Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     রোববার   ১৬ মে ২০২১ ||  জ্যৈষ্ঠ ২ ১৪২৮ ||  ০২ শাওয়াল ১৪৪২

চট্টগ্রাম বন্দরে অস্ত্রের বিশাল চালান নিয়ে সোয়াত জাহাজ

শাহ মতিন টিপু || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০১:১৬, ২৪ মার্চ ২০২১   আপডেট: ১১:৫০, ২৫ মার্চ ২০২১
চট্টগ্রাম বন্দরে অস্ত্রের বিশাল চালান নিয়ে সোয়াত জাহাজ

সোয়াত জাহাজ বোঝাই করে আনা বিপুল অস্ত্রশস্ত্র

একাত্তরের ২৪ মার্চ ছিল লাগাতার চলা অসহযোগ আন্দোলনের ২৩তম দিবস। এইদিন পাকিস্তানি সেনারা রংপুর, সৈয়দপুর, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে জনতার বিক্ষুব্ধ মিছিলের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে।

সৈয়দপুরে সেনাবাহিনী গুলি চালিয়ে ১৫ গ্রামবাসীকে হত্যা করে। পাকিস্তানী সেনা কর্মকর্তারা রংপুরে সান্ধ্য আইন জারি করে। সৈয়দপুরের ঘটনার পর পরই ঢাকায় মিরপুরে অবাঙালীরা বাঙালীদের ওপর পরিকল্পিত আক্রমণ চালায়।

সেনাবাহিনীর গুলিবর্ষণের প্রতিবাদ জানিয়ে ধানমন্ডির ৩২নং বাসভবনে সমবেত বিক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘সৈয়দপুর, রংপুর, চট্টগ্রাম ও জয়দেবপুরে সেনাবাহিনীর কার্যকলাপে আমি শোকাহত। বঙ্গবন্ধু হুঙ্কার ছেড়ে বলেন, জোর করে কোন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হলে তার ফল ভাল হবে না।

এদিকে বঙ্গবন্ধু ও ইয়াহিয়ার মধ্যে আজ কোন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে প্রেসিডেন্ট ভবনে বঙ্গবন্ধু ও ইয়াহিয়ার উপদেষ্টামন্ডলীর মধ্যে প্রায় দু’ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা হয়েছে। বৈঠকের পর তাজউদ্দীন আহমেদ অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী লীগ আলোচনা আর দীর্ঘায়িত করতে ইচ্ছুক নয়।

আলোচনার প্রহসনের মধ্যেই পশ্চিম পাকিস্তান থেকে বিমান বোঝাই করে বিপুল পরিমাণে সৈন্য আর অস্ত্র আনা হয়। এরই অংশ হিসেবে অস্ত্রের সবচেয়ে বড় চালানটি আসে এমভি সোয়াত নামক জাহাজে।

চট্টগ্রাম বন্দরের ১৭ নং জেটিতে নোঙর করা অস্ত্র বোঝাই জাহাজ সোয়াত থেকে পাক সেনাদের অস্ত্র খালাস করতে প্রথমে শ্রমিকরা অস্বীকার করে, পরে বাধা প্রদান করে। এতে সেনাবাহিনী গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই ১৪ জন শ্রমিক নিহত হয়। এরপর সেনা সদস্যরা কিছু অস্ত্র খালাস করে প্রায় ১২টি ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়ার সময় প্রায় ৬০ হাজার শ্রমিক রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে তাদের পথরোধ করে। এ সময় সেনাবাহিনীর নির্বিচার গুলিবর্ষণে কমপক্ষে ২৫০ শ্রমিক নিহত হয়।

সেদিন চট্টগ্রামের এ ঘটনায় সারাদেশের মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। স্রোতের মতো মিছিল বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে এসে সমবেত হয়।

বিকেলে কাপ্তানবাজার থেকে আসা এক নারী জানান, মিলিটারিরা কাল রাতে তার দুই ছেলেকে গুলি করে মেরেছে। বঙ্গবন্ধু গর্জে উঠে তখনি তাজউদ্দীন আহমেদকে নির্দেশ দিলেন প্রেসিডেন্ট ভবনে টেলিফোন করতে। বঙ্গবন্ধু প্রেসিডেন্টের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যালাপ শেষে বলেন, ‘প্লিজ, স্টপ দিস কিলিং।’ 

ঢাকা/টিপু

সম্পর্কিত বিষয়:

ঘটনাপ্রবাহ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়