রমজান ঘিরে বাজারে মিশ্র চিত্র
সরবরাহ কমে সবজির দাম চড়া, ইফতার সামগ্রী এখনো নাগালে
নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম
রমজান আসতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এরই মধ্যে বাজারে মাছ, মাংস ও সবজির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। তবে স্বস্তির খবর হলো; এবার এখন পর্যন্ত ইফতার সামগ্রীর দাম বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে রয়েছে।
বিক্রেতারা বলছেন, আমদানি স্বাভাবিক থাকায় পাইকারি বাজারে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ মিলছে। ফলে গত বছরের তুলনায় এ বছর মসলা, ছোলা ও বিভিন্ন ডালের দাম কিছুটা কমেছে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ানবাজার, রায়েরবাজার ও নিউমার্কেট ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৪ দিনের ছুটিতে রাজধানী ঢাকা অনেকটাই ফাঁকা। সবজি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অনেকে গ্রামে অবস্থান করছেন। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে।
সবজির বাজার
বর্তমানে মানভেদে প্রতি কেজি বেগুন ৮০–১০০ টাকা, সিম ৬০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, দেশি শসা ৮০–১০০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, দেশি গাজর ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৩০ টাকা, পটল ৭০ টাকা ও টমেটো ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শালগম ৫০ টাকা, কাঁচামরিচ ১২০ টাকা। ফুলকপি ও বাঁধাকপির প্রতিটি পিস ৪০–৫০ টাকা। জালি কুমড়া ও লাউ প্রতিটি ৫০–৬০ টাকা। লেবুর হালি ৫০-৬০ টাকা।
কমেছে মসলা, ছোলা ও ডালের দাম
রমজানে সাধারণত মসলার চাহিদা বাড়ায় দামও বাড়ে। তবে এবার চিত্র কিছুটা ভিন্ন। আমদানি স্বাভাবিক থাকায় এলাচ ছাড়া প্রায় সব মসলার দাম কমেছে।
ভালো মানের জিরা ৬০০–৬৫০ টাকা (গত বছর ছিল ৬৭০–৭৫০ টাকা), লবঙ্গ ১,৪০০–১,৫০০ টাকা, দারুচিনি ৫০০–৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে এলাচের দাম বেড়ে বর্তমানে ৪,৫০০–৫,৫০০ টাকা কেজি, যা গত বছর ছিল ৪,০০০–৫,০০০ টাকার মধ্যে।
ছোলা, মসুর ও অ্যাংকর ডালসহ বিভিন্ন ডালের দামও কমেছে। কেজিপ্রতি ছোলা ৮০–১০০ টাকা (গত বছর ১১৫–১৩০ টাকা), অ্যাংকর ডাল ৫৫–৬০ টাকা (গত বছর ৭০–৮৫ টাকা), বড় দানার মসুর ডাল ৯০–১০০ টাকা (গত বছর ১০৫–১১০ টাকা)।
চিনি বিক্রি হচ্ছে ১০০–১০৫ টাকা কেজি, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ১২০–১২৫ টাকা।
তেল ও মুদি পণ্য
বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৯০–১৯৫ টাকা, খোলা সয়াবিন ১৭৫–১৮৫ টাকা এবং খোলা পাম তেল ১৫৫–১৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চালসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল। নতুন আলু ২০–২৫ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৫০–৫৫ টাকা, রসুন ১৪০–১৬০ টাকা এবং দেশি আদা ১৭০–১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছ ও মুরগিতে ঊর্ধ্বগতি
উৎপাদন কম ও পরিবহন সমস্যার কারণে মাছের দাম বেড়েছে। মাঝারি আকারের চাষের রুই ৪০০–৪৫০ টাকা, পাঙাস ২০০–২২০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০–২৫০ টাকা, কৈ ২৫০–২৭০ টাকা, দেশি শিং ৫০০–৬০০ টাকা, পাবদা ৩৫০–৪০০ টাকা, চিংড়ি ৬০০–৭০০ টাকা এবং ছোট দেশি মাছ ৫০০–৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ব্রয়লার মুরগি ১৮০–১৯০ টাকা (গত সপ্তাহে ১৭০–১৮০), সোনালি ৩২০–৩৫০ টাকা (গত সপ্তাহে ২৮০–৩০০)। গরুর মাংস ৭৫০–৮০০ টাকা, খাসির মাংস ১,১০০ টাকা কেজি। প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০০–১১০ টাকায়।
ক্রেতা-বিক্রেতাদের কথা
কারওয়ানবাজারে কেনাকাটা করতে আসা শিক্ষার্থী ও বেসরকারি চাকরিজীবী সাফায়াত কবির বলেন, “আজ ঢাকায় মানুষ কম। বাজারে সবজি কম পাওয়া যাচ্ছে, আর দামও বাড়ছে।”
নিউমার্কেটের মুদি ব্যবসায়ী নাজমুল মোল্লা বলেন, “এবারের রমজানে দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে বলে আশা করছি। তবে বড় কোম্পানিগুলো চাইলে হঠাৎ দাম বাড়াতে পারে। খুচরা ব্যবসায়ীদের হাতে তেমন কিছু থাকে না। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর মসলা ও ডালের দাম কমেছে।”
ঢাকা/রায়হান/জান্নাত