ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

ঢাকা উত্তর বিএনপিতে সেই বিক্ষুব্ধদের ভাঙনে আরেকটি গ্রুপ!

আরিফ সাওন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-২৭ ৯:২৮:০১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-২৮ ৮:৩৪:১১ এএম

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্য অভ্যন্তরীণ কোন্দল দিন দিন বাড়ছে। কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুটি গ্রুপ ছিলো। কিন্তু সম্প্রতি সেই দুই গ্রুপের মধ্যে একটি গ্রুপ ভেঙে দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে। এখন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি তিনটি গ্রুপে বিভক্ত হয়েছে।

জানা গেছে- বিভক্তির সূত্রপাত ২০১৮ সালের ৩ জুন। ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এমএ কাইয়ুম ও সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান সাংগঠনিক ইউনিটের ২৫টি থানা ও ৫৮টি ওয়ার্ড কমিটি ঘোষণা করেন।

এইসব কমিটিতে যোগ্য ও ত্যাগীদের পরিবর্তে বিতর্কিতরা স্থান পাওয়ায় মহানগর কমিটির ৬৬ জন নেতার মধ্য ৩৪ জনই এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে যান। এরপর তারা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ পেয়ে বিএনপি মহাসচিব তাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেন।

এছাড়াও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সবকিছু অবহিত করেন তারা। তবে দলের হাইকমান্ড কোন্দল সমাধানে ব্যর্থ হওয়ায় ওই ৩৪ নেতা পৃথক ব্যানারে দলীয় কর্মসূচি পালন শুরু করেন।

তাদের ওই বিভক্তি আর কোন্দলের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে সংগঠনের সিনিয়র সহ সভাপতি মুন্সি বজলুল বাসিত আঞ্জুকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করার ঘটনাও ঘটে এসময়ে।

৩৪ জনের সেই পৃথক ব্যানারটিও সম্প্রতি পৃথক হয়েছে। নীতি ও আদর্শ গত কারণে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি বিক্ষুব্ধ এই অংশটির মধ্য বিভক্তি শুরু হয়েছে।

এর বৃহৎ অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন- ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি'র সহ-সভাপতি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি ও ক্ষুদ্র অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন ঢাকা মহানগর বিএনপি'র সহ-সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন।

এ ব্যাপারে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি বলেন, ‘যে কারণে আমরা অন্যায়ের প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছিলাম, সেই নীতিতে কখনো আপস করতে পারিনা। যারা সাময়িক লাভের উদ্দেশ্যে আপোষ করেন, তাদের সঙ্গে আমরা থাকতে পারছি না। তবে স্পষ্টত আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই।’

মহানগর উত্তর বিএনপির সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন বলেন, বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি কর্তৃক গঠিত কমিটিতে যোগ্য ও ত্যাগীদের বাদ দেওয়ায় প্রতিবাদ করেছিলাম। আমাদের দাবি ছিল তাদেরকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা। এভাবেই আমরা দলের শীর্ষ নেতাদের কাছে নিজেদের প্রস্তাব তুলে ধরে ছিলাম। কিন্তু এখন কিছু নেতা মহানগর কমিটি ভেঙে দেয়ার দাবি তুলছেন, যেটা আমাদের শর্ত ছিল না। এ কারণে নিজেদের ভিতরে একটু মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।’

রাজধানীতে বিএনপিকে শক্তিশালী করতে ২০১৭ সালের ১৮ এপ্রিল ঢাকা মহানগরকে দুই ভাগ করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। ঢাকা দক্ষিণে ৭০ সদস‌্যের এবং উত্তরে ৬০ সদস‌্যের আংশিক কমিটির অনুমোদন দেন বিএনপি মহাসচিব।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয় সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী আবুল বাশারকে।

ঢাকা মহানগর উত্তরে সভাপতি হিসেবে এমএ কাইয়ুম ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আহসানউল্লাহ হাসানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এদের মধ্যে এমএ কাইয়ুম মামলা জটিলতার কারণে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন।


ঢাকা/সাওন/সাজেদ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন