পরিচয় না পাওয়া ১১৪ জুলাই শহীদের মধ্যে ৮ জনের পরিচয় শনাক্ত
ফাইল ফটো
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পরিচয় না পাওয়া ১১৪ শহীদের মধ্যে ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে ৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। রায়েরবাজার কবরস্থানে মরদেহ উত্তোলন ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের পর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে সিআইডি জানায়, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নিহত একাধিক নারী ও পুরুষ শহীদের কিছু অজ্ঞাতনামা মরদেহ রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে এসব অজ্ঞাতনামা শহীদের পরিচয় উদ্ঘাটনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ কার্যক্রমের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হয় সিআইডি, বাংলাদেশ পুলিশকে। মানবাধিকার ও মানবিক কর্মকাণ্ডে ফরেনসিক বিজ্ঞানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসক ড. মরিস টিডবলকে এ কার্যক্রমে প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়।
সিআইডি জানায়, ড. মরিস বাংলাদেশে এসে সিআইডির ফরেনসিক, ডিএনএ ও মেডিকেল ফরেনসিক টিমকে কর্মশালার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেন। পরে শহীদদের পরিচয় শনাক্ত এবং মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের লক্ষ্যে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।
মোহাম্মদপুর থানার সাধারণ ডায়েরি ও তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পর বিজ্ঞ আদালত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের অনুমতি দেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী মোট ১১৪টি মরদেহ উত্তোলন, ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের সিদ্ধান্ত হয়।
রায়েরবাজার কবরস্থানে অস্থায়ী মর্গ স্থাপন করে ৭ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত মরদেহ উত্তোলন ও ফরেনসিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এ পর্যন্ত ৯টি পরিবারের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এসব নমুনা বিশ্লেষণের মাধ্যমে ৮ জন অজ্ঞাতনামা শহীদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বাকি মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সিআইডি জানায়, পুরো কার্যক্রম আইন, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে পরিচালিত হয়েছে, যাতে মর্যাদা, স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত থাকে।
ঢাকা/এমআর/ইভা