ঢাকা     বুধবার   ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২৬ ১৪৩২ || ২০ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ

‘বিসিবি এখন বাপের দোয়া বোর্ডে পরিণত হয়েছে’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:২২, ৮ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ২০:২৮, ৮ এপ্রিল ২০২৬
‘বিসিবি এখন বাপের দোয়া বোর্ডে পরিণত হয়েছে’

জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেছেন, দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধারাবাহিকভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এখন আর স্বাধীন প্রতিষ্ঠান নয়, বরং ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ডে’ পরিণত হয়েছে।

আরো পড়ুন:

বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬’ উত্থাপনের পর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, প্রস্তাবিত আইনে কমিশন  বলতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে বোঝানো হয়েছে। আইনের সংজ্ঞায় ‘বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার ও  গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে কার্যক্রম এই দুই ধরনের ঘটনার মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে। কিন্তু কোন ঘটনাকে ব্যক্তিস্বার্থে সংঘটিত অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে, তা নির্ধারণের দায়িত্ব কমিশনের ওপরই ন্যস্ত করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ায় দায়মুক্তির বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে মানবাধিকার কমিশনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। অথচ কমিশনের বিদ্যমান কাঠামো ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ২০০৯ সালের কাঠামো অনুযায়ী পরিচালিত হলে কমিশন কার্যত সরকারের প্রভাবাধীন হয়ে পড়তে পারে এবং বিরোধী মত দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মানবাধিকার কমিশনকে যদি মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখা হয়, বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে, তাহলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সম্পর্কিত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও মূল্যায়ন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তাই এই প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করতে হলে অবশ্যই পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে হবে।

হাসনাত আবদুল্লাহ সতর্ক করে বলেন, যেভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ করা হয়েছে, তাতে মানবাধিকার কমিশনও একই পথে যাবে না এমন নিশ্চয়তা নেই। আমরা আরেকটি বাপের দোয়া কমিশন দেখতে চাই না।

তিনি প্রস্তাব করেন, আইনটি পাসের আগে মানবাধিকার কমিশনের কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। অন্যথায়, বিসিবি বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো এখানেও দলীয় প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা থেকে যাবে।

ঢাকা/এএএম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়