ডুয়েট অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চলছে: ছাত্রদল
নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম
গাজীপুরে অবস্থিত ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) ক্যাম্পাসে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
রবিবার (১৭ মে) ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ অভিযোগ তোলা হয়।
ডুয়েটে নতুন ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) নিয়োগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ চলছে। অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ভিসি হিসেবে নিয়োগ নিয়ে সরকারের প্রজ্ঞাপন জারির পরপর তা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনে নামে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাত থেকে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভের ধারাবাহিকতায় আজ রবিবার (১৭ মে) সকালে ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, ডুয়েটের ভাইস চ্যান্সেলর ডুয়েটের অভ্যন্তরীণ শিক্ষকদের মধ্য থেকে নিয়োগ দিতে হবে। তাদের মতে, ডুয়েটের শিক্ষা ব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের বাস্তবতা, একাডেমিক কাঠামো ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা ও ধারণা তুলনামূলক বেশি। ফলে ডুয়েটের উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অভ্যন্তরীণ শিক্ষক থেকে উপাচার্য নিয়োগ বেশি কার্যকর হবে।
ছাত্রদলের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি ডুয়েটের উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি এর আগে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে নিয়োগের পরপরই কিছু শিক্ষার্থী উপাচার্য নিয়োগ বাতিল এবং ডুয়েট থেকে উপাচার্য নিয়োগের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে।
ছাত্রদলের দাবি, দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাইরের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য নিয়োগ একটি প্রচলিত বিষয় হলেও এ ইস্যুকে কেন্দ্র করে ডুয়েট ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে।
সংগঠনটি আরো অভিযোগ করে, ডুয়েটের বিদায়ী প্রশাসনের বিরুদ্ধে অস্বচ্ছতা, দলবাজি, অনৈতিকতা ও স্বেচ্ছাচারী নিয়োগসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এ সব ইস্যুকে কেন্দ্র করে একটি ‘গুপ্ত সংগঠন’ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলেও দাবি করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত চার দিন ধরে আন্দোলনের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির করে রাখা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার (১৬ মে) ক্যাম্পাসে সংঘর্ষপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একইসঙ্গে তারা ক্যাম্পাসে সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, রবিবার সকালে ‘নতুন ভিসিকে লাল কার্ড’ কমূসূচির ব্যানারে বিক্ষোভের ডাক দেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারে জড়ো হতে থাকলে সংঘর্ষ হয়।
ঢাকা/নাজমুল/বকুল