অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ এখনো সৃষ্টি হয়নি: জামায়াত
বিশেষ প্রতিবদেক || রাইজিংবিডি.কম
সোমবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন দলীয় আমির ডা. শফিকুর রহমান।
দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ এখনো সৃষ্টি হয়নি বলে অভিযোগ তুলে জামায়াতে ইসলাম বলছে, প্রশাসনের মধ্যে কিছু কিছু সরকারি কর্মকর্তা একটি বিশেষ দলের পক্ষে কাজ করছে বলে বিভিন্ন স্থান থেকে অভিযোগ আসছে।
দলটি বলছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে এখনো প্রকাশ্য দিবালোকে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক বৈঠকে এমন বক্তব্য উঠে আসে।
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে সংগঠনের নায়েবে আমির এবং সেক্রেটারি জেনারেল এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলরা অংশ নেন। কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরাও বৈঠকে ছিলেন।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম জানান, বৈঠকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং নির্বাচনি আসন সমঝোতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময়ের আগেই আসন সমঝোতা কীভাবে চূড়ান্ত করা যায়, এসব বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, “দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ বিদায় নিয়েছে। দেড় হাজার শহীদ, ত্রিশ হাজারের বেশি আহত ও পঙ্গুত্ববরণের মধ্য দিয়ে অর্জিত আমাদের এই প্রিয় নতুন বাংলাদেশকে কোনো ধরনের চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র বা কোনো গোষ্ঠীর হাতে জিম্মি হতে দেওয়া যাবে না।”
নির্বাচন কমিশন এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীকে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে এবং বিশেষ কোনো দলের দিকে ঝুঁকে না পড়ে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে অভিমত প্রকাশ করা হয় যে, দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ এখনো সৃষ্টি হয়নি। অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের নিরপেক্ষতা শতভাগ নিশ্চিত করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতি করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের কাছে জোর দাবি জানানো হয়েছে।
ঢাকা/নঈমুদ্দীন/রাসেল