ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ||  পৌষ ২৪ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

যুক্তরাষ্ট্রকে ৫ কোটি ব্যারেল তেল দেবে ভেনেজুয়েলা: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:১৮, ৭ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১০:২৬, ৭ জানুয়ারি ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রকে ৫ কোটি ব্যারেল তেল দেবে ভেনেজুয়েলা: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, একটি আকস্মিক মার্কিন সামরিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভেনেজুয়েলা ৫ কোটি ব্যারেল পর্যন্ত তেল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘হস্তান্তর করবে’। খবর বিবিসির।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, এই তেল বাজারমূল্যে বিক্রি করা হবে। তিনি আরো যোগ করেন, এই অর্থ তার নিয়ন্ত্রণাধীন থাকবে এবং তা ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।

আরো পড়ুন:

এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, আগামী ১৮ মাসের মধ্যে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের তেল শিল্প ‘পুরোদমে চালু’ হবে এবং সেখানে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ আসবে বলে তিনি আশা করছেন। তবে বিশ্লেষকরা এর আগে বিবিসিকে জানিয়েছিলেন, ভেনেজুয়েলার পূর্বের উৎপাদন ক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে কয়েক শ’ বিলিয়ন ডলার এবং প্রায় এক দশক সময় লেগে যেতে পারে।

মঙ্গলবার ট্রুথ সোশ্যাল-এ একটি পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “আমি খুব আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল উচ্চমানের, নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করবে।”

তিনি আরো বলেন, “এই তেল বাজারমূল্যে বিক্রি করা হবে এবং সেই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার নিয়ন্ত্রণে থাকবে, যাতে এটি ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের উপকারে ব্যবহার করা নিশ্চিত করা যায়!”

মাদুরোকে মাদক পাচার ও অস্ত্র মামলার বিচারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার পরদিন এবং ডেলসি রদ্রিগেজ (যিনি আগে ভেনেজুয়েলার ভাইস-প্রেসিডেন্ট ছিলেন) অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার একদিন পর ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।

সোমবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “তেল উৎপাদনকারী হিসেবে ভেনেজুয়েলার অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভালো, কারণ এটি তেলের দাম কম রাখতে সাহায্য করবে।”

বিবিসি-র সহযোগী সংবাদমাধ্যম সিবিএস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বড় তেল কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিরা চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা করছেন। তবে বিশ্লেষকরা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ এবং দামের ওপর ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার বড় কোনো প্রভাব পড়ার বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

তাদের মতে, কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ করার আগে সেখানে একটি স্থিতিশীল সরকার আছে কি না- সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে চাইবে। আর বিনিয়োগ করলেও সেই প্রকল্পগুলো থেকে সুফল পেতে কয়েক বছর সময় লাগবে।

ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার তেলের অবকাঠামো মেরামত করতে সক্ষম। দেশটির আনুমানিক ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের মজুদ রয়েছে- যা বিশ্বের বৃহত্তম প্রমাণিত মজুদ। তবে ২০০০-এর দশকের শুরু থেকেই তাদের তেল উৎপাদন কমছে।

ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার এই তেলসম্পদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাতের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখছে। তবে দেশটির তেল উৎপাদন বাড়ানো মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য বেশ ব্যয়বহুল হবে। তাছাড়া ভেনেজুয়েলার তেল খুব ভারী এবং তা পরিশোধন করা কঠিন। বর্তমানে সেখানে একমাত্র মার্কিন কোম্পানি হিসেবে শেভরন কাজ করছে।

ভেনেজুয়েলার শাসন ক্ষমতা থেকে মাদুরোকে জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিকে জায়েজ করতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ভেনেজুয়েলা ‘একতরফাভাবে মার্কিন তেল দখল ও চুরি করেছিল।’ মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও একই সুরে এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, “ভেনেজুয়েলা মার্কিন তেলের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছিল এবং সম্প্রতি পর্যন্ত তারা সেই চুরি করা সম্পদ দিয়ে ধনী হয়েছে এবং তাদের মাদক-সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করেছে।”

তবে বিবিসির অর্থনীতি বিষয়ক সাংবাদিক বেন চু জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলা মার্কিন তেল ‘চুরি’ করেছে- এমন দাবি খুবই দুর্বল। কারণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেনেজুয়েলার তেল আসলে কখনোই ভেনেজুয়েলা ছাড়া অন্য কারো মালিকানাধীন ছিল না।

ঢাকা/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়