ঢাকা     রোববার   ০৩ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২০ ১৪৩৩ || ১৫ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

সেই ভাষণে বদলে যায় আন্দোলনের গতি-প্রকৃতি

হাসান মাহামুদ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০২:১১, ৭ মার্চ ২০২০   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
সেই ভাষণে বদলে যায় আন্দোলনের গতি-প্রকৃতি

একাত্তরের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’।

জাতির জনকের এই আহ্বানকে বাঙালির ঐক্যের মূলমন্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ভাষণটিকে বলা হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা।

৭ মার্চ ভাষণের প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বঙ্গবন্ধুর সেদিনের ভাষণের আগের দিনগুলো ছিল উত্তাল। পুরো দেশে হরতাল চলছিল। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ ভাষণ দেওয়ার ঘোষণা দেন। তখন থেকে কার্যত পুরো দেশের জনগণ তাকিয়ে ছিল রেসকোর্স ময়দানের দিকে। বঙ্গবন্ধুর ভাষণে স্বাধীনতার পরিষ্কার দিক-নির্দেশনা পেয়ে সবাই সংগ্রামের প্রস্তুতি নেন।

ইতিহাসবিদদের মতে, পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার জন্য এই অঞ্চলের জনগণের মানসিক যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের পর থেকেই। তাই এই ভাষণকে বলা হয়—বাংলাদেশের স্বাধীনতার মন্ত্র। ১৯৭১ এর ৭ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ এই ১৮ দিনে, এই ভাষণ বাংলাদেশের সাত কোটি মানুষকে প্রস্তুত করেছে মুক্তির সংগ্রামে, স্বাধীনতার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে।

তারা বলেন, ৭ মার্চের ভাষণের পর পুলিশ ইপিআর এবং সেনাবাহিনীতে কর্মরত বাঙালিসহ পুরো জাতি গ্রিন সিগন্যাল পেয়ে গেল। তাইতো স্বাধীনতার অফিসিয়াল ঘোষণা ২৬ মার্চ হলেও ১৯ মার্চ জয়দেবপুরে বাঙালি সেনারা পাকসেনাদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন। তেমনিভাবে ২৬ মার্চের আগেই অনেক জায়গায় এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে এবং এসবই ৭ মার্চের ঘোষণার কারণেই। যুদ্ধকালীন মুক্তিযোদ্ধারা ৭ মার্চের ভাষণ শুনে শুনে উজ্জীবিত হয়েছেন এবং যুদ্ধ করেছেন। ‘জয়বাংলা’ বলে বঙ্গবন্ধু ভাষণ শেষ করেছেন আর মুক্তিযোদ্ধারা ‘জয়বাংলা’ বলে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধের শপথ নিয়েছেন।

শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার রাইজিংবিডিকে বলেন, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বাঙালি জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ এক অবিস্মরণীয় দিন। হাজার বছর ধরে গড়ে ওঠা বাঙালি জাতির মুক্তির এক অবিনশ্বর স্মারক এই দিনটি। ৪৯ বছর পরও সেই দিনটির আবেদন কমেনি।

তিনি বলেন, বাঙালির মধ্যে যে মুক্তির আকাঙক্ষা ছিল, সেই ভাষণের মধ্য দিক-নির্দেশনা পেয়ে তার পরিপূর্ণতা পায়।

ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, ৭ মার্চের ভাষণটি রাজনৈতিক দূরদর্শিতার এক অনন্য স্মারক। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে এই ভাষণের আবেদন কখনো হারাবে না।

**

 

ঢাকা/হাসান/সাইফ

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়