ঢাকা     শুক্রবার   ১৫ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ১ ১৪৩৩ || ২৮ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ছাত্রজীবনে স্বেচ্ছাসেবক ও ক্যারিয়ার উন্নয়ন

গোলাম মোস্তফা মজুমদার || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৬:২১, ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
ছাত্রজীবনে স্বেচ্ছাসেবক ও ক্যারিয়ার উন্নয়ন

গোলাম মোস্তফা মজুমদার : দেশের মানুষের উন্নয়নের জন্য নিঃশর্ত ও নিঃস্বার্থভাবে কিছু করার নামই হলো স্বেচ্ছাসেবা। নিজের পছন্দ মতো অলাভজনক সংগঠনে এমন কাজ করতে পারাটা সত্যিই আনন্দদায়ক। এতে মানুষ হিসেবে মানুষের প্রতি দায়িত্বও যেমন পালন করা হয়, তেমনি মানসিক সন্তুষ্টিও পাওয়া যায়।

আপনি যত বেশি দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন, আপনার ক্যারিয়ার তত বেশি উজ্জ্বল হবে। কোনো চাকরি পেতে হলেও আপনাকে আপনার যোগ্যতা ও দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে। কিন্তু কীভাবে ক্যারিয়ার বিষয়ক দক্ষতা ও যোগ্যতাগুলো অর্জন করবেন? এ ক্ষেত্রে এক বাক্যে উত্তর হবে, আপনি স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করুন। স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করে আপনি যেসব দক্ষতা ও কৌশল অর্জন করতে সক্ষম হবেন, তা বর্তমানে প্রতিযোগিতামূলক চাকরির দৌঁড়ে আপনাকে অন্যদের থেকে অনেক দূর সামনের দিকে এগিয়ে রাখবে।

কিন্তু এর মাধ্যমেও উন্মোচিত হতে পারে আপনার ভবিষ্যত ক্যারিয়ারের সাফল্যের পথ, তা নিয়ে আজকের এই আলোচনা।

আপনি যে কোনো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে নিয়মিত স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করলে আপনার মধ্যে যে দক্ষতাগুলো তৈরি ও বৃদ্ধি পাবে তা আলোকপাত করা হলো-

মৌলিক দক্ষতা :

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে আপনাকে বিভিন্ন রকম কাজের দায়িত্ব নিতে হয়। আর বিভিন্ন কাজের মাধ্যমেই আপনি সে কাজ কীভাবে করতে হয়, কত দ্রুত শেষ করা যায় এবং কাজের নির্দিষ্ট ডেডলাইন মেনে চলা ইত্যাদি সবকিছু মৌলিক দক্ষতার অন্তর্গত।

কমিউনিকেশন স্কিল :

কমিউনিকেশন স্কিলস ব্যক্তিজীবন বা কর্মজীবন দুটি ক্ষেত্রেই বিশেষভাবে ভূমিকা পালন করে। কারণ, আমরা আমাদের জীবনে যে কোনো কিছু যোগাযোগের মাধ্যমেই সম্পন্ন করি। স্বেচ্ছাসেবী কাজের মাধ্যমে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সম্পর্কে ভালোভাবে জানা যায়। তাছাড়া কী করে বিভিন্ন পদের মানুষের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে চলতে হয়, সে সম্পর্কেও ভালো ধারণা পাওয়া যায়। অনেক মানুষের সাথে পরিচিত হওয়ার কারণে যে কারো কাছ থেকে আপনি চাকরির সুবিধা পেতে পারেন।

টিমওয়ার্ক :

টিমওয়ার্ক জিনিসটি কর্মক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারণ কর্মক্ষেত্রে টিমওয়ার্ক অনেক বেশি প্রাকটিস করা হয়। একার পক্ষে কোনো কাজ শেষ করা সম্ভব নয়। তাই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে অনেকে মিলে একসঙ্গে গ্রুপে বা দলে কাজ করতে হয়। ফলে টিমওয়ার্ক কাজের মাধ্যমে কীভাবে কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যায়, তা শেখা যায়।

ইন্টারপার্সোনাল দক্ষতা :

এটি মূলত এমন একটি দক্ষতা, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইন্টারপার্সোনাল স্কিলস বলতে একটি সংগঠনে সহকর্মী বা আশপাশে যারা আছেন তাদের সঙ্গে তার ব্যবহার, আচার-আচরণকে বোঝায়। অর্থাৎ সে তার সহকর্মীদের সহায়তা করে, কর্মীদের সমস্যা নিজে অনুভব করে। আর এ সবগুলো হল ইন্টারপার্সোনাল স্কিলস।

লিডারশিপ স্কিল :

লিডারশিপ স্কিল বা নেতৃত্ব দানের যোগ্যতা হল, যখন একজন ব্যক্তি অনেকগুলো মানুষকে একসাথে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনা দান করেন এবং তাদেরকে খুব সুন্দরভাবে অনুপ্রেরণার মধ্যে দিয়ে নির্ধারিত কাজটি করিয়ে নেন। সুতরাং এখানে ঐ ব্যক্তির অনেকগুলো মানুষকে সুন্দরভাবে পরিচালনার যে গুনটি দেখতে পাই, সেটিই হচ্ছে লিডারশিপ স্কিল।

আপনি যদি একটি সংগঠনের পরিচালনার দায়িত্ব পান, তাহলে আপনাকে অনেকগুলো কাজ করতে হবে। এই কাজগুলো করার মধ্য দিয়েই আপনার নেতৃত্বের গুনটির চর্চা হয়ে যায়। এভাবে চর্চা করতে করতে আপনি এমনিতেই এই গুনটি অর্জন করে নিতে সক্ষম হবেন।

ব্যবস্থাপনা দক্ষতা :

ব্যবস্থাপনা জ্ঞান এমনই এক জিনিস, যা ব্যক্তিজীবন আর কর্মজীবন দুই ক্ষেত্রেই মানুষকে সফল করে তুলতে পারে। একজন ব্যবস্থাপককে এমন হতে হবে, যেন বাকি কর্মীরা তার থেকে অনুপ্রাণিত হয়। প্রতিষ্ঠানের একদল কর্মী স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে কাজ করছে না, দায়সারা রুটিনবাঁধা কর্মজীবন টেনে চলেছে, তেমন জায়গায় উন্নতি খুব বেশি ডালপালা মেলে না। সবার মধ্যে কাজের উদ্যম তৈরি করার মন্ত্র জানা চাই একজন ব্যবস্থাপকের, যে ভালোমত করতে পেরেছে, তার যথার্থ মূল্যায়ন করাটা একজন যোগ্য ব্যবস্থাপকের বৈশিষ্ট্য। বিভিন্ন কাজে নিজের কর্মীদের মূল দায়িত্ব নিতে বলা, তাদের মাঝে নেতৃত্বদানের স্বভাব তৈরি করা, সবার প্রতি সহায়ক আচরণ, এসবই আপনার দক্ষ ব্যবস্থাপনা জ্ঞানের পরিচায়ক। এ গুণটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে আপনার ভেতরে তৈরি হবে।

আপনার সিভিকে সমৃদ্ধ করবে :

স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ আপনার সিভিতে একটি আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতা হিসেবে যুক্ত হতে পারে। আপনি যখন কোনো চাকরিতে আবেদন করবেন, তখন আপনার সিভিতে (CV) যদি কোনো স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকে, তবে তা নিয়োগকর্তাদের কাছে বিশেষভাবে আকর্ষণ করবে। মনে করুন, ভাইভা বোর্ডে আপনার পর্যায়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন একাধিক প্রার্থী উপস্থিত। এমতাবস্থায়, আপনার যদি স্বেচ্ছাসেবা করার অভিজ্ঞতা থাকে এবং অন্যদের যদি কোনো স্বেচ্ছাসেবী কাজ করার অভিজ্ঞতা না থাকে, তবে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে অন্যদের থেকে আপনি এগিয়ে থাকবেন। সবাই স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে পারে না, স্বেচ্ছাসেবক হওয়াও একধরনের যোগ্যতা। ভলান্টিয়ারিং আপনাকে শুধু যোগ্যতা সম্পন্নই করবে না বরং বিচক্ষণ ও অভিজ্ঞ করে তুলবে।

পরিশেষে বলতে হয়, বই পড়ে জ্ঞান বৃদ্ধি সম্ভব কিন্তু কাজ না করে দক্ষতা অর্জন কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আর তাই কর্মদক্ষতা অর্জনের সঠিক সময় বেছে নেয়া উচিৎ ছাত্রাবস্থায়।

স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করার সময় অনেক মানুষের সাথে কথা বলতে হয়, ওঠাবসা করতে হয়। ফলে নিজের জড়তা দূর হয়, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়, মনোবলও বাড়ে। আর এসব ইতিবাচক গুণাবলি চাকরির ক্ষেত্রেও অনেক কাজে লাগে।

স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ শুধু আমাদের ক্যারিয়ারকে সফলভাবে গড়তেই সাহায্য করবে না বরং আপনার ধর্মীয়, নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি অর্জনেও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এজন্য আমাদের স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ করার কোনো সুযোগ আসলেই, সে সুযোগকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো উচিৎ।

লেখক : নির্বাহী পরিচালক, সেভ দ্য ফিউচার ফাউন্ডেশন।

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯/গোলাম মোস্তফা মজুমদার/ হাকিম মাহি

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়