প্রসেনজিতের বিরুদ্ধে ‘চুরির’ অভিযোগ
প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি, সুমন ঘোষ
ভারতীয় বাংলা সিনেমার বরেণ্য অভিনেতা প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জির বিরুদ্ধে সিনেমার ‘ভাবনা’ ও ‘চরিত্র’ চুরির অভিযোগ তুলেছেন ‘নোবেল চোর’খ্যাত পরিচালক সুমন ঘোষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখা একটি খোলা চিঠিতে এমন গুরুতর অভিযোগ করেছেন এই নির্মাতা। পাশাপাশি প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জিকে একটি ই-মেইলও করেছেন সুমন ঘোষ।
‘প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি ও অভিমান’ শিরোনামে খোলা চিঠিটি সুমন ঘোষ তার ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। লেখার শুরুতে এই পরিচালক বলেন, “প্রিয় বুম্বাদা, অত্যন্ত ভারী মন নিয়ে আপনাকে তোমায় এই চিঠি লিখছি। শিল্পের সততা ও নৈতিকতা নিয়ে এমন কিছু প্রশ্ন বুকে চেপে বসেছে, যা আমার মতো একজন স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাকে বিচলিত করছে। সৃজনশীলতা বা শিল্পের মূল ভিত্তি কী? শুধুই একটা চূড়ান্ত সৃষ্টি, নাকি সেই সৃষ্টি তৈরি হওয়ার পেছনের পারস্পরিক বিশ্বাস, সততা ও নৈতিকতা?’
গত আড়াই বছর ধরে ‘স্টার’ নামে একটি চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন সুমন ঘোষ, যেখানে কেন্দ্রীয় চরিত্রের জন্য শুরু থেকেই প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জিকে ভেবেছিলেন। এই সময়ে তাদের একাধিক বৈঠক হয়েছে, চরিত্রটির বিভিন্ন দিক, লুক ও গল্পের উপাদান নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অভিমান’ সিনেমার টিজার ও ট্রেইলারে তার পরিকল্পিত চরিত্রের সঙ্গে একাধিক বিস্ময়কর মিল খুঁজে পেয়েছেন সুমন। এর মধ্যে রয়েছে একজন সুপারস্টারের ভিন্ন বয়সের দুই রূপ, হঠাৎ তার অন্তর্ধান, নির্জন ও ভগ্নপ্রায় পরিবেশে বসবাস, শারীরিক ও মানসিক অবক্ষয়ের চিত্র, নিজের অতীত সত্তার প্রতীক ধ্বংস করা এবং একজন বিশ্বস্ত ম্যানেজারের উপস্থিতি।
গল্প আলাদা হলেও চরিত্রায়ণের এই সাদৃশ্য তার দীর্ঘদিনের সৃজনশীল পরিশ্রমকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। সুমন ঘোষের অভিযোগ মূলত আইনি বা কপিরাইট সংক্রান্ত নয়, বরং শিল্পীসুলভ সততা, বিশ্বাস ও পেশাগত নৈতিকতার বিষয়ে। তিনি মনে করেন, একজন অভিনেতার সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে ভাগ করে নেওয়া সৃজনশীল ভাবনার প্রতি ন্যূনতম সম্মান দেখানো উচিত ছিল। এই ঘটনা ভবিষ্যতে নতুন নির্মাতাদের শিল্পী ও প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্বদের প্রতি আস্থা নষ্ট করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ‘বসু পরিবার’খ্যাত এই নির্মাতা।
ঢাকা/শান্ত