Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     রোববার   ১৬ মে ২০২১ ||  জ্যৈষ্ঠ ২ ১৪২৮ ||  ০২ শাওয়াল ১৪৪২

নতুন সামরিক আদেশের বিরুদ্ধে উত্তাল সারাদেশ

|| রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:৪৯, ১৪ মার্চ ২০২১   আপডেট: ১০:১৬, ১৪ মার্চ ২০২১
নতুন সামরিক আদেশের বিরুদ্ধে উত্তাল সারাদেশ

১৩ মার্চ ১৯৭১, ঢাকায় বিক্ষুব্ধ জনতার মিছিল ছবি: সংগৃহীত

একাত্তরের ১৪ মার্চ ছিল রোববার। অন্যদিকে দিনটি ছিল অসহযোগ আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্যায়ের সপ্তম দিবস। এদিনও রাজধানী ঢাকা নগরীসহ সারাদেশ ছিল উত্তাল।

সামরিক সরকার কর্তৃক গতকালের জারি করা ১১৫ নং সামরিক আদেশের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারীসহ সারা দেশের মানুষ ফুঁসে ওঠে।

‘খ’ অঞ্চলের সামরিক আইন প্রশাসকের সদর দপ্তর থেকে জারি করা ওই সামরিক আদেশে বলা হয়, ‘প্রতিরক্ষা খাতের বেতনভুক বেসামরিক কর্মচারীদের আগামী ১৫ মার্চ সকালের মধ্যে কাজে যোগদানের নির্দেশ প্রদান করা হচ্ছে। যারা উক্ত তারিখের মধ্যে কাজে যোগদানে ব্যর্থ হবেন, তাদের ছাঁটাই করা হবে এবং পলাতক হিসেবে তাদেরকে সামরিক আদালতে বিচার করাও হতে পারে।’

অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিক এমপ্লয়িজ অব পাকিস্তানের সমন্বয় কাউন্সিলের সভায় বক্তারা অবিলম্বে এ নির্দেশ বাতিলের দাবি জানান। এরপর তারা এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল সহকারে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে এসে নেতার সঙ্গে দেখা করে চলমান অসহযোগের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।

এদিকে গণতান্ত্রিক রীতি অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় এবং জাতীয় পরিষদ অধিবেশন স্থগিত ঘোষণায় বঙ্গবন্ধু কর্তৃক আহূত অহিংস-অসহযোগের আজকের দিনটিও সাফল্যজনকভাবে শেষ হয়। 

এদিন সকাল সাড়ে ৯টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হন ন্যাপ নেতা ওয়ালী খান। প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ছিলেন প্রাদেশিক আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জাতীয় পরিষদে আওয়ামী লীগ পার্লামেন্টারি পার্টির উপনেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এএইচএম কামারুজ্জামান।

আলোচনা শেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘আমাদের সংগ্রাম স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে বেঁচে থাকার সংগ্রাম। জনগণের সার্বিক স্বাধীনতা অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এ সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। বাংলার জনগণ আজ ঐক্যবদ্ধ। এই ঐক্যবদ্ধ মুক্তিপিপাসু গণমানুষকে পৃথিবীর কোন শক্তিই দাবিয়ে রাখতে পারবে না।’

এদিন অসহযোগ আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহবান জানিয়ে সর্বসাধারণের উদ্দেশে এক দীর্ঘ বিবৃতি দেন।

বিবৃতিতে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘আজ ঐক্যবদ্ধ আপামর জনগণ সামরিক আইনের নিকট নতি স্বীকার না করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। কাজেই যাদের প্রতি সামরিক আইনের সর্বশেষ আদেশ দেয়া হয়েছে তাদের প্রতি আমার অনুরোধ, তারা যেন কোনপ্রকার হুমকির মুখে মাথা নত না করেন। বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষ তাদের ও তাদের পরিবারের পেছনে রয়েছে।’

এই বিবৃতির সঙ্গে জারি করা হয় বঙ্গবন্ধু কর্তৃক নয়া নির্দেশ, যা ঐতিহাসিক অসহযোগ আন্দোলনের ৩৫ নং নির্দেশনামা বলে বিবেচিত। নয়া এই নির্দেশের মাধ্যমে পূর্ববর্তী সকল নির্দেশ ও তার ব্যাখ্যাসমূহ এ নির্দেশের অংশ বলে গণ্য হবে এবং এই নির্দেশ আগামীকাল অর্থাৎ ১৫ মার্চ সোমবার হতে কার্যকর হবে।

বাংলাদেশের জনগণের নামে প্রদত্ত নির্দেশে বলা হয়, বাংলাদেশের সর্বত্র কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের সেক্রেটারিয়েট ও দফতরসমূহ, আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, হাইকোর্ট এবং অন্যান্য আদালতে হরতাল বর্ণিত নির্দেশানুসারে পালিত হবে। বাংলাদেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।  ডিসি এবং মহকুমা প্রশাসকগণ অফিস বন্ধ রেখে স্ব-স্ব এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষাকল্পে কাজ করবে।  প্রয়োজন হলে উন্নয়নমূলক কাজসহ অন্যান্য কাজও করবে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সংগ্রাম পরিষদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে সহযোগিতা করবে। পুলিশ বিভাগ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করবে, প্রয়োজনানুযায়ী আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর সাহায্য গ্রহণ করবে।

ঢাকা/টিপু

সম্পর্কিত বিষয়:

ঘটনাপ্রবাহ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়