ঢাকা     শুক্রবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ১৮ ১৪২৯ ||  ০৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪১৪

মায়ের মতো আম্পায়ার নয়, হতে চাই ট্রেনার নয়তো ধারাভাষ্যকার: কাইনাত

সাইফুল ইসলাম রিয়াদ, সিলেট থেকে || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:৪৯, ৫ অক্টোবর ২০২২   আপডেট: ১৫:৫৮, ৫ অক্টোবর ২০২২
মায়ের মতো আম্পায়ার নয়, হতে চাই ট্রেনার নয়তো ধারাভাষ্যকার: কাইনাত

পাকিস্তানের ক্রিকেটার কাইনাত ইমতিয়াজ, এশিয়া কাপে খেলতে এখন সিলেটে। সঙ্গে মা সালিমা ইমতিয়াজ এসেছেন। মেয়ের সঙ্গে ঘুরতে নয়, আম্পায়ার হিসেবে। দুজনই নারী এশিয়া কাপে প্রতিনিধিত্ব করছেন পাকিস্তানকে। কাইনাতের বাবা-মা ছিলেন ক্রীড়া শিক্ষক। সালিমা ক্রিকেটার হতে পারেননি পরিবারকে সময় দিতে গিয়ে, তবে মেয়েকে বানিয়েছেন ক্রিকেটার। 

মায়ের জন্য কাইনাতের গর্বের শেষ নেই। ত্রিশ বছর বয়সী এই পেসার কখনও ক্রিকেটের সঙ্গ ছাড়তে চান না। তবে মায়ের মতো আম্পায়ারও হতে চান না। তার চাওয়া ট্রেনার কিংবা ধারাভাষ্যকার হওয়া। অনুশীলনের এক ফাঁকে রাইজিংবিডিকে গর্বিত অধ্যায়ের গল্প শুনিয়েছেন কায়নাত-

এখানে এশিয়া কাপ কেমন উপভোগ করছেন? 

কাইনাত ইমতিয়াজ: হ্যাঁ, অনেক ভালো সময় কাটাচ্ছি। মুহূর্তগুলো দারুণভাবে উপভোগ করছি। এখানকার পরিবেশ ভালোবেসে ফেলেছি। এখানে এশিয়ার সবগুলো দলই আছে একসঙ্গে। এই প্রতিযোগিতায় কর্তৃত্ব দেখানো যায় এশিয়া দেশ হিসেবে। আমাদের সবার জন্যই এটি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা মুখিয়ে আছি সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য। 

আপনি একজন পেসার। কিন্তু সিলেটের উইকেট স্পিন সহায়ক। এটি পীড়া দেয় কি?

কাইনাত ইমতিয়াজ: আসলে ঠিক তেমন কিছু না। যদি স্পিন ট্র্যাকও হয়, বল যদি ভালো লেন্থে করা হয়, ভালো জায়গায় ফেলা যায় তাহলে উইকেট পাওয়া যাবে। এটা নিচু উইকেট, বল নিচু হয়ে আসে। এমন উইকেটও শুরুতে পেসারদেরও দ্রুত উইকেট তোলার জন্য সাহায্য করে। 

পাকিস্তানকে বলা হয় পেসারদের স্বর্গ। আপনিও পেসার। কাকে দেখে অনুপ্রেরণা খুঁজে পান? 

কাইনাত ইমতিয়াজ: শোয়েব আখতার ও ব্রেট লি আমার সর্বকালের আদর্শ। তবে দিনে দিনে অনেক পরিবর্তন আসে। অনেক পেসার আসছে। বর্তমান সময়ের শাহীন শাহ আফ্রিদি ও হারিস রউফ। তারা ভিন্ন ধাঁচের বোলিং করে থাকেন। আমি তাদের অনুসরণ করি। 

আপনার মা আম্পায়ার। আপনি ক্রিকেটার হিসেবে এখানে, আর আপনার মা আম্পায়ার হিসেবে। অনুভূতিটা কেমন?

কাইনাত ইমতিয়াজ: আমি অনেক গর্বিত আমার মায়ের জন্য। এটি আমাদের জন্য অনেক সম্মানের। পরিবারের দুজন নারী সদস্য পাকিস্তানকে প্রতিনিধিত্ব করছি ভাবতেই দারুণ লাগে। আমার মা এই মুহূর্তের জন্য অনেক সময় অপেক্ষা করেছে। শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা ফুরিয়েছে এবারের এশিয়া কাপে। আমি আবারও বলবো আমরা অনেক গর্বিত। 

মা-মেয়ে দুজনই ক্রিকেটে সঙ্গে। শুরুটা কীভাবে? 

কাইনাত ইমতিয়াজ: আমার বাবা-মা দুজনই ছিলেন ক্রীড়া শিক্ষক। তাদের পুরো সময়টা কেটেছে সেখানেই। আমার মা চাইতেন ক্রিকেটার হতে। কিন্তু বিয়ের পর অন্য অনেক কাজের জন্য ক্রিকেটার হতে পারেননি। আমার জন্মের পর বাবা-মা দুজনে সিদ্ধান্ত নেন আমাকে ক্রিকেটার বানাবেন। এখন আমি ক্রিকেটার হলাম, পাকিস্তানকে প্রতিনিধিত্ব করছি। এরপর আমার বাবা মাকে সমর্থন দিয়ে গেছেন আম্পায়ারিংয়ের জন্য, কারণ এটা সরাসরি মাঠের সঙ্গে যুক্ত কাজ। আমার মার স্বপ্ন ছিল ক্রিকেটার হওয়ার, আম্পায়ারিংয়ের মাধ্যমে কিছুটা হলেও তা পূরণ হবে। 

সম্পূর্ণ ক্রিকেট পরিবার। আপনাদের পরিবার থেকে আর কেউ ক্রিকেট খেলে পুরুষ কিংবা নারী দলে? 

কাইনাত ইমতিয়াজ: না। আমরা দুজনই ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িত। শুধু আমি আর আমার মা। 

আপনার বয়স এখন ত্রিশের ঘরে। কোথায় থামতে চান? 

কাইনাত ইমতিয়াজ: এখনও ভাবিনি। আমি ক্রিকেটের সঙ্গ ছাড়তে চাই না। তবে আমি সামনের বিশ্বকাপ পর্যন্ত পাকিস্তানের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে চাই। 

আপনি কি মায়ের মতো আম্পায়ার হতে চান অবসরের পর? 

কাইনাত ইমতিয়াজ: আমি ক্রিকেটের সঙ্গে থাকতে চাই। তবে আম্পায়ার কিংবা কোচ- এসব কিছু হতে চাই না। আমি ভিন্ন কিছু করতে চাই (হাসি)। আমি নারীদের ফিটনেস ট্রেনার হতে চাই অথবা আমারও আরও একটি পছন্দ আছে- আমি ক্রিকেটের ধারাভাষ্যকার-উপস্থাপক হতে চাই। 

প্রথমেই জিজ্ঞেস করবো ফিটনেস নিয়ে কাজ করার কেন এত আগ্রহ? 

কাইনাত ইমতিয়াজ: আমার দিকে তাকান। ফিটনেস দেখে বুঝতে পারবেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে ফিটনেস নিয়ে অনেক আগ্রহী। তাই এটা নিয়েই কাজ করতে চাই। 

ফিটনেস নিয়ে আগ্রহী বুঝলাম কিন্তু ধারাভাষ্যকার-উপস্থাপক কেন? আগে কখনও এসব করেছেন? 

কাইনাত ইমতিয়াজ: আমি আসলে ক্যামেরার সামনে কাজ করতে পছন্দ করি। যদিও আমার আগের কোনও অভিজ্ঞতা নেই। আমি টিভির সামনে থেকে খেলার সব দেখাতে চাই, উপস্থাপন করতে চাই। ধারাভাষ্য দিতে চাই বিশ্বের বিভিন্ন লিগে। এই তো।  

এখানে কোথাও ঘুরতে গিয়েছেন? কোন খাবার ভালো লেগেছে? 

কাইনাত ইমতিয়াজ: আমি এখনও পাকিস্তানি খাবারই খাচ্ছি (হাসি)। তবে আমাদের ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে। হয়তো সেখানে গেলে এখানকার স্থানীয় খাবার খেয়ে দেখবো। 

সিলেট/ফাহিম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়