ঢাকা     সোমবার   ০৪ জুলাই ২০২২ ||  আষাঢ় ২০ ১৪২৯ ||  ০৪ জিলহজ ১৪৪৩

তামিম-জয়ের পর মুশফিক-লিটনে দারুণ দিন  

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:০৮, ১৭ মে ২০২২   আপডেট: ১৮:১৪, ১৭ মে ২০২২
তামিম-জয়ের পর মুশফিক-লিটনে দারুণ দিন  

ব্যাট হাতে বাংলাদেশ দারুণ একটি দিন কাটিয়েছে। ছবি: রেজাউল করিম।

তৃতীয় দিন শেষে-

সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ- প্রথম ইনিংসে  ৩১৮/৩ (১০৭ ওভার); শ্রীলঙ্কা- প্রথম ইনিংসে ৩৯৭

সাগরিকার পাড়ে ব্যাট হাতে বাংলাদেশ একটি দারুণ দিন কাটিয়েছে। তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৩১৮। এখনো পিছিয়ে আছে ৭৯ রানে। হাফ সেঞ্চুরি করে দিন শেষে অপরাজিত আছেন মুশফিক-লিটন। ১৩৪ বলে মুশফিক ৫৩ ও লিটন ১১৩ বলে ৫৪ রান করেন। দুজনের জুটি থেকে আসে ২১১ বলে ৯৮ রান। লিটন ক্রিজে নামেন তামিম ইকবাল রিটায়ার্ড হার্ট হলে। তামিম ২১৭ বলে ১৩৩ রান করেন। ৭৬ রানে বাংলাদেশ দিন শুরু করে। তামিম সেঞ্চুরি করলেও জয় ফেরেন ৫৮ রান করে। ব্যর্থ ছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক। শান্ত ১ ও মুমিনুল ২ রান করেন। শ্রীলঙ্কার হয়ে সর্বোচ্চ ২ উইকেট নেন কাসুন রাজিথা। তিনি বিশ্ব ফার্নান্দোর কনকাশন সাব হয়ে নেমেছিলেন। 

বাংলাদেশের ৩০০, মুশফিক-লিটনের ফিফটি

এম্বুলদেনিয়ার বলে সিঙ্গেল নিয়ে দলীয় স্কোর ৩০০ পূর্ণ করেন মুশফিক। ১০১ ওভারে এই রান করে বাংলাদেশ। এর এক ওভার পরেই এম্বুলদেনিয়াকে মিডউইকেটে দারুণ চারে ৯৭ বলে ফিফটির দেখা পান লিটন দাস। এটি লিটনের ১২তম ফিফটি। তিনি দুর্দান্ত ফর্ম কাটাচ্ছেন। লিটনের ফিফটির পর মুশফিকও দেরি করেননি। স্ট্রাইক পেয়েই কাসুন রাজিথাকে অনসাইডে খেলে ক্যারিয়ারের ২৬তম ফিফটি তুলে নেন মুশফিক। ১২১ বলে মাত্র ২টি চারে ফিফটির দেখা পান এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। সম্প্রতি মুশফিক ভুগছিলেন ফর্মহীনতায়। এই রান তাকে দিতে পারে বাড়তি অনুপ্রেরণা। দুজনের চতুর্থ উইকেটের জুটিতে বাংলাদেশ এগোচ্ছে দারুণভাবে।  

বাংলাদেশের আড়াইশর পর মুশফিক-লিটন জুটির ফিফটি

লিটনের ব্যাট ছুঁয়ে বাংলাদেশের রান আড়াইশ পূর্ণ হয়েছিল। এবার মুশফিক-লিটন জুটির ফিফটি হয়েছে। মেন্ডিসকে এক্সট্রা কাভারে দারুণ চারে জুটির পঞ্চাশ করেন লিটন। সুযোগ পেলেই দৃষ্টিনন্দন সব শটে বাউন্ডারি হাঁকাচ্ছেন লিটন। চতুর্থ উইকেটে ১০৮ বলে ৫০ রান যোগ করেন মুশফিক-লিটন। দুজনের আজ দিন শেষ করে আসতে পারলে বাংলাদেশের মুঠোয় থাকবে চট্টগ্রাম টেস্ট। মুশফিক ৩৮ ও লিটন ৩৬ রানে ব্যাট করছেন। 

মুশফিক-লিটনে বাংলাদেশের আড়াইশ

লাঞ্চের পর ব্যাটিংয়ে নামেননি সেঞ্চুরিয়ান তামিম ইকবাল। রিটায়ার্ড হার্ট হন তিনি। ক্রিজে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গী হন লিটন দাস। দুজনের দারুণ জুটি গড়ে এগিয়ে নিচ্ছেন দলকে। ৮৬তম ওভারের শেষ বলে এম্বুলদেনিয়াকে কাভারে কাভারে খেলে ২ রান নিয়ে দলিয় স্কোর আড়াইশর ঘরে নিয়ে যান লিটন। দুজনের জুটি থেকে এখন পর্যন্ত আসে ৮৪ বলে ২৭ রান। মুশফিক ২৮ ও লিটন ১৬ রানে ব্যাট করছেন। 

তামিম রিটায়ার্ড হার্ট 

৫ হাজার রান থেকে খুব বেশি দূরে ছিলেন না তামিম ইকবাল। ১৩৩ রানে অপরাজিত থেকে দ্বিতীয় সেশন শেষ করেছিলেন। কিন্তু চা বিরতির পর আ মাঠে নামেননি, রিটায়ার্ড হার্ট হয়েছেন। বেশ কয়েকবার ক্র্যাম্পে ভুগতে দেখা যায় বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে। তার পরিবর্তে মাঠে নামেন লিটন দাস। সঙ্গে মুশফিকুর রহিম ক্রিজে।

তামিমের দাপটে শেষ হলো দ্বিতীয় সেশন

মাহমুদুল হাসান জয়ের সঙ্গে ১৫৭ রানের অপরাজিত জুটিতে চট্টগ্রাম টেস্টের তৃতীয় দিনের প্রথম সেশন শেষ করেন তামিম ইকবাল। লাঞ্চের পর হঠাৎ করেই পথহারা বাংলাদেশ। ১৬২ থেকে ১৮৪ রানে উইকেট পড়ে যায় তিনটি। জয় ৫৮ রানে বিদায় নেন। তারপর কাসুন রাজিথার বলে নাজমুল হোসেন শান্ত (১) ও অধিনায়ক মুমিনুল হক (২) মাঠ ছাড়েন। সমালোচিত মুশফিকুর রহিম সেই ধাক্কা সামাল দেন দাপট দেখানো তামিমের সঙ্গে। দুজনের ৩৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে চা বিরতিতে গেছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় সেশনে দ্রুত তিন উইকেট পড়লেও স্বাগতিকরা ব্যাটিংয়ে ছড়ি ঘোরাচ্ছে তামিমের সেঞ্চুরিতে রাঙানো ইনিংসে। ২১৭ বলে ১৩৩ রানে অপরাজিত বাঁহাতি ব্যাটসম্যান, মুশফিক খেলছেন ১৪ রানে। বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ২২০ রান।

তামিম-মুশফিকে বাংলাদেশের দুইশ

রমেশ মেন্ডিসের লেগ সাইডের শট বলে স্কয়ার লেগে পুল করে ১ রান নেন মুশফিকুর রহিম। তার রানের খাতা খোলার সঙ্গে বাংলাদেশের স্কোর ২০০ এর ঘরে যায়। ৬৫.১ ওভারে তিন উইকেটে দুইশ করে স্বাগতিক দল। তামিম ইকবাল ১৩৩ ও মুশফিক ১৪ রানে ক্রিজে আছেন। এরই মধ্যে তামিম তার ক্যারিয়ারে পঞ্চমবার দুইশ বল খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করলেন। 

সেই রাজিথার বলে ২ রানে বোল্ড মুমিনুল

সেই কাসুন রাজিথার বলে ২ রানে বোল্ড মুমিনুল হক। বিশ্ব ফার্নান্দোর কনকাশন সাব হিসেবে নামা রাজিথা এর আগে ফিরিয়েছিলেন নাজমুল হোসেন শান্তকে। এবার তার শিকার খোদ অধিনায়ক মুমিনুল। রাজিথার অফের লেন্থ বল ডিফেন্স করতে চেয়েছিলেন মুমিনুল। কিন্তু বল মুভ করে ব্যাট ফাঁকি দিয়ে ভেঙে দেয় উইকেট। ১৯ বলে ২ রান করেন তিনি। সময়টা খারাপ যাচ্ছে মুমিনুলের। সবশেষে ৩ টেস্টের ৬ ইনিংসে একবার মাত্র দুই অঙ্কের ঘর পার হয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় দুই টেস্টে ১৩ রানের পর এবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও শুরুটা হল খারাপ। 

সেঞ্চুরির পর রিভিউতে তামিমের রক্ষা, ব্যর্থ শান্ত

১০৩ রানে রিভিউতে রক্ষা পেয়েছেন তামিম। আউটসাইড অফের বল ডিফেন্স করতে চেয়েছিলেন তামিম। ব্যাটে লাগেনি। শ্রীলঙ্কা কট বিহাইন্ডের আবেদন করলে আম্পায়ার সাড়া দেন। সঙ্গে সঙ্গে রিভিউ নেন তামিম। এতেই বেঁচে যান দেশসেরা ওপেনার।

বদলি নামা রাজিথার প্রথম ওভারেই আউট শান্ত 

বিশ্ব ফার্নান্দোর বদলি হিসেবে নামা কাসুন রাজিথা প্রথম ওভারেই উইকেট তুলে নিলেন। নতুন ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্তকে ফেরালেন মাত্র ১ রানে। আউটসাইড অফের বলে শান্তর ব্যাট ছুঁয়ে উইকেটরক্ষক ডিকবেলার গ্লাভসে যায়। ২২ বলে ১ রান করেন শান্ত। 

ঘরের মাঠে তামিমের দারুণ সেঞ্চুরি

আসিথা ফার্নান্দোকে স্কয়ার লেগে পুল করে বাউন্ডারির বাইরে পাঠান তামিম ইকবাল। এক লাফে পৌঁছে যান ৯৫ থেকে ৯৯ রানে। নার্ভাস নাইন্টি নাইনে গিয়ে আর নার্ভাসনেস দেখাননি এই বাঁহাতি ওপেনার। কোনো সময়ও নেননি। পরের বলেই স্কয়ার লেগে খেলে সিঙ্গেল নিয়ে স্পর্শ করেন তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার। আকাশের দিকে তাকিয়ে ব্যাট উঁচু করে করেছেন উদযাপন। নিজের বাড়ির মাঠ, ঘরের মাঠ বলে কথা। । ১৬২ বলে ১২টি চারের মারে শতরান পূর্ণ করেন এই বাঁহাতি ওপেনার। এটি তার ক্যারিয়ারের দশম শতক। তার উপরে আছেন একমাত্র মুমিনুল হক, তার সেঞ্চুরি ১১টি। এর আগে দিনের শুরুতেই আগ্রাসী ভঙ্গিমায় খেলে ৭৩ বলে তুলে নিয়েছিলেন ফিফটি। কোনো সুযোগ না দিয়েই দারুণ ইনিংস খেলে তুলে নেন সেঞ্চুরি। গতবছর শ্রীলঙ্কার মাটিতে তামিম দুবার নব্বইয়ের ঘরে আউট হয়েছিলেন (৯০, ৯২)। এবার ভাগ্যদেবী আর মুখ ফিরিয়ে নেননি। 

সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেন না জয়

হাফ সেঞ্চুরির পরই জীবন পেয়েছিলেন মাহমুদুল হাসান জয়। সহজ ক্যাচ ছেড়েছিলেন এম্বুলদেনিয়া। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেন না। ৫১ রানে জীবন পেয়েছিলেন, আউট হন ৫৮ রানে। আসিথা ফার্নান্দোর আউটসাইড লেগের বল জয়ের ব্যাট ছুঁয়ে যায় উইকেটের পেছনে। ১৪২ বলে ৯ চারে ৫৮ রান করেন জয়। এটি তার দ্বিতীয় ফিফটি, দেশের মাটিতে প্রথম। তার আউটে ভাঙে ১৬২ রানের ওপেনিং জুটি। এটি ওপেনিংয়ে বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্ছ জুটি। প্রায় ৫ বছর পর বাংলাদেশ ওপেনিংয়ে শতরানের জুটি দেখে। যা দেড়শ পেরিয়ে তৃতীয় স্থান দখল করে। 

তামিম-জয়ে বাংলাদেশের দুর্দান্ত সেশন

তৃতীয় দিন প্রথম সেশন দুর্দান্ত কাটিয়েছে বাংলাদেশ। ৭৬ রানে দিন শুরু করে বাংলাদেশ করেছে ১৫৭ রান। কোনো উইকেট না হারিয়েই যোগ হয়েছে আরও ৮১ রান। হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন তামিম ইকবাল ও মাহমুদুল হাসান জয়। তামিমের এটি ৩২তম ফিফটি আর জয়ের দ্বিতীয়। তামিম ৮৯ ও জয় ৫৮ রানে অপরাজিত আছেন।এ ছাড়াও ৫ বছর পর বাংলাদেশ টেস্টে ওপেনিংয়ে শতরানের জুটি পার হয়। এখন পর্যন্ত এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ জুটি। এদিকে শ্রীলঙ্কার বিশ্ব ফার্নান্দো ছিটকে গেছেন। তার বদলি হিসেবে নেমেছেন কাসুন রাজিথা। বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে আছে ২৪০ রানে।  

মুশফিককে ছাড়িয়ে তামিম 

৪৮৪৮ রানে চট্টগ্রাম টেস্ট শুরু করেন তামিম। প্রথম ইনিংসে আজ ৮৫ রান করতেই মুশফিককে পেছনে ফেলেন বাঁহাতি ওপেনার।  তিনি এখন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ টেস্ট রান সংগ্রাহক। তামিম এখন অপরাজিত আছেন ৮৯ রানে। ৬৬ ম্যাচে তামিমের রান  ৪৯৩৭। অন্যদিকে মুশফিকের সংগ্রহ ৮১ ম্যাচে ৪৯৩২ রান। 

দেশের মাটিতে জয়ের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি

আসিথা ফার্নান্দোকে অন সাইডে ক্লিপ করেন জয়। সহজেই দুই রান নিয়ে ৪৯ থেকে ৫১ রানে যান মাহমুদুল হাসান জয়। তাতে পেয়ে যান ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি, যা দেশের মাটিতে প্রথম। ১১০ বলে ৮টি চারের মারে ফিফটি করেন এই তরুণ ব্যাটসম্যান। গতকাল থেকেই দারুণ ব্যাটিং করছেন জয়। তামিমকে সঙ্গে দিচ্ছেন এক প্রান্ত থেকে। খেলছেন দেখেশুনে। জয়ের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি ছিল নিউ জিল্যান্ডের মাটিতে। এরপর সেঞ্চুরি পান দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে। ৫ টেস্টের ক্যারিয়ারে জয়ের দুটি হাফ সেঞ্চুরি ও একটি সেঞ্চুরি। 

ছিটকে গেলেন বিশ্ব 

দ্বিতীয় দিন ব্যাটিংয়ের সময় শরিফুলের বলে হেলমেটে আঘাত লাগে বিশ্ব ফার্নান্দোর। তখন রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে উঠে গিয়েছিলেন। পরে আবার ব্যাটিংয়ে নামেন। আজ তৃতীয় দিন আবার মাঠে নামলেও ৪১তম ওভারে মাঠ ছাড়েন। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে মেডিকেল চেক আপের জন্য। তার কনকাশন সাব হিসেবে নেমেছেন কাসুন রাজিথা। 

হাফ সেঞ্চুরির পর জয়ের জীবন 

হাফ সেঞ্চুরির পর আসিথাকে পুল শট করেন মাহমুদুল হাসান জয়। কিন্তু ফাইন লেগে তালুবন্দি করতে পারেননি এম্বুলদেনিয়া। উলটো চার হয়ে যায়। চলতি ইনিংসে জয়ের এটিই পুল শট ছিল। ভাগ্যগুণে বেঁচে গেছেন। 

বাংলাদেশের সেঞ্চুরি 

বিশ্ব ফার্নান্দোকে পয়েন্টে ঠেলে সিঙ্গেল নেন তামিম। বাংলাদেশ পৌঁছে যায় তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে। বিনা উইকেটে ২৪.৩ ওভারে দলীয় ১০০ পূর্ণ হয়। ৬১ ইনিংস পর শত রানের উদ্বোধনী জুটির দেখা পেল বাংলাদেশ। সবশেষ ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার গলে তমিম ও সৌম্য সরকার ১১৮ রান করেছিলেন। এরপর শুধুই হাহাকার আর হাহাকার।

তামিমের ৩২তম ফিফটি 

দিনের পঞ্চম ওভাইরে রমেশ মেন্ডিসকে কাট করে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে হাফ সেঞ্চুরির দেখা পান তামিম। ৭৩ বলে আসে ৩২তম হাফ সেঞ্চুরি। ৩৫ রানে অপরাজিত থেকে দিন শুরু করেছিলেন তামিম ইকবাল। শুরুটাও হয়েছিল দারুণ। দ্বিতীয় ওভারেই বিশ্ব ফার্নান্দোকে টানা দুই চার হাঁকান। নিজের ঘরের মাঠে তামিমকে দেখা যাচ্ছে বেশ সাবলীল। ব্যাটিং করছেন আগ্রাসীভাবে। সুযোগ পেলেই মারছেন বাউন্ডারি। 

লিড নেওয়ার আশায় মাঠে বাংলাদেশ 

চট্টগ্রামের টেস্টের তৃতীয় দিন (মঙ্গলবার) মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা। প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কার দেওয়ার ৩৯৭ রানের জবাবে ব্যাট করছে স্বাগতিক দল। দ্বিতীয় দিন বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ৭৬ রান। পিছিয়ে আছে ৩২১ রানে। তামিম ৩৯ ও জয় ৩১ রানে তৃতীয় দিন মাঠে নামেন। শ্রীলঙ্কার লিড পেরোতে হলে তামিম-জয়ের লম্বা ইনিংসের কোনো বিকল্প নেই।  

লম্বা সময় ব্যাটিং করাই লক্ষ্য 

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সেরা বোলার নাঈম হাসানের মতে এখন তৃতীয় দিন লম্বা সময় ব্যাটিং করতে হবে। 'এখন তামিম ভাই আর জয় খুব ভালো ব্যাটিং করতেছে। এখানে যত লম্বা ব্যাটিং করা যায়, আমাদের জন্য তত ভালো। যদি আমরা লিডটা পাই, তখন চেষ্টা করা যত দ্রুত অলআউট করতে পারি।'  

দ্বিতীয় দিন শেষে ৩২১ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ

তামিম ইকবাল ও মাহমুদুল হাসান জয়ের দারুণ ব্যাটিংয়ে কোনো বিপদ ছাড়াই দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। দিন শেষে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৯ ওভারে বিনা উইকেটে ৭৬ রান। তামিম ৫২ বলে ৩৯ ও জয় ৬৬ বলে ৩১ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন। বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে আছে ৩২১ রানে। এর আগে শ্রীলঙ্কা প্রথম ইনিংসে ৩৯৭ রানে অলআউট হয়। একা লড়াই করে দলকে চারশ রানের কাছে নিয়ে গেছেন ম্যাথুজ। নিজেও গেছেন ডাবল সেঞ্চুরির একেবারে কাছে। কিন্তু ভাগ্যবিধাতা সহায় হলো না। নাঈমের ঘূর্ণিতে পরাস্ত হলেন ১৯৯ রানে! অন সাইডে স্লগ করতে গিয়ে ধরা পড়েন সাকিবের হাতে। ৩৯৭ বলে ১৯ চার ও ১ ছয়ে এই রান করেন ম্যাথুজ। টেস্ট ক্রিকেটে এটি তার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইনিংস। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি। এ ছাড়া ফিফটি করেন কুশল মেন্ডিস (৫৪) দিনেশ চান্দিমাল (৬৬)। নাঈম ১০৫ রান দিয়ে নিলেন ৬ উইকেট। এটি তার সেরা বোলিং ফিগার। এ ছাড়া ৩ উইকেট নেন সাকিব আর ১ উইকেট নেন তাইজুল। ১০টি উইকেটই নেন স্পিনাররা।

ঢাকা/রিয়াদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়