাই, নিজেই বাজার করি, রান্না করি। গরুর মাংসও খুব পছন্দ ওর।”

শৈশবের ঈদের স্মৃতিও ববিতার কাছে এখনো ভীষণ উজ্জ্বল। এ অভিনেত্রী বলেন, “ছোটবেলা যেমন সুন্দর, সেই সময়ের ঈদও ছিল ভীষণ সুন্দর। অনেক মজার ছিল। ওইসব দিনের কথা কখনো ভুলতে পারব না।”

সালামির প্রসঙ্গ টানতেই ববিতা ফিরে যান পুরোনো সেই দিনে। তিনি বলেন, “ছোটবেলায় ঈদের দিনে আমরা সালামি পেতাম। দাদা-দাদি, বাবা, মামারা দিতেন। সেই টাকা দিয়ে নানা ধরনের মজার খাবার কিনে খেতাম। এখন তো আমাকেই দিতে হয়—ভাগ্নি আছে, আপনজন আছে, সবাইকে দিতে হয়।”

“ওরা কিন্তু গুনে গুনে দেখে কে কত দিল। তাই আমাকে একটু বেশিই দিতে হয়!”—হাসতে হাসতে কথাগুলো যোগ করেন ববিতা।

বয়স হলেও এখনও সালামি পান ববিতা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “পাই। সুচন্দা আপা তো আমার বড়, তিনি এখনো আমাকে সালামি দেন। খুব ভালো লাগে।”

ঈদের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নতুন জামার স্মৃতি। এ অভিনেত্রী বলেন, “ঈদের কয়েক দিন আগে কাপড় দিয়ে জামা বানাতে দিতাম। দর্জি যখন বানাত, আমি সেখানে বসে থাকতাম। পরে বাসায় এনে লুকিয়ে রাখতাম, ঈদের দিন পরতাম। এই স্মৃতিগুলো খুব মনে পড়ে।”

ঈদ মানেই আনন্দ। কিন্তু খুশির এই দিনে প্রয়াত বাবা-মাকে খুব মনে পড়ে ববিতার। তিনি বলেন, “ঈদ এলে বাবা-মায়ের কথা খুব মনে পড়ে। আর আমার ছেলে অনীক দূরে আছে, তাকেও খুব মনে পড়ে।”

তবে সময় তো থমকে থাকে না। জীবন চালিয়ে নিতে হয় বাস্তবতার নিরিখে। পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে এখন ঈদ কাটান ববিতা। তিনি বলেন, “ঈদের ছুটিতে সুচন্দা আপা ও চম্পা আমার বাসায় আসে। ওদের সন্তানরাও আসে। আমিও কখনো ওদের কাছে যাই। সবার সঙ্গে মিলেই সময়টা ভালো কাটে।”

সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলেছে, কিন্তু ববিতার কাছে ঈদের অনুভূতি আজও রয়ে গেছে একই—প্রিয়জন, স্মৃতি আর ভালোবাসার এক অনন্ত বন্ধন।

ঢাকা/রাহাত/শান্ত

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়