পুলিশের জন্য ৭৩ নিদর্শনা
ফাইল ফটো
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরপেক্ষ ও ন্যায়সঙ্গত ভূমিকা পালনের মাধ্যমে জনগণের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে চায় পুলিশ। এ লক্ষ্যে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে পুলিশ সদর দপ্তর ৭৩ নির্দেশনা সংবলিত একটি বুকলেট প্রকাশ করেছে।
নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত প্রত্যেক পুলিশ সদস্যকে এই বুকলেট দেওয়া হয়েছে এবং দায়িত্ব পালনকালে এটি সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্বাচনের মাঠে পুলিশের করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো স্পষ্ট ও বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরা হয়েছে নির্দেশিকায়।
বুকলেটে বলা হয়েছে, নির্বাচনকালে দায়িত্ব পালনে পুলিশ সদস্যদের ধৈর্য ও সংযম বজায় রেখে আইনানুগ দায়িত্ব পালন করতে হবে। উসকানি এড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা ও সৌজন্য বজায় রেখে নির্বাচনি দায়িত্বে পালনের জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, অন্য নিদর্শনাগুলো পুলিশ সতর্কতার সঙ্গে পালন করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ভোটের দিন কী ধরনের নিরাপত্তা দেওয়া হবে, ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্রগুলোতে সেই পরিকল্পনা তৈরি করেছে পুলিশ। নির্বাচন উপলক্ষে পুলিশের দেড় লাখ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ভোট কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের বডিওর্ন ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি সব আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিনিধির উপস্থিতিতে নির্বাচনি নিরাপত্তা নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের একটি সভা হয়। সভায় নিরাপত্তা পরিকল্পনার নানা দিক কীভাবে সমন্বয় হবে তা নিয়ে আলোচনা হয়। মোবাইল টিমগুলো কীভাবে কাজ করবে, স্ট্রাইকিং ফোর্স কীভাবে দায়িত্ব পালন করবে, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব সমন্বয় করবে তা নিয়ে সভায় দীর্ঘ আলোচনা হয়।
ভোটের দিন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন থাকবে। তারা সড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করবেন। পুলিশ প্রায় তিন হাজার যানবাহন রিকুইজিশন করা হয়েছে । এসব যানবাহন নির্বাচনি সামগ্রী ভোটকেন্দ্রে পাঠানো, ভোট গ্রহণ শেষে সেগুলো আবার নির্ধারিত স্থানে আনা হবে।
এআইজি মিডিয়া এইচএম শাহাদাত হুসাইন রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “নির্বাচনকালীন পুলিশকে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের আগে, নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচন পরবর্তী নানা বিষয়ে কিভাবে ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ রাখা যায় তা অনেকাংশেই সম্ভব হবে এই দিক নিদর্শনার মাধ্যমে।”
ঢাকা/এমআর/মাসুদ