‘বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিশ্বকাপে পা রাখা এককথায় অবিশ্বাস্য’
লিওনেল মেসির হাতে বিশ্বকাপের শিরোপা উঠার মুহূর্তটি শুধু আর্জেন্টিনার জন্য নয়, পুরো ফুটবল বিশ্বের জন্য ছিল এক আবেগঘন ইতিহাস। দীর্ঘ অপেক্ষা, অসংখ্য স্বপ্ন আর অগণিত সমালোচনার জবাব দিয়ে মেসি প্রমাণ করেছেন শিরোপাটা তার হাতেই শোভা পায়।
কাতারের মঞ্চে বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরা সেই দৃশ্য কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয়ে চিরকাল অমলিন হয়ে থাকবে। যেমনটা হয়ে আছে হুলিয়ান আলভারেজের কাছেও। প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েই আলভারেজ মেসির সঙ্গে পেয়েছেন শিরোপার স্বাদ। ইতিহাসের অক্ষয় কালিতে লিখে রেখেছেন নিজের নাম।
চার বছর পর আরেকটি বিশ্বকাপে মাঠে নামার আগে আলভারেজ নিজেদের লক্ষ্য জানালেন দৃঢ় চিত্তে, বুক ভরা আত্মবিশ্বাস নিয়ে।
ফিফা ডটকমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হুলিয়ান আলভারেজ বলেছেন, ‘‘একজন আর্জেন্টাইন হিসেবে উত্তেজনা সবসময়ই থাকে এবং আমরা সবসময়ই চ্যাম্পিয়ন হতে চাই। এবারও এর ব্যতিক্রম হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমরা ফাইনালে পৌঁছাতে চাই। আমরা জানি এটা সহজ হবে না। এর জন্য আমাদের অনেক খাটতে হবে এবং ম্যাচের ভাগ্য খুব সামান্য ব্যবধানেও নির্ধারিত হতে পারে। তবে আমরা যথাসম্ভব সেরা প্রস্তুতি নেব এবং ধাপে ধাপে এগিয়ে যাব। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এই বিশ্বকাপে পা রাখাটা এককথায় অবিশ্বাস্য। আমি অত্যন্ত গর্বিত। অবশ্যই আমরা ট্রফিটা নিজেদের কাছেই ধরে রাখতে চাই এবং আমাদের দেশের মানুষকে আবারও আনন্দে ভাসাতে চাই।’’
কাতার বিশ্বকাপে নিজের সবচেয়ে সেরা স্মৃতির কথা স্মরণ করতে গিয়ে আলভারেজ বলেছেন, ‘‘আমি মেক্সিকো ম্যাচটির কথা বলব। আমার মনে হয় এরপরে যা যা ঘটেছিল এবং তার আগে যা হয়েছিল, সবকিছু মিলিয়ে এই ম্যাচটি ছিল মূল টার্নিং পয়েন্ট। এটা আমাদের জন্য একটা বড় মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। সেই মুহূর্ত থেকে সবকিছু ঠিকঠাক চলতে শুরু করে এবং আমরা বুঝতে পারি যে আমাদের ভাগ্য আমাদের নিজেদের হাতেই রয়েছে।’’
ধারণা করা হচ্ছিল, কাতার বিশ্বকাপ দিয়েই মেসি অবসরে চলে যাবেন। অন্তত জাতীয় দল থেকে বিদায় নেবেন। কিন্তু মেসি আরেকটি বিশ্বকাপ খেলার দ্বারপ্রান্তে। মেসির বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে সতীর্থ আলভারেজ বলেছেন, ‘‘এটিই হয়তো লিওর শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে। তবে দিনশেষে এটি সম্পূর্ণ তার নিজের সিদ্ধান্ত। এটি নিশ্চিতভাবেই একটি বিশেষ বিশ্বকাপ হতে চলেছে; আমি শুধু আমাদের, তার সতীর্থদের এবং আর্জেন্টিনার মানুষের কথাই বলছি না, বরং যারা তাকে দেখে এবং অনুসরণ করে সেই সমস্ত মানুষের জন্যও এটি বিশেষ, কারণ তিনি সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়। অবশ্যই, বিশ্বজুড়ে তার একটি বিশাল প্রভাব রয়েছে।‘’
শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ আর্জেন্টিনার সামনে। কাতারের পর যুক্তরাষ্ট্রেও কি উড়বে তাদের বিজয়ের পতাকা? আরেকটি প্রশ্নও উঠছে বেশ। টানা দুই বিশ্বকাপ জিতলে কী আর্জেন্টিনা সর্বকালের সেরা দল হয়ে যাবে?
আলভারেজ জানালেন নিজের ভাবনা, ‘‘আমরা যদি বিশ্বকাপ ধরে রাখতে পারি, তবে এটি ইতিহাসে লেখা থাকবে। কারণ আমরা ব্যাক-টু-ব্যাক (টানা দুবার) বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি এই সময়ের মধ্যে দুবারের কোপা আমেরিকা জয়ীও হবো। গত কয়েক বছর ধরে আমাদের দেশের জন্য এটি একটি সোনালী অধ্যায়, তাই আমরা আরও বেশি এমন অবিশ্বাস্য মুহূর্ত উপভোগ করার আশা করি যা আমাদের সবাইকে এতটা আনন্দ দেয়।’’
ঢাকা/ইয়াসিন
দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরো ১০ শিশুর মৃত্যু