ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন রোল মডেল হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
বৃহস্পতিবার রাজধানীতে সিআইডির সদর দপ্তরে ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বাধিক অবাধ, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর হবে। তা ভবিষ্যতের জন্য একটি রোল মডেল হয়ে থাকবে।”
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদর দপ্তরে ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এমন থাকবে যে, ব্যালট বাক্স ছিনতাই করা সম্ভব নয়। ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ড্রোন, ডগ স্কোয়াড, বিএনসিসি ও গার্লস গাইডের সদস্যরাও থাকবেন।
তিনি বলেন, “জাতীয় সংসদ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব, যা শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রত্যেক সদস্যকে সর্বোচ্চ সততা, শৃঙ্খলা ও পেশাদার আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচন-পূর্ব, নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিটি ধাপে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের আগে অনলাইনে নানা গুজব ও মিথ্যাচার প্রতিরোধে সিআইডিকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, আগের জাতীয় নির্বাচনগুলোতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সাধারণত মাত্র একজন অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকতেন। এবার প্রথমবারের মতো নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কমপক্ষে পাঁচজন অস্ত্রধারী সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এর মধ্যে দুজন অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্য এবং তিনজন অস্ত্রধারী আনসার সদস্য অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা আরো জোরদার করা হবে। এসব কেন্দ্রে তিনজন অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্যসহ মোট ছয়জন অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে অস্ত্রবিহীন (লাঠিসহ) ১০ জন আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এই দলটির মধ্যে ছয়জন পুরুষ আনসার সদস্য এবং চারজন নারী আনসার সদস্য অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
সিআইডি প্রধান তার বক্তব্যে নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন। সিআইডির জনবলের ৯০ শতাংশ এ নির্বাচনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
সভায় কৃতিত্বপূর্ণ কাজের জন্য সিআইডির উপ-পরিদর্শক থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার বিভিন্ন কর্মকর্তার হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম, সিআইডির প্রধান অতিরিক্ত আইজি মো. ছিবগাত উল্লাহসহ অন্য কর্মকর্তারা।
ঢাকা/এমআর/রফিক