ফাস্টিং কী সত্যিই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো? যা বলছেন বিশেষজ্ঞ
দেহঘড়ি ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
ছবি: প্রতীকী
ফাস্টিং বলতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য খাবার অথবা পানীয় গ্রহণ করা থেকে —কখনও পুরোপুরি, কখনও আংশিকভাবে বিরত থাকাকে বোঝায়। তবে বিষয়টি সব সময় এতটা সহজ নয়। হেপাটোলজিস্ট ডা. নিজার জেইন বলেন, “আসলে ফাস্টিংয়ের নানা ধরন রয়েছে। কখনও ফাস্টিং মানে নির্দিষ্ট কিছু খাবার, যেমন কার্বোহাইড্রেট বা চর্বি এড়িয়ে চলা। কখনও আবার মোট ক্যালোরি কমিয়ে দেওয়া। আবার এমন উপবাসও আছে, যেখানে একদিন বা তার বেশি সময় একেবারেই কিছু খাওয়া হয় না।”
সঠিকভাবে ফাস্টিং করবেন যেভাবে
ধর্মীয় বা স্বাস্থ্যগতকারণে যদি স্বল্পমেয়াদি ফাস্টিং শুরু করতে হয়, একটি কথা মনে রাখুন—প্রস্তুতিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ডা. জেইনের পরামর্শ—আগে থেকে একটু বাড়তি প্রস্তুতি নিলে শরীরের জন্য বিষয়টি অনেক সহজ হয়ে যায়।যেমন—
১. ধীরে ধীরে শুরু করুন
হঠাৎ করে ফাস্টিং শুরু করা শরীরের জন্য ধাক্কা হতে পারে। তাই কয়েক দিন—বা এমনকি কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই খাবার ও পানীয় ধীরে ধীরে কমান। যদি আপনি প্রতিদিন তিন বেলা খাবার ও মাঝখানে নাস্তা খেয়ে অভ্যস্ত হন, হঠাৎ একদিন সব বন্ধ করে দিলে শরীর শক্তি ধরে রাখতে পারবে না।
২. আগেভাগে চিনি কমান
ফাস্টিং-এর আগে চিনি জাতীয় খাবার কম খান। কুকিজ বা মিষ্টি চা তখন তৃপ্তি দিলেও, এক–দু’ঘণ্টা পর রক্তে শর্করা হঠাৎ কমে গেলে আপনি দুর্বল ও ক্ষুধার্ত অনুভব করবেন। আরেকটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে—“অ্যাংরি” অনুভূতি। তাই ফাস্টিংয়ের আগে খাবারে রাখুন— জটিল কার্বোহাইড্রেট রাখুন। যেমন হোল গ্রেইন পাস্তা, ব্রাউন রাইস, আলু ইত্যাদি। আরও রাখুন প্রোটিন, যেমন মাংস, ডাল, শিম ও অন্যান্য ডালজাতীয় খাবার
৩. ওষুধের ব্যাপারে আগে থেকেই পরিকল্পনা করুন
ফাস্টিং শুরু করার আগে আপনি যেসব প্রেসক্রিপশন ওষুধ খান, সেগুলো নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন। কিছু ওষুধ খাবারের সঙ্গে খেতে হয়, আবার কিছু ওষুধ হঠাৎ বন্ধ করা বিপজ্জনক।
৪. পর্যাপ্ত পানি পান করুন
ধর্মীয় ফাস্টিংয়ে খাবার —এমনকি পানিও গ্রহণ করা নিষিদ্ধ থাকে। এ ক্ষেত্রে ফাস্টিং শুরুর আগেই শরীর ভালোভাবে হাইড্রেট করা খুব জরুরি।
৫. শারীরিক পরিশ্রম কমান
‘ফাস্ট’ শব্দটি শুনে বিভ্রান্ত হবেন না। উপবাসে থাকলে ধীরে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। ডা. জেইন বলেন, “খাবার বা পানি ছাড়া কঠোর ব্যায়াম করা ঠিক নয়। যদি দ্রুত পুষ্টি নেওয়ার সুযোগ না থাকে, তাহলে শক্তি সঞ্চয় করে রাখুন দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজের জন্য।”
৬. ফাস্টিং ভাঙুন ধীরে
ফাস্টিং শেষ হলে প্রচণ্ড খিদে লাগতে পারে, কিন্তু একবারে অনেক খাবেন না। ডা. জেইনের পরামর্শ, “পরবর্তী দুই বেলার খাবারে ক্যালোরি ভাগ করে নিন। এতে রক্তে শর্করার হঠাৎ ওঠানামা ও অতিরিক্ত ক্লান্তি এড়ানো যাবে।”
ডা. জেইন আরও বলেন, “ফাস্টিং একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হতে পারে এবং আমি অনেককেই এটি করার পরামর্শ দিয়েছি।”
গবেষণায় দেখা গেছে— ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং ও কিছু নিয়ন্ত্রিত ডায়েট হৃদ্স্বাস্থ্যের উন্নতি করে, ওজন কমাতে সাহায্য করে, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে। এমনও ধারণা রয়েছে যে, ফাস্টিং আয়ু বাড়াতে পারে, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করে এবং স্নায়ুক্ষয়জনিত রোগ প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে। এ ছাড়াও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমতে পারে এবং শরীরের শক্তির ভারসাম্য বজায় থাকতে পারে।
তবে নির্দিষ্ট খাবার বাদ দেওয়া বা নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়ার ডায়েট আপনার জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর হতে পারে কিনা সে বিষয়ে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামার্শ নিতে পারেন।
সূত্র: হেলথ শর্টস
ঢাকা/লিপি