নাভানা ফার্মার সুশাসন নিয়ে বিতর্ক অনুসন্ধানে বিএসইসি
পুঁজিবাজারে ওষুধ ও রসায়ন খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির পর্ষদ গঠন, সভা পরিচালনা এবং করপোরেট সুশাসন নিয়ে ওঠা বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে অনুসন্ধানে নেমেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ লক্ষ্যে বেশ কিছু শর্ত সাপেক্ষে চার সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স ও ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন থেকে এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন- বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক শেখ মো. লুৎফুল কবির, মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, সহকারী পরিচালক মো. মতিউর রহমান এবং মো. নিজাম উদ্দিন।
জানা গেছে, নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস দখল করে নেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে- তা অনুসন্ধান করে দেখবে বিএসইসি। কোম্পানিটির চেয়ারম্যান সাইকা মাজেদার অভিযোগের ভিত্তি প্রাথমিক তদন্তে বিএসইসি এ ঘটনার সত্যতা খুঁজে পেয়েছে। কোম্পানিটি দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ভাই ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরী, আনিসুজ্জামান চৌধুরীর স্ত্রী ইমরানা জামান, তাদের সহযোগী আদনান ইমাম ও তার বোন জাহার রসুলের বিরুদ্ধে। এরই ধরাবাহিকতায় একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন মনে করে, পুঁজিবাজার এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বৃহত্তর স্বার্থে নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির পর্ষদ গঠন, সভা পরিচালনা,করপোরেট সুশাসন এবং সামগ্রীক বিষয়ের উপর তদন্ত করা প্রয়োজন। তাই সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯ এর ধারা ২১ এর প্রদত্ত ক্ষমতা বলে উল্লিখিত বিষয়ে কমিশন চার কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। গঠিত কমিটি নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির বিভিন্ন কার্যপরিধি তদন্ত করে দেখবে।
গঠিত কমিটি তাদের অনুসন্ধানে, কোম্পানির ৬৪তম বোর্ড সভা আদৌ অনুষ্ঠিত হয়েছিল কি-না এবং তা আইনসম্মতভাবে হয়েছে কি-না সেটা যাচাই করা হবে। একইসঙ্গে ওই সভার নোটিশ যথাযথভাবে ইস্যু করা হয়েছিল কি-না এবং যেসব পরিচালক নোটিশ পাওয়ার যোগ্য, তারা তা পেয়েছিলেন কি-না সেটাও খতিয়ে দেখা হবে।
এছাড়া, কোনো বহিরাগত ব্যক্তি সভার নোটিশ পেয়েছিলেন কি-না বা সভায় অংশ নিয়েছিলেন কি-না, সে বিষয়েও অনুসন্ধান করা হবে। কোম্পানির ৬৫তম বোর্ড সভার এজেন্ডা নির্ধারণ, অনুমোদন এবং কার্যবিবরণী প্রস্তুতের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি-না, সেটিও তদন্তের আওতায় থাকবে।
আরো খতিয়ে দেখা হবে, পরিচালক নিয়োগ, চেয়ারম্যান অপসারণ এবং কোম্পানি সচিব নিয়োগ বা পরিবর্তন সংক্রান্ত কার্যক্রম আইন অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে কি-না। পাশাপাশি ৬৪তম ও ৬৫তম বোর্ড সভা আইনানুগভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে কি-না সে সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক দিকও তদন্তে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ঢাকা/এনটি/ইভা
ফেরি পারাপারে ঝুঁকি কমাতে এখন থেকে কোনো বাস সরাসরি যাত্রীসহ ফেরিতে উঠতে পারবে না: সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী