ইরানে হামলা ‘বিপর্যয়কর ভুল’: জার্মানির প্রেসিডেন্ট
জার্মানির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক ভাল্টার স্টাইনমায়ার
ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ সামরিক অভিযানের নিন্দা জানিয়েছেন জার্মানির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক ভাল্টার স্টাইনমায়ার। এই সংঘাতকে একটি ‘রাজনৈতিকভাবে বিপর্যয়কর ভুল’ এবং ‘পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব ছিল এমন একটি অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ’ বলে বর্ণনা করেছেন তিনি।
শুক্রবার (২২ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (২১ মে) জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৭৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এবং কূটনীতিকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক নীতি নির্ধারণী ভাষণে প্রেসিডেন্ট স্টাইনমায়ার এই মন্তব্য করেন।
বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি (জেসিপিওএ) থেকে একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বের হয়ে যাওয়াকেই বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মূল কারণ হিসেবে দায়ী করেন জার্মান প্রেসিডেন্ট।
স্টাইনমায়ার নিজে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন এই চুক্তিটি স্বাক্ষর করার প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, “যদি ইরানের সঙ্গে ২০১৫ সালের চুক্তিটি রক্ষা করা যেত, তাহলে আমরা বর্তমানে যে পরিণতিগুলো প্রত্যক্ষ করছি তা সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব হতো।”
জার্মান প্রেসিডেন্ট তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, ইরানের ওপর এই সামরিক হামলার সপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র যেসব যুক্তি বা অজুহাত দেখাচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি ও বিশ্ব দরবারে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদের এই সামরিক পদক্ষেপকে একটি ‘দুঃসাহসিকতা’ ও ‘মারাত্মক রাজনৈতিক ভুল’ হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি মনে করিয়ে দেন যে, চুক্তি বজায় থাকার সময় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সামরিক আগ্রাসন পরিস্থিতিকে ঠিক সেই বিপজ্জনক খাদের কিনারে নিয়ে গেছে, যার ব্যাপারে ইরান দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছিল।
প্রেস টিভির মতে, জার্মান প্রেসিডেন্টের খোলাখুলি এই মন্তব্য মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের প্রতি পশ্চিমা সমর্থনের বাহ্যিক আবরণে বড় ধরনের একটি ফাটলের ইঙ্গিত।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমটি আরো বলেছে, এই যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব ছিল এবং জেসিপিওএ রক্ষা করলে আজকের সংকট প্রতিরোধ করা যেত- তা প্রকাশ্যে স্বীকার করার মাধ্যমে জার্মানির প্রেসিডেন্ট মূলত ইরানের ধারাবাহিক অবস্থানকেই বৈধতা দিয়েছেন। তেহরানের দীর্ঘদিনের অবস্থান হলো- আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার পথ কোনো নিষেধাজ্ঞা বা বোমা নয়, বরং কূটনীতি এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা।
ঢাকা/ফিরোজ
চ্যালেঞ্জিং হলেও এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তির হবে: সড়কমন্ত্রী