ঢাকা     শুক্রবার   ১২ আগস্ট ২০২২ ||  শ্রাবণ ২৮ ১৪২৯ ||  ১৩ মহরম ১৪৪৪

ঢাকায় বিভিন্ন জেলার কসাইরা

মেসবাহ য়াযাদ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:২৫, ১০ জুলাই ২০২২   আপডেট: ১৬:২৬, ১০ জুলাই ২০২২
ঢাকায় বিভিন্ন জেলার কসাইরা

কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ঢাকায় এসেছেন বিভিন্ন জেলার কসাইরা

সারা দেশে যে পরিমাণ পশু কোরবানি করা হয়, তার প্রায় অর্ধেক হয় রাজধানীতে। ঈদের দিন রাজধানীতে হাজার হাজার পশু জবাই করে থাকেন বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসার ইমাম ও হুজুররা। এজন্য তারা পারিশ্রমিক নেন না। তবে, তাদের আবদার থাকে, তারা যে মাদ্রাসার সঙ্গে সম্পৃক্ত, সে মাদ্রাসায় কোরবানির পশুর চামড়া বিনামূল্যে বা কম দামে দেওয়ার জন্য।

কোরবানির পশু জবাই করার মানুষের অভাব না হলেও এর গোস্ত বানানোর লোকের অভাব দেখা যায় প্রতিবছর। এ কারণে আগে থেকে কসাই ঠিক করে না রাখলে সকালে পশু জবাইয়ের পরও অনেকের গোস্ত বানিয়ে তা ঘরে নিতে বিকেল বা সন্ধ্যাও হয়ে যায়। রাজধানীতে কোরবানির ঈদে যত পশু জবাই হয়, সেগুলোর গোস্ত বানানোর মতো যথেষ্ট সংখ্যক পেশাদার কসাই ঢাকা শহরে নেই। যদিও ঈদকে কেন্দ্র করে অনেক মানুষকে ‘সিজনাল কসাই’ হিসেবে কাজ করতে দেখা যায়।

রাজধানীবাসীর এ সমস্যা সমাধানে প্রতিবছরই ঢাকার বাইরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পেশাদার কসাইরা ঈদের এক দিন আগে ঢাকায় আসেন। সারা দিন কাজ করে রাতে বা পরদিন আবার তারা ফিরে যান নিজেদের এলাকায়। প্রতি বছর অল্প সংখ্যক কসাই ঢাকার বাইরে থেকে আসলেও এবার প্রচুর পরিমাণে পেশাদার কসাই তাদের সহযোগীসহ রাজধানীতে এসেছেন।

ঈদের ছুটিতে সবাই যখন রাজধানী ছেড়ে বাড়ি যাচ্ছেন, তখন এসব কসাই ছুটে আসছেন ঢাকায়। তাদের কারণে দিন দিন নগরবাসীর ভোগান্তি দূর হচ্ছে বলে মনে করেন সেন্ট্রাল রোডের বাসিন্দা করিম শেখ। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পেশাদার কসাইদের কারণে আমরা দ্রুত পশু কোরবানির কাজ শেষ করতে পারছি। এসব কাজে তারা নিজেরাও কোরবানির আনন্দ পেয়ে থাকেন। পাশাপাশি পান পারিশ্রমিক এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে গোস্তও।’

রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে আসা পেশাদার কসাইদের তালিকার শীর্ষে রয়েছে যশোর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী ও রংপুরসহ উত্তর জনপদের মানুষ। এই তালিকায় বরিশাল, ঝালকাঠি, বরগুনা, পিরোজপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের সংখ্যাও কম নয়। এছাড়া, দেশের অন্যান্য এলাকা থেকেও কসাইরা আসেন ঢাকায়।

ঈদকে কেন্দ্র করে ঢাকায় আসা কয়েকজন পেশাদার কসাইয়ের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বছর কোরবানির ঈদের এক দিন আগে তারা ঢাকায় আসেন। কেউ কেউ আবার ২-৩ দিন আগেও আসেন। তারপর বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে পশু জবাই, গোস্ত বানানোর কাজের বিষয়ে চুক্তি করেন। প্রতি ঈদে একই কাজ করতে আসায় তাদের কিছুটা পরিচিতিও হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও থেকে আসা তিন সদস্যের কসাই দলের প্রধান লোকমান হোসেন বলেন, ‘৯-১০ বছর ধরে ধানমন্ডি এলাকায় গরু জবাই ও গোস্ত বানানোর কাজ করি। একটা গরু জবাই থেকে শুরু করে গোশত বানাতে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা সময় লাগে। এরকম তিনটা বাসায় গরু-ছাগল জবাই ও গোস্ত বানানোর কাজ করি। এতে যা পারিশ্রমিক পাই, সেটা আমাদের জন্য অনেক। পাশাপাশি আমাদেরকে যথেষ্ট পরিমাণে গোস্তও দেন তারা। দুপুরে খাওয়ানোর পাশাপাশি অনেকে খুশি হয়ে গাড়িভাড়াও দিয়ে থাকেন। সেই টাকা আর গোস্ত নিয়ে বাড়িতে ফিরে যাই।’

ধানমন্ডি এলাকায় কথা হয় দিনাজপুর থেকে আসা কসাই মমতাজ উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি জানান, গরুর আকারের ওপর ভিত্তি করে তারা পুরো কাজের জন্য মালিকের সঙ্গে চুক্তি করেন। গরুর কেনা দামের ওপর গোস্ত বানানোর পারিশ্রমিক নির্ভর করে। গরুর দামের প্রতি হাজারে ১২০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা করে পারিশ্রমিক নেন কসাইরা। এতে ঈদের ১-২ দিনে তাদের বেশ ভালো অঙ্কের টাকা আয় হয়ে থাকে। পারিশ্রমিকের বাইরে খুশি হয়ে অনেকে গোস্ত ও আসা-যাওয়ার গাড়িভাড়াও দেন। কাজ শেষে ঈদের রাতেই তারা নিজেদের এলাকায় ফিরে যান।

বরিশাল থেকে আসা পেশাদার কসাই জুম্মন আলী জানান, তারা চারজনের একটি দল ঢাকায় এসেছেন। তাদের পরিচিত এরকম ৩-৪ জনের বেশ কয়েকটি দল ঈদকে কেন্দ্র করে ঢাকায় এসেছেন ঈদের আগের দিন। ঈদের দিন প্রতিটি গ্রুপ ৫-৬টি করে পশু জবাই ও মাংস কাটার কাজ করতে পারে। এক দিনে তাদের গ্রুপের এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকার বেশি আয় হয়ে থাকে। কোরবানির তিন দিনে ৩-৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় হয় তাদের। সকল খরচ বাদ দিয়ে একেকজন গড়ে ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা নিয়ে বাড়ি যেতে পারেন।

পেশাদার কসাইদের পাশাপাশি অনেক অপেশাদার বা মৌসুমি কসাইও গোস্ত বানানোর কাজ করে থাকেন। তাদের কয়েকজন জানান, তারা ঢাকায় থাকা আত্মীয় বা পরিচিতদের কোরবানির পশু জবাইয়ের জন্য আসেন। এতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ যেমন রক্ষা হয়, তেমনই মোটা অঙ্কের বকশিশের পাশাপাশি যথেষ্ট পরিমাণ মাংসও পেয়ে থাকেন। তাদের বেশিরভাগই ঈদের রাতে বা পরদিন বাড়ি ফিরে যান।

মেয়া/রফিক

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়