ঢাকা     শনিবার   ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৪ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

ঝাড়খণ্ড ‘মিনি-বাংলাদেশে’ পরিণত হচ্ছে, অভিযোগ আসামের মুখ্যমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:০১, ২৯ অক্টোবর ২০২৪   আপডেট: ১৪:৩৪, ২৯ অক্টোবর ২০২৪
ঝাড়খণ্ড ‘মিনি-বাংলাদেশে’ পরিণত হচ্ছে, অভিযোগ আসামের মুখ্যমন্ত্রীর

ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারে ঝড় তুলেছে বিজেপি। সোমবার (২৮ অক্টোবর) আসামের মুখ্যমন্ত্রী ও ঝাড়খণ্ডের বিজেপির নির্বাচনী সহ-ইনচার্জ হিমন্ত বিশ্বশর্মা সেখানে প্রচারে গিয়ে ঝাড়খণ্ড ‘মিনি বাংলাদেশে’ পরিণত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন।

আসামের কট্টর হিন্দুত্ববাদী এই নেতা অবশ্য এবারই প্রথম নয়, এর আগেও বহুবার বাংলাদেশ ও মুসলিম বিদ্বেষী মন্তব্য করে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন। 

গতকাল ঝাড়খণ্ডে তিনি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে রাজ্য সরকারের দিকে তোপ দাগলেন। তার অভিযোগ, এখানে বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশ ঘটছে রাজ্য সরকারের ভোট ব্যাংক রাজনীতির কারণে। হেমন্ত সোরেনের নেতৃত্বাধীন সরকার রাজ্যকে ‘মিনি বাংলাদেশে’ পরিণত করছেন বলে অভিযোগ তুলেন তিনি। খবর এএনআইয়ের।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, অনুপ্রবেশকারীরা ঝাড়খণ্ডের সংস্কৃতি ও ‘আদিবাসী অস্তিত্ব’কে ব্যাহত করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই প্রবণতা চলতে থাকলে উপজাতীয় রাজ্য একটি শক্তিশালী জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের সম্মুখীন হতে পারে।

তার দাবি, এই অনুপ্রবেশ ঠেকাতে হলে রাজ্যে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতে হবে। তা হলেই জনজাতিদের স্বার্থ রক্ষা পাবে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে আসামের মতো ঝাড়খণ্ডেও এনআরসি কার্যকর করা হবে বলে জানান তিনি। 

ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ‘অনুপ্রবেশকারীরা ঝাড়খণ্ডের সংস্কৃতি এবং ‘আদিবাসী অস্তিত্ব’-তে ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ঝাড়খণ্ড জনসংখ্যাগত পরিবর্তন দেখতে পাবে এবং সাঁওতাল পরগনা অঞ্চল একটি মিনি-বাংলাদেশে পরিণত হবে।’

বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা তিনটি ঘোষণা দিয়েছি- বিজেপি সরকার গঠন করলে এনআরসি কার্যকর করা হবে ও অনুপ্রবেশকারীদের তাড়িয়ে দেওয়া হবে। দ্বিতীয়ত, যদি কোনো অভিবাসী কোনো আদিবাসী মেয়েকে প্রলুব্ধ করে বিয়ে করে, তাহলে তাদের সন্তানরা এসটি-এর সুবিধার অধিকারী হবে না। তৃতীয়, যদি কোনো অভিবাসী কোনো উপজাতি মেয়েকে বিয়ে করে, তাহলে আমরা নিশ্চিত করব যে, মেয়েটি উপজাতির প্রধানের জন্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে না।’

আসামের মুখ্যমন্ত্রী ঝাড়খণ্ডের হেমন্ত সোরেনের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ রাজ্যে প্রবেশ করতে দেওয়ার অভিযোগ করেন। হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, ক্ষমতায় এলে বিজেপির মূল অগ্রাধিকার হবে সাঁওতাল পরগনা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের তাড়িয়ে দেওয়া। সাঁওতাল পরগনায় উপজাতীয় জনসংখ্যা কমছে এবং মুসলমান সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা বাড়ছে।

হিমন্ত বিশ্বশর্মা আসামের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘আমি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছি। ভগবান হনুমানও তো লঙ্কায় আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন...আমাদেরও ঝাড়খণ্ডে তেমন আগুন জ্বালিয়ে দিতে হবে।’

আসামের মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রত্যেক মুসলমান অনুপ্রবেশকারী না, কিন্তু প্রতি ৫ বছরে মুসলমানদের জনসংখ্যা কীভাবে বাড়ছে? একটি পরিবার কি ১০-১২টি সন্তানের জন্ম দিচ্ছে? যদি পরিবারগুলো এতগুলো সন্তানের জন্ম না দেয়, তাহলে অবশ্যই বাইরে থেকে মানুষ আসছে। বাংলাদেশ থেকে মুসলমানরা ঝাড়খণ্ডে এসে এখানকার ভূমিপুত্রদের উৎখাত করে রাজ্য দখল করতে চাইছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হবে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বের করে দেওয়া ও নারীদের জন্য ন্যয়বিচার নিশ্চিত করা।’

এর আগে ঝাড়খণ্ডের বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে অভিযোগ করে বলেছিলেন, ভোট ব্যাংক রাজনীতির কারণে কংগ্রেস বা ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা আদিবাসীদের নিয়ে চিন্তিত নয়। 

নিশিকান্ত দুবে বলেন, সাঁওতাল পরগনা অঞ্চলে মুসলমান জনসংখ্যার ১১ শতাংশ বৃদ্ধির পিছনে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত না পাঠানো পর্যন্ত বিজেপি শান্তিতে বসবে না।

ঝাড়খণ্ড বিধানসভার ৮১টি আসনের জন্য দুই দফায় ১৩ নভেম্বর এবং ২০ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২৩ নভেম্বর ভোট গণনা হবে। ঝাড়খণ্ডে মোট ২ কোটি ৬০ লাখ ভোটার ভোট দেওয়ার যোগ্য। এর মধ্যে ১ কোটি ৩১ লাখ পুরুষ এবং ১ কোটি ২৯ লাখ নারী ভোটার রয়েছে।

/ফিরোজ/

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়