ঈদে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে করণীয়
দেহঘড়ি ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
ছবি: সংগৃহীত
কয়দিন পরেই ঈদ। বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা যখন ঈদুল আজহা উদ্যাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কোরবানি পালনের পাশাপাশি উৎসবটি যেন নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিচ্ছন্নভাবে সম্পন্ন হয়, সেদিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। এই সময়ে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সঠিকভাবে সংরক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকলে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে যেসব সতর্কতা জরুরি
ঈদুল আজহার সময় পশু কেনাবেচা, কোরবানি ও মাংস বিতরণকে ঘিরে মানুষের ভিড় বেড়ে যায়। ফলে সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই কিছু সাধারণ কিন্তু কার্যকর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।খাবারের আগে এবং পশু বা কাঁচা মাংস স্পর্শ করার পর সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে।বাইরে গেলে বা অন্যের বাসায় গেলে অ্যালকোহলভিত্তিক হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা উচিত। কসাইদের গ্লাভস, মাস্ক ও পরিষ্কার অ্যাপ্রন ব্যবহারে উৎসাহিত করতে হবে। কোরবানি ও মাংস কাটার কাজে ব্যবহৃত ছুরি, কাটিং বোর্ড ও অন্যান্য সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে। অতিরিক্ত ভিড়যুক্ত পশুর হাট এড়িয়ে চলা এবং যথাসম্ভব শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা উচিত।
এসব নিয়ম মেনে চললে পেটের অসুখ, ত্বকের সংক্রমণ এবং পশু থেকে মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে এমন রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
ঈদের মাংসের স্বাস্থ্যবিধি
কোরবানির মাংস পরিবার, বন্ধু ও অসচ্ছল মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়। তাই মাংসের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১. এমন পশু নির্বাচন করুন, যা দেখতে সুস্থ এবং পশুচিকিৎসকের অনুমোদনপ্রাপ্ত।
২.পরিচ্ছন্ন ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কোরবানি সম্পন্ন করুন, সম্ভব হলে সিটি করপোরেশন বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত স্থানে।
৩. কাঁচা মাংস কাটার জন্য আলাদা সরঞ্জাম ব্যবহার করুন এবং পরিষ্কার জায়গায় মাংস প্রস্তুত করুন।
৪.ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি রোধে দ্রুত মাংস ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন—বিশেষ করে গরমের সময় এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৫.মাংস বিতরণের সময় পরিষ্কার প্যাকেট এবং প্রয়োজনে তাপরোধী ব্যাগ ব্যবহার করুন।
ঈদুল আজহার স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নির্দেশনা
নিজের এবং পরিবারের সবার সুস্থতার জন্য নিচের বিষয়গুলো মেনে চলুন—
- পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং শরীর হাইড্রেটেড রাখুন।
- খোলা ও বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে রান্না করুন এবং মাংস ভালোভাবে সিদ্ধ করুন।
- মাছি ও মশা দূরে রাখতে ইনসেক্ট রিপেলেন্ট ও ফ্লাই ট্র্যাপ ব্যবহার করুন।
- শিশুদের ধারালো সরঞ্জাম, মাংস কাটার স্থান ও পশুর কাছ থেকে দূরে রাখুন।
- পশুর বর্জ্য স্থানীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিষ্কারভাবে অপসারণ করুন।
জ্বর, বমি বা ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ঈদের স্বাস্থ্যসামগ্রী প্রস্তুত রাখুন
অ্যান্টিসেপটিক, জীবাণুনাশক, মেডিকেল গ্লাভস এবং তাপমাত্রাসংবেদনশীল ওষুধ সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা ভালো। সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে আপনার ঈদের আনন্দ আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হয়ে উঠুক।
সূত্র: ডাওয়া হেলথকেয়ার
ঢাকা/লিপি
গণমাধ্যম কমিশন হচ্ছে, জুনের মধ্যে পরামর্শক কমিটি: তথ্যমন্ত্রী