ঢাকা     সোমবার   ১৫ এপ্রিল ২০২৪ ||  বৈশাখ ২ ১৪৩১

মুসলিম বিবাহ আইন বাতিল করল আসাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:০২, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪   আপডেট: ১২:০৩, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
মুসলিম বিবাহ আইন বাতিল করল আসাম

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার রাজ্যের মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন আইন বাতিল করেছে। সব ধর্ম-বর্ণের জন্য অভিন্ন সিভিল কোড আইন (ইউসিসি) কার্যকরের লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে আসাম। 

রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে বলেছেন, ‘আসাম মুসলিম ম্যারেজ অ্যান্ড ডিভোর্স অ্যাক্ট ১৯৩৫’ আইন বাতিল করা হয়েছে।’ 

মুখ্যমন্ত্রী বলেন,  ‘এই আইন বাতিলের মাধ্যমে আসামে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলো।’ 

আসাম সরকার বলছে, এই আইনে (বাতিলকৃত আইন) ছেলে ও মেয়ের বয়স যথাক্রমে ২১ ও ১৮ না হলেও বিয়ে দেওয়ার সুযোগ রেখেছে। আইনে বিয়ে ও তালাকের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক ছিল না। নিবন্ধন প্রক্রিয়াটি ছিল অনানুষ্ঠানিক। আইন বাস্তবায়নের জন্য নজরদারিও কম ছিল।এই আইনের অধীনে আর কোনো মুসলিম বিবাহ বা বিবাহবিচ্ছেদ নিবন্ধিত হবে না। সব মুসলমান বিবাহ-সম্পর্কিত বিষয় এখন বিশেষ বিবাহ আইনের অধীনে পরিচালিত হবে।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, এর আগে ভারতের আরেক রাজ্য উত্তরাখন্ডের সরকার সব ধর্ম-বর্ণের জন্য একই ধরনের বিয়ে, তালাক ও উত্তরাধিকারসহ অন্যান্য সাধারণ আইন প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। চলতি মাসের শুরুর দিকে ভারতের প্রথম রাজ্য হিসেবে উত্তরাখন্ড রাজ্য ইউসিসি আইন পাস করে। আর এবার আসামের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারও একই ধরনের পদক্ষেপ নিলো।

ইউসিসি নিয়ে ভারতের মুসলিম জনগোষ্ঠীর অনেক নেতা আপত্তি তুলেছেন। তাদের দাবি, এর মাধ্যমে মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিয়ে, তালাক, উত্তরাধিকারসহ নানা দেওয়ানি বিধিতে হস্তক্ষেপ করতে চাইছে বিজেপি।

অন্যদিকে বিজেপি দাবি করছে, তারা ভারতের জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব সম্প্রদায়ের মানুষের একক দেওয়ানি বিধি কার্যকর করতে চায় তারা। অর্থাৎ বিয়ে, বিচ্ছেদ, সন্তান দত্তকগ্রহণ, সম্পত্তি বণ্টন থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে একই বিধান কার্যকর করতে চায় কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দলটি। বর্তমানে সব রাজ্যের ওপর বিজেপির নিয়ন্ত্রণ নেই বলে বিজেপি শাসিত রাজ্যে প্রথমে এই আইন চালু করা হচ্ছে বলে পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন।

/ফিরোজ/

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়