ঢাকা     শনিবার   ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৪ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

পুরো রাত ওয়ার্ন আমার মাথায় ছিলেন: রশিদ খান 

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৫৬, ৫ মার্চ ২০২২  
পুরো রাত ওয়ার্ন আমার মাথায় ছিলেন: রশিদ খান 

খানিকটা জোরে বল করতেন বলে শহীদ আফ্রিদি ছিলেন রশিদ খানের আইডল। অনিল কুম্বলেকেও একই কারণে অনুসরণ করতেন। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে রশিদ খানের মনের কোণে জায়গা করে নিয়েছেন কিংবদন্তি শেন ওয়ার্ন।

ক্রিকেটার হয়ে তার সঙ্গে দেখা করা, এক সঙ্গে খেলা, সময় কাটানো, লেগ স্পিন নিয়ে কথা বলা…কতো কতো স্মৃতি রশিদ খানের। কিন্তু সব ফিকে হয়ে গেল ওয়ার্নের আচমকা প্রস্থানে। বাংলাদেশে বসে সেই খবর শুনে শোকে কাতর আফগানিস্তানের এই লেগ স্পিনার।

আরো পড়ুন:

মিরপুরে আজ দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির পর প্রোডাকশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রশিদ খান ওয়ার্নকে নিয়ে কথার ঝাঁপি খুলে দেন। রাইজিংবিডির পাঠকদের জন্য হুবুহু তা দেওয়া হল—

‘নিশ্চিতভাবে এটা এমন এক সত্য যা মেনে নেওয়া কঠিন। শুধু আমি না গোটা ক্রিকেট বিশ্ব স্তব্ধ। খুব দ্রুত তিনি পৃথিবীর মায়া ছেড়ে দিলেন। ক্রিকেটার হিসেবে মানতে খুব কষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে আপনি যদি লেগ স্পিনার হয়ে থাকেন শেন ওয়ার্ন অবশ্যই আপনার জন্য অনুপ্রেরণার। শব্দ দিয়ে আমি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে পারবো না। তার পরিবার, বন্ধবান্ধবদের জন্য সমবেদনা। এই শোক বহন করার শক্তি দান করুক।’

‘এটা প্রমাণ করে যে, জীবন কতোটা অনিশ্চিত। আপনি কখনোই জানবেন না কখন আপনার সময় চলে আসবে। আপনার সময় আসলে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করতে হবে। আমি মনে করি, নিজেদের প্রত্যেকের আজকের অবস্থানের জন্য আমাদের খুশি থাকা উচিত। নিশ্চিতভাবেই এটা ক্রিকেটের ক্ষতি। ক্রিকেটারদের জন্যও এটা বিরাট ক্ষতি।’

‘আমার জন্য বিশাল সম্মানের বিষয় যে, এমসিজিতে আমি তার সঙ্গে বোলিং করেছি। আমরা সেদিন লেগ স্পিন নিয়ে কথা বলেছি। আমি লম্বা ফরম্যাটে কিভাবে বল করবো তা নিয়ে ওয়ার্নের সঙ্গে কথা বলার জন্য উদগ্রিব ছিলাম। উনি সবসময়ই আমাকে সাহায্য করার জন্য রাজি ছিলেন। যখনই বিগ ব্যাশে খেলতে যেতাম তার সঙ্গে কথা বলেছি। এ বছরও আমি লম্বা ফরম্যাটে বোলিংয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে তার সঙ্গে আলোচনা করেছি।’

‘তার প্রস্থান সত্যিই অবিশ্বাস্য। আমার এখনও ওই স্মৃতিগুলো মনে পড়ে। যখনই তার চলে যাওয়ার খবরটা শুনলাম আমার স্মৃতিতে এমসিজি চলে এসেছিল। কতটা ভালো এবং বন্ধুসুলভভাবে তিনি আমাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন! তার ক্রিকেটীয় অভিজ্ঞতা আমার সঙ্গে ভাগাভাগি করেছিলেন। তার মৃত্যু ক্রিকেটের জন্য বিশাল ক্ষতি।’

‘আজ ম্যাচের জন্য তৈরি হওয়াটা খুব কঠিন ছিল। আমি বুঝছিলাম না কিভাবে নিজের খেলাটা খেলবো। পুরো রাত ওয়ার্ন আমার মাথায় ছিলেন। এমনকি আমি সকালে উঠেও বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। কয়েকবার ফোন চেক করেছি যে কাল সত্যিই কি এমন কিছু হয়েছিল!

কিন্তু এটাই জীবন। আপনি কখনই জানবেন না আপনার সময় কখন শেষ হবে। কিন্তু মেনে নিতেই হবে। তবে ওয়ার্নের চলে যাওয়াটা খুব দ্রুত…উনার থেকে আরও অনেক শেখার ছিল। তরুণদের বিশেষ করে আমার।’

অনুলিখন: ইয়াসিন হাসান

ইয়াসিন/আমিনুল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়