জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছে বরুণ ধাওয়ানের মেয়ে
বিনোদন ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
বলিউড তারকা বরুণ ধাওয়ান সাধারণত নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব বেশি কথা বলেন না। ক্যামেরার ঝলকানি আর রঙিন পর্দার বাইরে তিনি বরাবরই সংযত। ২০২৪ সালের ৩ জুন, স্ত্রী নাতাশা দালাল-এর সঙ্গে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয় বরুণের—তাদের কোলজুড়ে আসে ছোট্ট লারা। বাবা হওয়ার অনুভূতি তার জীবনকে যেন অন্য এক আলোয় ভরিয়ে দেয়। কাজ, ব্যস্ততা, সাফল্য—সব কিছুর মাঝেও এখন তার পৃথিবীর কেন্দ্রে জায়গা করে নেয় মেয়েটি।
কিন্তু সেই আনন্দের ভেতরেই একদিন ধরা পড়ে এক অপ্রত্যাশিত বাস্তবতা। লারার দেড় বছর বয়সে চিকিৎসকেরা শনাক্ত করেন একটি জটিল শারীরিক সমস্যা—Developmental Dysplasia of the Hip (ডিডিএইচ)। এই রোগে শিশুর হিপ জয়েন্ট সঠিকভাবে বসে না, ফলে হাঁটার স্বাভাবিক ক্ষমতা ব্যাহত হয়। ছোট্ট লারার ক্ষেত্রেও ঠিক তাই—সে ঠিকমতো হাঁটতে পারছিল না, তার চলাফেরায় ছিল অস্বাভাবিকতা।
একজন বাবা হিসেবে এই খবর বরুণের জন্য ছিল নিঃসন্দেহে কঠিন। সন্তানের কষ্ট চোখের সামনে দেখা—এর চেয়ে বড় অসহায়তা আর কী হতে পারে? তবুও ভেঙে পড়েননি তিনি। বরং ধৈর্য আর দৃঢ়তা নিয়ে শুরু করেন চিকিৎসার পথচলা।
চিকিৎসার অংশ হিসেবে লারাকে পরতে হয়েছিল ‘স্পাইকা কাস্ট’—এক ধরনের বিশেষ প্লাস্টার, যা শরীরের নিচের অংশকে স্থির করে রাখে। প্রায় আড়াই মাস ধরে ছোট্ট শিশুটির শরীর প্লাস্টারে আবদ্ধ ছিল। সেই সময়টা ছিল পরিবারটির জন্য এক কঠিন পরীক্ষা। অ্যানেসথেসিয়া দিয়ে ঘুম পাড়ানোর পর যখন লারা জেগে ওঠে, তখন নিজেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অবস্থায় আবিষ্কার করে—চারপাশে প্লাস্টারের বাঁধন। একজন বাবার চোখে সেই দৃশ্য কতটা বেদনাদায়ক হতে পারে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
তবে আশার কথা হলো, চিকিৎসা সঠিক পথে এগিয়েছে। লারার অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়েনি। বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে তার হিপ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরে এসেছে। এখন সে সুস্থতার পথে, আর সেই পথের প্রতিটি ছোট অগ্রগতি বরুণের কাছে এক একটি বড় আনন্দের মুহূর্ত।
এই অভিজ্ঞতা শুধু নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি বরুণ। তিনি জানিয়েছেন, সহানুভূতি পাওয়ার জন্য নয়—বরং অন্য মা-বাবাদের সচেতন করার জন্যই তিনি এই গল্পটি শেয়ার করেছেন। তার বিশ্বাস, সময়মতো নজর দিলে এবং চিকিৎসা শুরু করলে এই ধরনের সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
ঝলমলে তারকাজগতের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই গল্পটি তাই শুধু একজন অভিনেতার নয়—এটি একজন বাবার গল্প, যার ভালোবাসা, উদ্বেগ আর লড়াই অন্য অনেক পরিবারকে সাহস জোগাতে পারে।
ঢাকা/লিপি