‘জামাই পিঠা’ নিয়ে আকাশসম স্বপ্ন মালেকের!
মামুন || রাইজিংবিডি.কম
‘জামাই পিঠা’ তৈরিতে ব্যস্ত মালেক দম্পতি
মোঃ মামুন চৌধুরী, হবিগঞ্জ : একদিন বেকার ছিলাম। গ্রামে নিজ বাড়িতে বেকার থাকতে ভাল লাগত না। ভাবতাম কি ভাবে চলব। চলে এলাম ঢাকা শহরে। শুরু করলাম পিঠা বিক্রি। এক সময় নিজেই পিঠা তৈরি শুরু করলাম। বিক্রি করে লাভবান হচ্ছিলাম। তারপরও বাসা ভাড়াসহ সব খরচ করে ভবিষ্যতের জন্য কিছুই জমাতে পারছিলাম না।
শেষে সিদ্ধান্ত নিলাম হবিগঞ্জে চলে আসব। শায়েস্তাগঞ্জে এক আত্মীয় বসবাস করছে। তার পরিচয়ে সাবাসপুর এলাকায় বাসা ভাড়া নিলাম। এসব কথা বলেছেন, সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়ার গিয়ালার বাসিন্দা আব্দুল গফুরের ছেলে আব্দুল মালেক (৪০)।
তিনি প্রায় দুই মাস হলো এখানে এসেছেন। আর এখানেও জীবিকার জন্য পিঠা বিক্রিকেই বেছে নিয়েছেন। তার একটি পিঠা ১০টাকায় বিক্রি হয়। এ পিঠার নাম দিয়েছেন ”জামাই পিঠা”। পিঠা দেখতে যেমন সুন্দর। খেতেও খুব সু-স্বাদু।
আলাপকালে আব্দুল মালেক জানান, তিনি প্রতিদিন অন্তত হাজারখানেক পিঠা তৈরি করেন। দিন দিন চাহিদা বাড়ছে বলেও জানান তিনি। আর এসব তৈরি পিঠা বিক্রি করেন ৮ থেকে ১০ জন হকার। হকাররা একটি পিঠা বিক্রি করে পাচ্ছে ২ টাকা। এ হিসেবে একজন হকার মাত্র কয়েক ঘন্টায় দুইশ থেকে আড়াইশ টাকা আয় করতে পারছে।
বর্তমানে লোকজনের কাছে এ পিঠা অত্যন্ত প্রিয় হয়ে উঠেছে। বাজারে পিঠা নিয়ে গেলেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। দেখা যায়, আব্দুল মালেক ও তার স্ত্রী দুজনে মিলে পিঠা তৈরি করছেন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ পিঠা তৈরি হচ্ছে। এরপর হকাররা অন্য কাজ সেরে এখানে এসে পিঠা নিয়ে জেলার বিভিন্নস্থানে লোকজনের বিক্রি করছে। পিঠাগুলো ময়দা, চিনি,আতপ চালের গুড়া মিশ্রিত করে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে তৈরি বলে জানান এই দম্পতি।
মালেক জানান, পিঠা তৈরি করে বিক্রি’র পরে ভালই লাভ থাকছে। খাবারসহ বাসা ভাড়া দিয়েও কিছু টাকা জমাতে পারছেন। তিনি অচিরেই ‘ভালবাসা পিঠা’ বিক্রির প্রস্তুতি নিয়েছেন বলেও জানান। আব্দুল মালেকের লক্ষ্য হচ্ছে, ব্যবসার প্রসার ঘটিয়ে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান তৈরি করা। মালেকের স্বপ্ন, একটি ফ্যাক্টরি গড়ে বিদেশে পিঠা রপ্তানি।
রাইজিংবিডি/হবিগঞ্জ/১৪ ডিসেম্বর, ২০১৪/মামুন/টিপু
রাইজিংবিডি.কম
হাম ও হামের উপসর্গে একদিনে সর্বোচ্চ ১৭ শিশুর মৃত্যু