যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নেই: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি
প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, সামরিক আক্রমণের কারণে এবার আর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতেও আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি তেহরানের টেবিলে থাকবে না।
পিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাঘচি বলেন, “আমাদের অত্যন্ত কষ্টদায়ক অভিজ্ঞতা রয়েছে। এজন্য আমেরিকানদের সঙ্গে আলোচনার বিষয় এবার টেবিলে থাকবে না।”
পূর্ববর্তী কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, “তেহরান সর্বদা বিশ্বাসের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিল, কিন্তু এর জবাবে পুনরায় শত্রুতা মোকাবিলা করতে হয়েছে।”
তিনি বলেন, “গত বছরের জুনে আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলাম, কিন্তু আলোচনার মাঝেই তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়। প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারা হামলার কোনো পরিকল্পনা রাখে না এবং ইরানের পারমাণবিক প্রশ্ন শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করতে চায়।”
তিন দফা আলোচনার পরও যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে, ফলে তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতেও আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা আর এজেন্ডায় থাকবে না।
মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের পরিবর্তন নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এটি ধারাবাহিকতা এবং কিছুটা স্থিতিশীলতার প্রতীক।” নতুন নেতার নীতিগত অবস্থান সময়মতো প্রকাশ পাবে বলেও তিনি জানান।
যুদ্ধের দশম দিনে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দ্রুত বিজয় অর্জনের লক্ষ্য ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, “তারা কয়েক দিনের মধ্যে দ্রুত বিজয় এবং শাসন পরিবর্তনের লক্ষ্য স্থির করেছিল, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে।”
বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার বিষয়ে আব্বাস আরাঘচি বলেন, “এটি আমাদের পরিকল্পনা নয়। তেলের উৎপাদন ও পরিবহন ধীর বা বন্ধ হয়েছে আমাদের কারণে নয়, বরং ইসরায়েল ও আমেরিকার আক্রমণের ফলে।”
দীর্ঘমেয়াদী আঞ্চলিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে কি না সে বিষয়ে তিনি বলেন, “যদি তারা নিজেদের প্রতিষ্ঠান রক্ষা করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারে, তবে আমাদের জনগণ রক্ষার অধিকার আরো বেশি।”
ঢাকা/ইভা