ঢাকা     রোববার   ১৬ জানুয়ারি ২০২২ ||  মাঘ ২ ১৪২৮ ||  ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

‘শেখার ও শেখানোর কোনো শেষ নেই’

ইয়াসিন হাসান || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৩৩, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১২:৪৭, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
‘শেখার ও শেখানোর কোনো শেষ নেই’

হোয়াইটস অ্যাপে টাইগার উডসের মোমের মূর্তি সঙ্গে ছবি দেওয়া ক্রেইগ ম্যাকমিলানের। ক্রিকেটের পর গলফ ম্যাকমিলানের দ্বিতীয় পছন্দ। খুব ইচ্ছে টাইগার উডসের সঙ্গে এক বিকেল কাটানোর। কফির চুমুকে প্রাণবন্ত আড্ডা দেওয়ার। সেই সুযোগটি আপাতত হচ্ছে না। ম্যাকমিলানকে যে নিতে হবে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের দায়িত্ব।

ব্যাটিং পরামর্শক হিসেবে মুশফিক, মুমিনুল, তামিমদের দায়িত্ব পেয়েছেন প্রাক্তন কিউই ক্রিকেটার। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে বাড়তে পারে মেয়াদ। নবনিযুক্ত ব্যাটিং পরামর্শক মুখোমুখি হয়েছিলেন রাইজিংবিডির। নিজের পরিকল্পনা, কাজ করার মন্ত্র এবং ভবিষ্যত নিয়ে কথা বলেন ম্যাকমিলান। তার কথা শুনেছেন ইয়াসিন হাসান।

রাইজিংবিডি: বাংলাদেশ ক্রিকেটে যুক্ত হওয়ায় অভিনন্দন। ব্যাটিং পরামর্শক হিসেবে যোগদানের প্রস্তাব পাওয়ার পর প্রথম কী মাথায় এসেছিল?

ক্রেইগ ম্যাকমিলান: প্রস্তাবটা আকস্মিক এসেছিল। আমার দীর্ঘদিনের পরিচিত, বন্ধু রাসেল ডমিঙ্গো (বাংলাদেশের প্রধান কোচ) প্রস্তাবটা দিয়েছিল। আমি তার মেসেজ পেয়ে অবাক হই। আমি তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত জানাই নি। পরিবার সিদ্ধান্ত নিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। এর আগে এশিয়ার দলগুলোর সঙ্গে কাজ করা হয়নি। সেই সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম। বাংলাদেশ ক্রিকেট আমাকে সেই সুযোগটি দিয়েছে। মনে হচ্ছিল জীবনের এ পর্যায়ে একটা চ্যালেঞ্জ নেওয়া প্রয়োজন। সেই কাজটাই করেছি। আমি ছেলেদের সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় আছি।

রাইজিংবিডি: বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলার কোনো স্মৃতি মনে আছে?

ক্রেইগ ম্যাকমিলান: অনেক আগের কথা। বাংলাদেশে একাধিকবার গিয়েছি এতোটুকু মনে আছে। সেখানের ভাষা, আবহাওয়া, সংস্কৃতি ভিন্ন। তবে মানুষগুলো প্রচন্ড অতিথিপরায়ণ। এটা আমাকে মুগ্ধ করেছে। ক্রিকেটের প্রতি তাদের ভালোবাসাও দারুণ। আমরা যে স্টেডিয়ামে খেলেছি কানায় কানায় পূ্র্ণ ছিল। এখন এটা যেন অনেকটা ধর্মের মতো হয়ে উঠেছে। খেলার স্মৃতি সেভাবে মনে নেই। তবে তখন বাংলাদেশ উঠতি দল ছিল। প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে পারত। এখন বাংলাদেশ প্রতিযোগীতামূলক ক্রিকেট খেলে। ম্যাচ জেতে। সময়ের ব্যবধানে বাংলাদেশ এখন অন্যতম পরাশক্তি।

রাইজিংবিডি: শুধুমাত্র একটি সিরিজের জন্য দায়িত্ব পেয়েছেন। স্বল্প সময়ের জন্য কাজ করা কতোটুকু চ্যালেঞ্জিং?

ক্রেইগ ম্যাকমিলান: যে কোনো কাজই চ্যালেঞ্জিং। সেটা স্বল্প সময়ের জন্য হোক বা দীর্ঘ সময়ের জন্য। স্বল্প সময়ের জন্য কাজ করার মানেই যে কাজের সুযোগ কম থাকবে তেমনটা নয়। আমাদের শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সেখানে আমি পর্যাপ্ত সুযোগ পাচ্ছি। আমি ধরে নিতে পারি ১৫টি সেশন আমি ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে কাটাতে পারব। এটা পর্যাপ্ত। শেখার ও শেখানোর কোনো শেষ নেই। যেখানেই ছেলেরা আটকে যাবে, যেখানে ভুল করবে সেখান থেকে তাদের ফিরিয়ে আনতে হবে।

রাইজিংবিডি: আপনার মন্ত্র কী?

ক্রেইগ ম্যাকমিলান: বিশেষ কিছু নয় অবশ্যই। আমি আমার খেলোয়াড়ী জীবনে ২২ গজে ব্যাটিং উপভোগ করেছি। ছেলেদের একই মন্ত্র দেব, ২২ গজে তোমার ভুবন, যদি মনোযোগ ধরে রাখতে পারো তাহলে সেই দিনটি তোমার। যদি ব্যর্থ হও, আক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই। নতুন করে জাগতে হবে, লড়াই করতে হবে।

রাইজিংবিডি: বাংলাদেশ সাদা বলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে যেভাবে সাফল্য পেয়েছে লাল বলে সেভাবে মেলে ধরতে পারেনি। আপনার কি মনে হয় টেস্ট ক্রিকেটে সাফল্য পেতে কোথায় উন্নতি করতে হবে?

ক্রেইগ ম্যাকমিলান: দেখুন টেস্ট ক্রিকেটে সাফল্য পাওয়া অরাধ্য বিষয়। আপনি রাতারাতি লাল বলে সাফল্য পাবেন না। দৃঢ় মনোবল, প্রবল আগ্রহ, প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব আপনাকে সাফল্যের স্বাদ দেবে। বাংলাদেশ এখন মাঝারি মানের দল নয়। সাদা বলের ক্রিকেটে বাংলাদেশ কিন্তু প্রতিযোগিতামূলক দল। বড় দলগুলোকে চোখ রাঙানি দিয়ে হারাতে পারে। ২০১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ, নিউ জিল্যান্ড ম্যাচটার কথা যদি বলেন, যদি কিছু সিদ্ধান্ত এদিক-ওদিক হতো বাংলাদেশ সেই ম্যাচ জিতত। আমরা হয়তো ফাইনাল খেলতেও পারতাম না। সেজন্য মাঠে সিদ্ধান্তগুলো নিজেদের পক্ষে আনা জরুরী। লাল বলের ক্রিকেটে সিদ্ধান্তগুলো পক্ষে আনা জরুরী। সাম্প্রতিক সময়ে ভালো করছে। ভালোমানের খেলোয়াড় আছে যাদের দিয়ে বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেটেও অনেক দূর যেতে পারবে।

রাইজিংবিডি: আপনাকে শ্রীলঙ্কা সফরের জন্যই শুধুমাত্র নিয়োগ দিয়েছে বিসিবি। নিশ্চয়ই এখানে নজর কেড়ে সীমিত পরিসরেও কাজ করতে চাইবেন?

ক্রেইগ ম্যাকমিলান: ঠিক এই মুহূর্তে আমি এক্ষেত্রে দৃষ্টি দিচ্ছি না। বর্তমানে আমার দৃষ্টি হচ্ছে আসন্ন সফর, খেলোয়াড়দের সঙ্গে সম্পর্ক এবং তাদের উন্নয়নের দিকে। ভবিষ্যতে যদি সবকিছু ঠিক মনে হয় তবে আমি অবশ্যই এটি বিবেচনা করবো।

ঢাকা/ইয়াসিন

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়