ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৬ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ১২ ১৪৩৩ || ১০ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

হুমায়ূন আহমেদ ক্যানসারে মারা যাননি : আহসান হাবীব

তাপস রায় || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:১৭, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৪   আপডেট: ১২:৩৭, ১৩ নভেম্বর ২০২৩
হুমায়ূন আহমেদ ক্যানসারে মারা যাননি : আহসান হাবীব

আহসান হাবীব জনপ্রিয় কার্টুনিস্ট এবং মাসিক স্যাটায়ার ম্যাগাজিন ‘উন্মাদ’ সম্পাদক এবং প্রকাশক। বাংলাদেশের প্রথম সারির এই কার্টুনিস্টের কার্টুন আঁকার হাতেখড়ি হয় নিজের ঘরে বসেই। তার আঁকা কার্টুন প্রথম প্রকাশিত হয় ‘ডেইলি অবজারভার’-এ ১৯৭৫ সালে। ভূগোল বিষয়ে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে ব্যাংকের চাকরি করেছেন কিছুদিন। কিন্তু গৎবাঁধা চাকরিতে মন টেকেনি। হাল ধরেছেন ‘উন্মাদ’-এর। তার আরেকটি প্রিয় বিষয় জোকস। কার্টুন, জোকস-এর পাশাপাশি রম্য লেখক হিসেবেও তিনি অসাধারণ জনপ্রিয়। আহসান হাবীবের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তাপস রায়।  


তাপস রায় : আপনার বাবা সাহিত্যমনা ছিলেন। পরবর্তীতে আপনাদের তিন ভাইয়ের মধ্যেই এই গুণটি আমরা দেখতে পাই। প্রশ্ন হলো, এ ক্ষেত্রে আপনার বাবার প্রভাব কতটুকু?
আহসান হাবীব : ছেলেবেলায় আমাদের বাড়িতে লেখালেখির প্রতিযোগিতা হতো। বাবা এটা করতেন। ভালো হলে পুরস্কারও পাওয়া যেত। সপ্তাহে অন্তত একটি লেখা তার কাছে জমা দিতে হতো। আমরা ভাই বোনেরা কেউ গল্প, কেউ কবিতা লিখতাম। আমি তখন ভীষণ উৎসাহে গল্প লিখে বাবাকে দেখাতাম। এমনকি বাবা ঘুমিয়ে থাকলে ডেকে তুলে গল্প পড়ে শোনাতাম। তারপর সেই গল্প আদৌ হয়েছে কি হয়নি তোয়াক্কা না করেই নাছোড়বান্দা হয়ে বাবার কাছে পুরস্কার চাইতাম। বাবা তখন বাধ্য হয়ে মাকে বলতেন, আমাকে চার আনা দিতে।
শুধু আমাদের ভাই-বোন নয়, পড়শীদের ছেলেমেয়েদেরও বাবা এভাবে উৎসাহ দিতেন। বাবা পুলিশে চাকরি করতেন, অথচ সাহিত্য, সংস্কৃতির প্রতি তার ভীষণ অনুরাগ ছিল। হুমায়ূন আহমেদের হিমুর চরিত্রটি কিন্তু বাবার কাছ থেকেই পাওয়া। একবার তিনি ইচ্ছে হওয়ায় বেতনের পুরো টাকা দিয়ে ঘোড়া কিনে বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন। সেই সময় তার একটি ক্যামেরাও ছিল। নিজেই ছবি তুলে ওয়াশ করতেন। সময় পেলেই রাতে বাড়িতে গানের আসর বসাতেন, জঙ্গলে ঘুড়তে যেতেন-এমন সব অদ্ভূত শখ ছিল তার। হিমু কিন্তু খুব শব্দ করে কুলি করে। এই স্বভাবটা বাবারও ছিল। হুমায়ূন আহমেদ সেখান থেকেই এটা নিয়েছেন। সুতরাং তার প্রভাব কতটা ছিল বোঝাই যাচ্ছে।
আম্মা ক্লাস টুতে বৃত্তি পেয়েছিলেন। তার কিছু গল্প ‘ডিটেক্টিভ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বাবাও লিখতেন। বাবার উৎসাহেই আমরা ছেলেবেলায় বাড়িতে হাতে লিখে পত্রিকা বানাতাম। সেগুলোর বিশেষ সংখ্যা হতো। যেমন বিয়ে সংখ্যা, ভ্রমণ সংখ্যা। এই রেওয়াজ এখনও আছে।

তাপস রায় : গল্পকার নয়, আপনার অন্যতম পরিচয় আপনি কার্টুনিস্ট। কার্টুনে আগ্রহী হলেন কীভাবে?
আহসান হাবীব : কখনও ভাবিনি কার্টুন আঁকব। আসলে মেজ ভাই মুহম্মদ জাফর ইকবালকে দেখেই বিষয়টির প্রতি আগ্রহ জন্মে। অনেকেই জানেন না, তিনি কিন্তু কার্টুন আঁকতেন। ১৯৭২ সালে দৈনিক ‘গণকণ্ঠ’ পত্রিকায় তিনি এঁকেছেন।

তাপস রায় : ‘উন্মাদ’-এর সঙ্গে যুক্ত হলেন কীভাবে?
আহসান হাবীব : ইশতিয়াক হোসেন, কাজী খালিদ আশরাফ ও সাইফুল হকের উদ্যোগে ১৯৭৮ সালের মে মাসে ‘উন্মাদ’ ত্রৈমাসিক হিসেবে প্রথম প্রকাশিত হয়। তখন ৬৪ পৃষ্ঠা উন্মাদের মূল্য ছিল ২ টাকা। আমি দ্বিতীয় সংখ্যা থেকে এর সঙ্গে যুক্ত হই। কিন্তু ভীষণ পাঠকপ্রিয় হওয়া সত্ত্বেও ৮ সংখ্যা পর্যন্ত বেরুনোর পর হঠাৎ উন্মাদের যাত্রা থেমে যায়। কারণ সম্পাদক, প্রকাশকেরা তখন যে যার অন্য ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন। অনেকে ক্যারিয়ার ডেভেলপের জন্য বিদেশ যান। আমিও ব্যাংকের চাকরিতে যোগ দিই। কিন্তু গৎবাঁধা ব্যাংকের চাকরি ভালো লাগেনি। ভাবলাম, ‘উন্মাদ’ নতুন করে শুরু করলে কেমন হয়? সেই ভাবনা থেকেই আমি মাসিক হিসেবে নতুন করে ‘উন্মাদ’ শুরু করি।

তাপস রায় : ৩৬ বছর ধরে ‘উন্মাদ’ প্রকাশিত হচ্ছে। একটি স্যাটায়ার ম্যাগাজিনের এই দীর্ঘ সময় ধরে প্রকাশের ঘটনা বিরল। বিষয়টি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
আহসান হাবীব : এটার কারণ ‘উন্মাদ’ সব সময় তরুণদের পত্রিকা হয়েই থেকেছে। কিশোর, তরুণরা যখন একটু বড় হয়ে যায় তখন তারা আর উন্মাদের পাঠক থাকে না। সে জায়গাটা সদ্য তরুণেরা দখল করে নেয়। তাছাড়া উন্মাদের একটা নিজস্ব ক্যারেক্টার আছে। আমরা উন্মাদের মাধ্যমে সামাজিক, রাজনৈতিক ও নৈতিক সমস্যাগুলো ব্যঙ্গাত্মক ও রসাত্মকভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করি নিজেদের সচেতন করার জন্য। এখানে ‘উন্মাদ’ নিজে উন্মাদের ভূমিকায় থেকে আসলে বলতে চায় ‘আমি উন্মাদ, কিন্তু আপনি কি সুস্থ?’

তাপস রায় : রাজনৈতিক সমস্যাগুলো ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরতে গিয়ে কখনও কী বিব্রতকর অবস্থার সম্মুখীন হতে হয়েছে?
আহসান হাবীব : এরশাদের শাসনামলে এরশাদকে ব্যঙ্গ করে কার্টুন আঁকতে গিয়ে চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল। গণঅভ্যুত্থানের পর সাবেক এই স্বৈরশাসককে ব্যঙ্গ করে সাড়ে বত্রিশতম সংখ্যা বের করেছিলাম। পত্রিকার ইতিহাসে এটা নজিরবিহীর ঘটনা। এ ছাড়া বাংলা চলচ্চিত্র বিষয়ক ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন প্রকাশের কারণেও বেশ কয়েকবার হামলা এবং হুমকি-ধামকির শিকার হয়েছি। এমনকি উন্মাদ কার্যালয় ভাঙচুরও হয়েছে।

তাপস রায় : ব্যক্তিজীবনে উন্মাদ নিয়ে অভিজ্ঞতা?
আহসান হাবীব : (হাসি দিয়ে) সে তো রয়েছেই। বিয়েটাই তো ভেস্তে যেতে বসেছিল। কারণ মেয়ের পরিবার সব সময়ই চায় ছেলের পেশাজীবনের নিশ্চয়তা। আমি ‘উন্মাদ’ পত্রিকার সম্পাদক এই পরিচয়টা তাদের কাছে ‘বলার মতো’ মনে হয়নি। অথচ এর আগে কিন্তু আমি ব্যাংকে ছিলাম। কিন্তু কিছুতেই মানাতে পারছিলাম না। অথচ বিয়ের কথা চলছে। তখন মা বলেছিল, আগে বিয়েটা হোক তারপর চাকরিটা ছেড়ে দিস। কিন্তু তার আগেই চাকরি ছেড়ে ‘উন্মাদ’ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় পাত্রীপক্ষ বেঁকে বসে। আমার স্ত্রীর কারণেই শেষ পর্যন্ত আমাদের বিয়েটা হয়েছিল।

তাপস রায় : সাড়ে বত্রিশতম সংখ্যা বের করেছিলেন। আপনাদের সব কিছুই উন্মাদীয়। এত আইডিয়া কোথায় পান?
আহসান হাবীব : ওই যে বললাম তারুণ্য। আজ যারা প্রতিষ্ঠিত কার্টুনিস্ট এদের অনেকেরই উন্মাদে হাতেখড়ি হয়েছে। তরুণরা সব সময়ই আইডিয়াবাজ। আমি অবশ্য এদের আইডিয়ানিস্ট বলি। ‘তাদের মাথায় কিলবিল করে আইডিয়া, উইপোকা বলে খাই গিয়া’ ব্যাপারটা এমন আরকি!
উন্মাদের সব কার্যক্রম উন্মাদীয়-এটা ঠিক। যেমন এখানকার কেউই চারুকলায় পড়েননি, অথচ তারা ভালো আঁকেন। শুরুতে আরো মজার মজার ঘটনা ঘটেছে। যেমন আমাদের টিমের যাদের বিয়ে হতো না, আমরা জোর করে তাকে নির্বাহী সম্পাদক বানিয়ে দিতাম। অবাক ব্যাপার হলো এরপর তার বিয়ে হয়ে যেত।

তাপস রায় : আপনাকে ‘জোকস অব গ্রান্ডফাদার’ বলা হয়। জোকস কি সাহিত্য?
আহসান হাবীব : জোকস হলো মিনিয়েচার লিটারেচার। কারণ কেউ একজন বলেছিলেন, বাজারের ফর্দ যদি ভালো করে লেখা হয় তাহলেও সেখানে সাহিত্য ফুটে ওঠে। এ কথা অনুযায়ী কৌতুককেও সাহিত্য বলা যায়। এটা কিন্তু শুধু হাসির বিষয় নয়, এখানে অনেক শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে। যেমন এক লোক দুই আঙুল দেখিয়ে বলল, ৫টা ডিম দাও।
দোকানী বলল, আপনি চাইছেন ৫টা ডিম অথচ দেখাচ্ছেন দুই আঙুল- এর মানে কী?
লোকটি বলল, আমি রোমান হরফে ৫ দেখিয়েছি।
এটা কিন্তু শিক্ষণীয় জোকস। জোকসের এমন অনেক ক্লাসিফিকেশন আছে।

তাপস রায় : কিন্তু পলিটিক্যাল জোকস কি সব সময় সত্য ঘটনা নিয়ে হয়? এতে তো গসিপও থাকে।
আহসান হাবীব : আমরা সবাই জানি আইজাক নিউটন আপেল গাছের নিচে বসে মহাকর্ষ সূত্র আবিষ্কার করেছিলেন। কিন্তু এটা তো ঠিক নয়। আসল ঘটনা হলো, তার কাছে সবাই এই সূত্র কীভাবে আবিষ্কৃত হলো এটা জানতে চাইত। মানুষের এ নিয়ে কৌতূহল ছিল। ফলে তিনি একবার বিরক্ত হয়ে বলেছিলেন, আপেল গাছের নিচে বসে থাকতে থাকতে পেয়েছি। সেই থেকে সবাই ধরে নিল এটাই সত্য। পলিটিক্যাল জোকস অনেকটা এরকম। তবে সেলিব্রেটি জোকস কিন্তু সত্য ঘটনা নিয়ে হয়।

তাপস রায় : যেমন?
আহসান হাবীব : কাজী আনোয়ার হোসেনকে একবার স্যার নির্বোধ দিয়ে বাক্যরচনা করতে বললেন। তিনি বললেন, আমার বাবা (কাজী মোতাহার হোসেন) একটা নির্বোধ। এ কথা শুনে স্যার ধমক দিয়ে বললেন, বেয়াদব! বাবা সম্পর্কে এ কথা বলতে তোর লজ্জা করল না। কাজী আনোয়ার হোসেন অবাক হয়ে বললেন, কেন? আমার মা তো বাবাকে সব সময় তাই বলে।
এটা সেলিব্রেটি জোকস। তবে সেলিব্রেটি জোকস-এর কিছু বিপদ আছে। একবার মিনার মাহমুদ নিউইয়র্কে ট্যাক্সি চালাচ্ছিলেন। ট্যাক্সি আরোহী হঠাৎ তাকে প্রশ্ন করলেন, তুমি বাংলাদেশের লেখিকা তসলিমা নাসরীনকে চেন?
মিনার মাহমুদ বললেন, হ্যাঁ, তিনি আমার স্ত্রী।
শুনে সেই আরোহী মিনার মাহমুদকে মাতাল মনে করে পুলিশে দিয়েছিলেন। কারণ তিনি ভেবেছিলেন, বিখ্যাত একজন লেখিকার স্বামী এখানে ট্যাক্সি চালাবে কেন?
এই ঘটনা আমি জোকস-এ লিখেছিলাম। একদিন শুনি মিনার মাহমুদ ঢাকায় এসেছে এবং আমাকে খুঁজছে। শুনে আমি ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তেমন কিছু ঘটেনি। তবে আমি বেশ ভয় পেয়েছিলাম।

তাপস রায় : জোকস-এর বই মানেই তো সংকলন গ্রন্থ। আর সংকলন পাঠক প্রকাশক কেউই গুরুত্বপূর্ণ ভাবেন না। অথচ আপনি অজস্র বিষয় নিয়ে জোকস-এর বই লিখেছেন।
আহসান হাবীব : কে গুরুত্ব দিল বা না দিল এগুলো নিয়ে ভাবি না। আমি জোকস সংগ্রহ করি, তারপর সেগুলো সম্পাদনা করি। জোকস-এর বই দৃষ্টিনন্দন করে প্রকাশের ব্যবস্থা করি। এটা করতে গিয়ে নতুন অনেক জোকস এমনিতেই তৈরি হয়ে যায়। আমি এবার বইমেলায় রিয়েল লাইফ জোকস-এর বই করছি। এই তো সেদিন, আম্মার জন্য আম কিনতে গিয়ে দোকানীকে বললাম, আম মিষ্টি হবে তো?
দোকানী সিরিয়াস কণ্ঠে বলল, আপনার ডায়াবেটিস থাকলে নিয়েন না।
আমি এভাবে প্রচুর জোকস পেয়ে যাই। আসলে কার্টুন বা জোকস এগুলো করতে হলে চোখ, কান খোলা রাখতে হয়। এর বিকল্প নেই।

তাপস রায় : জোকস নিয়ে পাশের দেশে টেলিভিশন অনুষ্ঠান হচ্ছে। এখানে হচ্ছে না।
আহসান হাবীব : জোকস নিয়ে ওরা প্রোগ্রাম করছে না। কারণ জোকস বলা এবং কমেডি করা ভিন্ন জিনিস। ওরা জোকস ব্যবহার করে কমেডি করছে। কারণ ওদের অনেক জোকস বোঝা যায় না। ওদের প্রেজেন্টেশন তো জোকারদের মতো। অথচ জোকস বলতে হবে ঠাণ্ডা মাথায়। যে বলবে সে থাকবে নির্বিকার, যে শুনবে সে হেসে লুটোপুটি খাবে। আরেকটি কথা, ডার্টি জোকস কিন্তু সব দেশেই আছে। কিন্তু সেটা বইয়ের পাতায়। ওটা ভিজ্যুয়ালি সম্ভব না। অথচ ওরা কিন্তু সে চেষ্টাও করছে।

তাপস রায় : কার্টুনিস্ট এবং চিত্রশিল্পীর পার্থক্য কোথায়?
আহসান হাবীব : কার্টুনিস্ট চাইলে ভালো পেইন্টিং করতে পারে, কিন্ত একজন চিত্রশিল্পী চাইলেই কার্টুন আঁকতে পারবে না। অতীত থেকে এমন বহু উদাহরণ দেয়া যাবে। কার্টুনিস্টকে অবশ্যই হিউমার বুঝতে হবে। পলিটিক্যাল কার্টুন এ দেশে বেশ জনপ্রিয়। আমার মতে, পলিটিক্যাল কার্টুন সিম্বলিক হওয়া উচিত।

তাপস রায় : এবারে একটু অন্য প্রসঙ্গে বলি। সম্প্রতি হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যু নিয়ে নতুন বিতর্কের অপচেষ্টা আমরা লক্ষ্য করছি …।
আহসান হাবীব : দেখুন এটা ঠিক যে, হুমায়ূন আহমেদ ক্যান্সারে মারা যাননি, তিনি হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। কারণ ক্যান্সারের জন্য তো সফল অস্ত্রপোচার হয়েছিল। তাকে বাসায় নিয়ে আসা হয়েছিল। যদি সেদিন রাতে তিনি চেয়ার থেকে পড়ে না যেতেন তাহলে হয়তো এমন ঘটতো না। অসাবধানতাবশত হোক কিংবা যেভাবেই হোক, ওটা ছিল একটা দুর্ঘটনা। সুতরাং এটা মেনে নিতে হবে।
তাছাড়া ওই সময় তার পাশে যারা ছিলেন তারা হুমায়ূন আহমেদের চিকিৎসাধীন অবস্থায় সব সময়ই পাশে ছিলেন। ফলে এ নিয়ে বিতর্কের অবকাশ নেই। আরেকটি ব্যাপার ভুলে গেলে চলবে না। শাওনকে তিনি পছন্দ করে বিয়ে করেছিলেন। তাদের ছোট দুটো সন্তান রয়েছে। তাদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যু নিয়ে অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টি করা উচিত কাজ নয়।

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৪

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়