ঢাকা     শুক্রবার   ১০ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২৮ ১৪৩২ || ২২ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করতে যাচ্ছেন চাঁদের উল্টো পিঠ দেখে আসা নভোচারীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৫৮, ১০ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ২১:০১, ১০ এপ্রিল ২০২৬
প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করতে যাচ্ছেন চাঁদের উল্টো পিঠ দেখে আসা নভোচারীরা

পৃথিবীর বাইরে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দূরবর্তী স্থানে মানুষের যাওয়ার রেকর্ড গড়া আর্টেমিস-২ এর নভোচারীরা আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ফিরছেন। স্থানীয় সময় বিকেলে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে তিনটি বিশাল প্যারাসুটের সাহায্যে অবতরণ করবেন তারা। 

সান ডিয়েগোর উপকূলে এই অবতরণটি একটি ১০ দিনের চন্দ্রাভিযানের সমাপ্তি চিহ্নিত করবে। এই অভিযানের বদৌলতে তিনজন আমেরিকান এবং একজন কানাডিয়ান ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে অ্যাপোলো প্রোগ্রামের শেষ অভিযানের পর পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথের বাইরে ভ্রমণকারী প্রথম মানুষ হয়েছেন।

চাঁদের উল্টো পিঠের চারপাশে অত্যন্ত সফল পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের পর এটি মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা এবং তার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের জন্য একটি নতুন সূচনার ইঙ্গিত দিয়েছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে অভিযানের প্রতিটি উদ্দেশ্য পূরণ করেছে বলে মনে হচ্ছে।

ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ১ এপ্রিল ১০ দিনের মিশনে চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা করেন নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ ও জেরেমি হ্যানসেন। মিশন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যানকে সাথে নিয়ে এই চারজন সম্মিলিতভাবে পৃথিবী থেকে তাদের পূর্ববর্তী যেকোনো মানুষের চেয়ে বেশি দূরত্ব অতিক্রম করেন, যা ছিল ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৬ মাইল। এটি ১৯৭০ সালের এপ্রিলে অ্যাপোলো ১৩ ক্রুদের গড়া পূর্ববর্তী রেকর্ডের চেয়ে চার হাজার মাইলেরও বেশি। এই নভোচারীরা চাঁদের কক্ষপথে ভ্রমণ করলেও চাঁদের পৃষ্ঠে নামেননি।

নভোচারীদের এই যাত্রা সবসময় মসৃণ ছিল না। একটি ছোট ক্যাম্পার ভ্যানের আকারের ক্যাপসুলে থাকা ওরিয়নের ত্রুটিপূর্ণ টয়লেটটি একাধিকবার বিকল হয়ে যায়, যার ফলে সাময়িকভাবে মূত্র সংগ্রহের ব্যাগ ব্যবহার করতে হয় এবং ক্রিস্টিনা কোচকে প্লাম্বারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে উড়ন্ত অবস্থায় টয়লেট মেরামত করতে হয়।

মিশনের কার্যনির্বাহী অংশের সময়, নভোচারীরা ওরিয়নের জীবনধারণ ব্যবস্থা, বিকিরণ শনাক্তকারী যন্ত্র, পরবর্তী প্রজন্মের স্পেসস্যুট মূল্যায়ন করেন এবং অন্যান্য কার্যক্রম পরীক্ষা করেন যা ভবিষ্যতের গভীর মহাকাশ অভিযান এবং আর্টেমিস কর্মসূচির জন্য নাসার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। এই পরিকল্পনার মধ্যে এক দশকের মধ্যে নির্মিতব্য ২০ বিলিয়ন ডলারের একটি উচ্চাভিলাষী চন্দ্র ঘাঁটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ঢাকা/শাহেদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়