আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে খামেনিকে হত্যা: বাংলাদেশ
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
আন্তর্জাতিক আইন ও রীতি লঙ্ঘন করে হামলা চালিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে করে বাংলাদেশ।
সোমবার (২ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এমন অবস্থান তুলে ধরে লিখেছে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার খবরে বাংলাদেশ মর্মাহত।
বিজ্ঞপ্তিটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করা হয়েছে। খামেনি নিহত হওয়ার খবর তেহরান নিশ্চিত করার পরদিন ঢাকা এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানাল।
কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এটা আন্তর্জাতিক আইন ও রীতির লঙ্ঘন। এ ঘটনায় প্রাতৃপ্রতীম শোকাহত ইরানিদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”
যুদ্ধ ঘোষণা ছাড়াই শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুগল হামলায় কেঁপে ওঠে তেহরান। লক্ষ্যবস্তু করা হয় খামেনিকে। ওইদিনের হামলায় খামেনিসহ ইরানের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “সংঘাত কোনো সমাধান বয়ে আনে বলে মনে করে না বাংলাদেশ, বরং প্রযোজনীয় আলোচনা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং আন্তর্জাতিক আইন প্রতিপালন করার মাধ্যমেই বিরোধ নিষ্পত্তি করা সম্ভব।”
শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুগল হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে কয়েকটি দেশের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল ইরান। রবিবার (১ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তিতে ইরানের নাম উল্লেখ না করে ওইসব হামলার নিন্দা করেছিল ঢাকা।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের তৃতীয় দিন চলছে। আন্তর্জাতিক রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, এরই মধ্যে ইরানে ১৩১টি শহরে হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৫৫৫ জন ইরানি।
এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলেরও বেশকয়েককজন নিহত হয়েছেন। এখন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উভয় পক্ষে হতাহত বাড়ছে। এই যুদ্ধের অস্থিরতায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে বাজার অর্থনীতিতে প্রভাব পড়া শুরু করেছে।
ঢাকা/রাসেল