ঢাকা     রোববার   ২২ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ৯ ১৪৩২ || ২ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ঈদের অবসরে অন্যরকম এক রাজধানী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:৫৫, ২২ মার্চ ২০২৬  
ঈদের অবসরে অন্যরকম এক রাজধানী

ঈদের দ্বিতীয় দিনেও ঢাকার সড়কে নেই চিরচেনা ব্যস্ততা। ছবি: রাইজিংবিডি

পবিত্র ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিনেও রাজধানী ঢাকায় যেন থমকে আছে চিরচেনা ব্যস্ততা। পল্টন, বংশাল, তাঁতিবাজার, গুলিস্তান ও কাকরাইল ঘুরে দেখা গেছে, যেই শহর সাধারণ দিনে যানজট, হর্ন আর মানুষের ভিড়ে হাঁসফাঁস করে, সেই শহরই এখন অনেকটাই ফাঁকা, শান্ত ও স্বস্তিদায়ক।

রবিবার (২২ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এসব এলাকার প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের সংখ্যা ছিল খুবই কম। গণপরিবহন সীমিত আকারে চলাচল করলেও তাতে তেমন ভিড় চোখে পড়েনি। ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল ও রিকশাই বেশি দেখা গেছে সড়কে। কোথাও কোথাও এক-দুই মিনিট দাঁড়ালেই সিট খালি বাস পাওয়া যাচ্ছে, যা স্বাভাবিক সময়ে কল্পনাই করা যায় না।

আরো পড়ুন:

পল্টন মোড়ে দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তা সবুজ হোসেন বলেন, ঈদের সময় রাজধানী প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি। যানজট না থাকায় দায়িত্ব পালন সহজ হচ্ছে। জরুরি যানবাহন দ্রুত চলাচল করতে পারছে।

গুলিস্তানে কথা হয় একটি ফার্মেসির কর্মচারী সোহেল রানার সঙ্গে। তিনি বলেন, সাধারণ দিনে এখানে দাঁড়ানোই কঠিন হয়ে যায়। কিন্তু এখন খুব স্বস্তি লাগছে। ক্রেতা কম, তাই কাজও চাপমুক্ত।

তাঁতিবাজারে কয়েকজন পথচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকে এখনও গ্রামের বাড়ি যাওয়ার পথে রয়েছেন। আবার কেউ কেউ ঈদের দিন ঢাকায় থেকে দ্বিতীয় দিনে বের হয়েছেন স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে।

বংশালে রিকশাচালক আব্দুল জাব্বার বলেন, যাত্রী কম থাকায় ভাড়া বেশি পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ফাঁকা সড়কে চলাচল আরামদায়ক, সময়ও কম লাগছে।

কাকরাইল এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়ির চালক সেলিস উদ্দিন বলেন, আজ গাড়ি চালিয়ে আলাদা একটা অনুভূতি হচ্ছে। কোনো চাপ নেই, হর্ন নেই। শহরটা অন্যরকম লাগে।

রাজধানীর অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ থাকলেও কিছু প্রয়োজনীয় সেবা যেমন- ফার্মেসি, হোটেল ও ছোটখাটো দোকান খোলা রয়েছে। তবে ক্রেতার উপস্থিতি কম। অন্যদিকে বাস টার্মিনাল ও লঞ্চঘাটমুখী কিছু সড়কে দেখা গেছে, ছুটে চলা মানুষের ছোট ছোট দল যারা এখনও ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ির পথে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জানান, ঈদ উপলক্ষে রাজধানীতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও এলাকায় টহল জোরদার রয়েছে।

ঈদের দ্বিতীয় দিনে ঢাকার এই নির্জনতা একদিকে যেমন স্বস্তি এনে দিয়েছে, অন্যদিকে ব্যস্ত শহরের ভিন্ন এক রূপও দেখার সুযোগ করে দিয়েছে নগরবাসীকে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছুটি শেষে মানুষ ফিরতে শুরু করলেই আবারও ফিরে আসবে পুরোনো সেই ব্যস্ততা, যানজট আর নগর জীবনের চিরচেনা ছন্দ।

ঢাকা/এএএম/ফিরোজ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়