ঢাকা     শুক্রবার   ১৫ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ১ ১৪৩৩ || ২৭ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

তরুণদের মধ্যে ‘বিষাক্ত’ ডায়েট সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়ছে: গবেষণা

লাইফস্টাইল ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:০৫, ১৫ মে ২০২৬   আপডেট: ০৯:১০, ১৫ মে ২০২৬
তরুণদের মধ্যে ‘বিষাক্ত’ ডায়েট সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়ছে: গবেষণা

ছবি: প্রতীকী

এই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শুধু বিনোদনের জায়গা নয়, এই মাধ্যমে জীবনধারা, খাদ্যাভ্যাস ও সৌন্দর্যবোধ গঠনেরও নানা তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যায়। বিশেষ করে টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে ওজন কমানো, ‘ফিট’ শরীর গড়া কিংবা নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাস অনুসরণের নানা ভিডিও তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে, এ ধরনের কনটেন্ট কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের মধ্যে একটি ‘বিষাক্ত’ ডায়েট সংস্কৃতি তৈরি করছে, যা মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, টিকটকে খাদ্য, পুষ্টি ও ওজন কমানোসংক্রান্ত কনটেন্ট তরুণদের মধ্যে অস্বাস্থ্যকর ও ‘বিষাক্ত’ ডায়েট সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করছে। প্রকৃত পুষ্টিবিদদের তুলনায় কম জ্ঞানসম্পন্ন তথাকথিত ‘নিউট্রিশন ইনফ্লুয়েন্সাররা’ বেশি প্রভাব বিস্তার করছেন।

আরো পড়ুন:

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘‘টিকটক ব্যবহারকারীদের উচিত ক্ষতিকর খাদ্য ও ডায়েট–সংক্রান্ত বার্তার সঙ্গে সম্পৃক্ত না হওয়া।’’

২০২২ সালে টিকটক দ্রুত বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিণত হয়। এর জনপ্রিয়তা মূলত ২০২০ সালে মহামারির সময় বাড়তে শুরু করে, যখন মানুষ ঘরে বেশি সময় কাটাতে শুরু করে। সে সময় ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের মধ্যে টিকটকের ব্যবহার ১৮০ শতাংশ বেড়ে যায়।

টিকটকে সবচেয়ে বেশি দেখা হয় স্বাস্থ্য ও পুষ্টিবিষয়ক কনটেন্ট। এসব তথ্য সাধারণত ইনফ্লুয়েন্সাররা শেয়ার করেন, যাদের বেশিরভাগই চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদ নন।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ভারমন্টের নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, টিকটকের খাদ্য, পুষ্টি ও ওজন কমানোর কনটেন্ট তরুণদের মধ্যে ‘বিষাক্ত’ ডায়েট সংস্কৃতি তৈরি করছে। গবেষকেরা আরও বলেন, এসব আলোচনায় বিশেষজ্ঞ মতামত প্রায় অনুপস্থিত।

ক্ষতিকর স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বার্তার প্রভাব কিশোর-কিশোরীদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। 

টিকটক কীভাবে অস্বাস্থ্যকর ডায়েট সংস্কৃতি ছড়ায়

গবেষণায় দেখা গেছে, টিকটকে এমন বার্তা খুব বেশি ছড়ানো হয় যেখানে শরীরের ওজনকেই সুস্বাস্থ্যের প্রধান মানদণ্ড হিসেবে তুলে ধরা হয়। সবচেয়ে বেশি দেখা কনটেন্টগুলোতে ওজন কমানোকে আদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করা হয় এবং খাবারকে ‘পাতলা ও সুস্থ’ হওয়ার উপায় হিসেবে দেখানো হয়।

গবেষণাটির জ্যেষ্ঠ লেখক ও ইউনিভার্সিটি অব ভারমন্টের ডায়েটেটিকস প্রোগ্রামের পরিচালক অধ্যাপক লিজি পোপ বলেন, “আমরা কিছু পেশাদার ইনফ্লুয়েন্সারের ভিডিও দেখেছি, তবে অসংখ্য সাধারণ মানুষকেও বলতে দেখেছি—‘আমি এভাবে ১৫ পাউন্ড ওজন কমিয়েছি। এটা খুব সহজ। তুমিও পারবে।’ আর এ ধরনের বার্তা দর্শকদের কাছে খুব আকর্ষণীয় লাগে।”

এই ধরণের ভিডিও তরুণ-তরুণীদের ‘ইটিং ডিসঅর্ডার’-এ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলছে।

ওয়াশিংটনের বেলিংহ্যামের ‘ওয়াইজ হার্ট নিউট্রিশন অ্যান্ড ওয়েলনেস’-এর পুষ্টিবিদ রেবেকা হ্যামব্রাইট বলেন, “টিকটকের ভিডিও ছোট হওয়ায় খুব সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত সরলীকৃত ও নৈতিকতার মোড়কে উপস্থাপিত স্বাস্থ্যবার্তা সহজে পৌঁছে দেওয়া যায়, যা মানুষ দ্রুত গ্রহণও করে।”

গবেষকেরা এই ধরণের ভিডিও এড়িয়ে যাওয়ার  পরামর্শ দিয়েছেন। 

সূত্র: হেলথলাইন

ঢাকা/লিপি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়