‘মুখ ও মুখোশ’ সিনেমার গায়িকা মাহবুবা রহমান মারা গেছেন
মাহবুবা রহমান
দেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’ সিনেমার গায়িকা, একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী মাহবুবা রহমান মারা গেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন এই শিল্পী। তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। তার ছোট মেয়ে সংগীতশিল্পী রুমানা ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রুমানা ইসলাম বলেন, “মায়ের বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা ছিল। গত ৭ মার্চ মাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বার্ধক্যজনিত সমস্যার সঙ্গে নিউমোনিয়ার আক্রমণ ছিল। গতকাল সন্ধ্যায় তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যান।”
মাহবুবা রহমানের মরদেহ মগবাজারে তার বাড়িতে রাখা আছে, যেখানে ছিল শ্রুতি স্টুডিও। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বাদ জুমা মগবাজার ওয়্যারলেস জামে মসজিদে তার জানাজা হবে। এরপর মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হবে বলেও জানান রুমানা ইসলাম।
পঞ্চাশ ও সত্তরের দশকের রেডিও এবং চলচ্চিত্রের অসংখ্য কালজয়ী গানের এই শিল্পী মূলত পল্লীগীতি ও আধুনিক গানের জন্য শ্রোতাদের কাছে ভীষণ জনপ্রিয় ছিলেন। ১৯৪৭ সালে অল ইন্ডিয়া রেডিওর ঢাকা কেন্দ্র থেকে সর্বপ্রথম তার গান সম্প্রচারিত হয়েছিল।
প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’ সিনেমায় প্রখ্যাত সুরকার সমর দাসের সুরে মাহবুবা রহমানের গাওয়া ‘মনের বনে দোলা লাগে’ গানটি ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে। এরপর একে একে ‘জাগো হুয়া সাভেরা’, ‘আসিয়া’, ‘এ দেশ তোমার আমার’, ‘যে নদী মরুপথে’, ‘কখনো আসেনি’, ‘সূর্যস্নান’, ‘সোনার কাজল’, ‘রাজা সন্ত্রাসী’, ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ ও ‘সাত ভাই চম্পা’র মতো বিখ্যাত সব চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন দেন এই শিল্পী।
সুরকার খান আতাউর রহমানের সুরে জহির রায়হানের ‘কখনো আসেনি’ চলচ্চিত্রে তার গাওয়া ‘নিরালা রাতের প্রথম প্রহরে’ গানটি শ্রোতাদের হৃদয়ে আজও দোলা দেয়।
১৯৫০ সালে আবুল হাসনাতের সঙ্গে মাহবুবা রহমান বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে পারিবারিক স্বীকৃতির অভাবে পরবর্তীতে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এই সংসারে মারুফ ও বাবন নামে দুই সন্তান রয়েছে, যার মধ্যে বড় ছেলে মারুফ মারা গেছেন এবং ছোট ছেলে বাবন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।
১৯৫৮ সালে খ্যাতিমান চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব, অভিনেতা ও সংগীতজ্ঞ খান আতাউর রহমানের সঙ্গে তার পরিচয় এবং পরিণয় ঘটে। এই গুণী দম্পতির সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে, যাদের মধ্যে রুমানা ইসলাম দেশের একজন প্রতিষ্ঠিত ও বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী। জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আগুন সম্পর্কে সৎভাই হন রুমানার।
সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই গুণী শিল্পীকে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘একুশে পদক’ প্রদান করা হয়েছে। তার মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমেছে।
ঢাকা/শান্ত
গণপরিবহনে জিপিএস ডিভাইস স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে