ঢাকা     বুধবার   ২৯ মে ২০২৪ ||  জ্যৈষ্ঠ ১৫ ১৪৩১

‘নাড়ি ছেঁড়া ধন আমার, আমি তো ফালাইয়ে যাইতে পারমু না’

আসাদ আল মাহমুদ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:২৫, ১২ মে ২০২৪   আপডেট: ১১:২৭, ১২ মে ২০২৪
‘নাড়ি ছেঁড়া ধন আমার, আমি তো ফালাইয়ে যাইতে পারমু না’

ছবি: প্রতীকী

‘নাড়ি ছেঁড়া ধন আমার। বাসায় বাসায় কাজ করে খাওয়াই। বাপে দুই ছেলে-মেয়ে ফালাইয়া গেছে, আমি তো ফালাইয়া যাইতে পারমু না’, কথাগুলো বলছিলেন ত্রিশ বছর বয়সী গৃহকর্মী নাদিরা খাতুন। ১২ মে (রোববার) যাত্রবাড়ীতে  কথা হয় নাদিরা খাতুনের সঙ্গে। তার গ্রামের বাড়ি বরগুনার বামনা উপজেলায়। নাদিরার স্বামী ঢাকায় কাঁচামালের দোকানে চাকরি করতেন। বিয়ের পর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ভাড়া বাসায় নিয়ে আসেন। বিয়ের ছয় বছর পরে আরেক বিয়ে করেন তার স্বামী। একপর্যায়ে রহিমা ও দুই সন্তানের খোঁজ-খবর নেওয়া, ঘর ভাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেন। সন্তানদের নিয়ে নাদিরা বিপাকে পড়েন। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় স্বামীকে খুঁজতে থাকেন। তাতে ব্যর্থ হন। পরে দয়াগঞ্জ এক বাড়িতে ওঠেন। আরেক নারীর সহযোগিতায় বিভিন্নি বাসায় গৃহকর্মীর কাজে শুরু করে দেন। 

তিনি জানান, প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে ওঠেন। দুই সন্তানের জন্য খাবার তৈরি করেন। সকাল ৮টার মধ্যেই কাজে যেতে হয় তার। দুপুরে এক ঘণ্টার বিরতি নিয়ে বাসায় আসেন। এই সময়ের মধ্যে সন্তানদের খাইয়ে, ঘুম পাড়িয়ে আবারও ছোটেন কর্মস্থলে।  বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত ৯টা বাজে।  ফিরে এসে রান্না করা, সন্তানদের খাওয়ানো, পড়ানো শেষে ঘুমাতে যেতে যেতে রাত সাড়ে ১১টা বেজে যায়। জীবনের চাকা এভাবেই ঘোরে তার।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান এশিয়ান সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্টের (এসিডি) এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পোশাক খাতে ২০২০ সালে নারী ও পুরুষ কর্মীর হার দাঁড়ায় যথাক্রমে ৬০ ও ৪০ শতাংশ। নিম্ন আয়ের নারী শ্রমিকের অধিকাংশই পারিবারিকভাবে সুখী হন না। স্ত্রী-সন্তান ছেড়ে চলে যান অনেক পুরুষ। সন্তানকে নানি-খালার কাছে রেখে কাজ চালিয়ে যান নারী। কেউ কেউ সন্তানদেরও শ্রমে যুক্ত করেন। শুধু পোশাকশিল্পেই নয়, উপকূলীয় অঞ্চলেও পুরুষদের বহুবিবাহের ঘটনা বেশি ঘটে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে স্বামী মারা গেলেও সংসারের হাল ধরেন নারী।

রাজধানীর সায়দাবাদে মালা বিক্রি করেন ঝুনু বেগম (৩০)। সংসারের কাজকর্ম শেষে মোতালেবের মা মালা গাঁথেন। সেই মালা ঘুরে ঘুরে বিক্রি করেন তিনি।  দিনে ২০-২৫টি বিক্রি হয়। একেকটায় লাভ হয় ১০ টাকা। কুমিল্লার দেবিদ্বারে  গ্রামে তার বাড়ি। তার বাবা পরিবার ছেড়ে চলে গেছেন। দিনে যা আয় হয়, তা দিয়ে চাল-আলু কিনে বাড়ি যায় সে।

রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন রহিমক। একমাত্র সন্তান সামিয়াকে নিয়েই তার সংসার। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে লুনার স্বামী মারা যান। সামিয়ার বয়স তখন এক বছর। সেই থেকে শুরু একাকী সংগ্রাম। চাকরির পাশাপাশি একজন আদর্শ মা হিসেবে সন্তানকে দেখভাল করছেন।

জেন্ডার বিশেষজ্ঞ মনজুন নাহার বলেন, গর্ভে সন্তান ধারণ করলেই যে একজন মা হন, তা নয়। তাকে মানসিকভাবেও মা হয়ে উঠতে হয়। শত বাধা-বিপত্তিতেও মানসিকভাবে শক্ত বলেই একজন প্রকৃত অর্থে মা।

শাশ্বত রূপের মায়েদের সম্মান জানাতেই আজ পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব মা দিবস’। আধুনিক বিশ্বে মে মাসের দ্বিতীয় রোববারটিকে ‘মা দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে, যার সূত্রপাত ১৯০৮ সালের ৮ মে। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে এই দিবসটি। 

/এএএম/লিপি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়